ঘরে বসেই যখন প্রফেশনাল ক্লিনিং সার্ভিস !

0
.

“চারদিন ধরে ছুটা খালা আসেনা কাজ করতে, বাসার কি যে অবস্থা! ফ্লোরে পা রাখা যায় না ধুলোবালির যন্ত্রণায়! তার উপর রাতে আসবে মেহমান! কি যে করি! রান্না বসাবো, না ঘর পরিষ্কার করবো!”

খুব পরিচিত ডায়ালগ, তাই না? এখন ঢাকা শহরে চাকরিজীবির সংখ্যা প্রচুর। আর যারা চাকরী করেন ও না, তাদের ও সংসার, বাজার, রান্নাবান্না, বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেয়া করা এইসব করতে করতেই দেখা যায় দিনের একটা বড় সময় পার হয়ে যায়। কাজেই, ভরসা একটাই–গৃহকর্মী বা হাউসমেইড। সাধারণ ভাষায় আমরা বলি বাঁধা লোক, অথবা ছুটা লোক। কিন্তু আজকাল মেইড পাওয়া এবং মেইডকে দিয়ে সব কাজ করানো ও কিন্তু বেশ দুরূহ ব্যাপার। দেখা যায়, অন্য সব কাজ করতে চাইলেও যেই বলা হয় আজকে জানালাটা মুছেন, ঐ শুরু হয় টালবাহানা। আবার বাথরুম ধুতে বললেও একই অবস্থা!

আমার নিজের কথাই বলি, আমি চাকরিজীবি। সপ্তাহে ৬ দিন অফিস করি। একটা ছোট্ট সাড়ে ৩ বছরের ছেলে আছে। কাজেই বুঝতেই পারছেন, আমার বাসা পরিষ্কার থাকাটা কত জরুরী। সেই সাথে আমার নাই সময়। সপ্তাহে একটা দিন ডে অফ থাকে, সেদিন ছেলেটাকে সময় দেয়া, একটু রান্নাবান্না করা, টুকটাক বাইরে ঘুরতে যাওয়া, এতেই চলে যায়। মনটা আর চায় না বাসা পরিষ্কারের কাজে নামি। মাসখানেক আগেও আমার ছেলেটা জানালার থাই গ্লাস লিটারেলি চেটেছে, যেটা ভয়াবহ লেভেলে ধুলোবালিতে ভর্তি ছিল! ছুটা খালাটাকে বললাম, একটু মুছেন না, উনি যেই স্পিডে ঠুশঠাশ ন্যাকড়া দিয়ে মুছে চলে গেলেন, ধুলো তো গেলোই না, উল্টো দেখলাম ধুলোতে পানি পড়ে জায়গাটা পুরো কাদা-কাদা হয়ে গিয়েছে! আর মাসে ২০ দিন মেইড আসে, বাকিদিন তো দেখা যায় উনি কোন না কোন অজুহাতে আসেন না। আমার ছুটা খালা পরপর দুইদিন আসলেন না, আমি কল দিলাম, ফোন বন্ধ পেলাম, পরদিন উনি এক অন্য নাম্বার থেকে কল দিয়ে বললেন উনার স্বামীর পা ভেঙেছে, উনি গ্রামে গিয়েছেন, আসতে আরো ৪/৫ দিন সময় লাগবে। দারোয়ানকে বললাম একটা ছুটা খালা ঠিক করে দেন এক সপ্তাহের জন্য, দারোয়ান দু’দিন পর বললো, “ম্যাডাম ৭ দিনের জন্য কেউ কাজ করতে রাজি হয় না।”

অন্যদিকে আমার স্কুল ফ্রেন্ডদের সাথে ফেইসবুক গ্রুপে কথা হয়েছে, নেক্সট শুক্রবার আমার বাসায় ডিনার করতে আসবে সবাই। আমার তো আর মাথা কাজ করে না! করবো টা কি! রান্নাবান্না তো এক-দুই দিন আগে করে রাখলাম আস্তে আস্তে, পরে ফ্রিজে তুলে রাখলাম, গেস্ট আসার দিন বের করে ওভেনে গরম করে দিবো। কিন্তু বাসা যে ময়লা! বিশেষ করে বাথরুমগুলোর দিকে তো তাকানোর কায়দা নেই! রাতে অফিস থেকে ফিরে বড় বোনের বাসা থেকে ছেলেকে পিক করে আনার সময় হাঁটছি আর টেনশনে কিছুই ভালো লাগছে না।

পরদিন অফিসের এক কলিগের সাথে এইসব দুঃখের গল্প শেয়ার করছিলাম। উনি আমাকে বললেন, “আপু, সেবা এক্স ওয়াই জেড অ্যাপটা ইনস্টল করে নেন, ওদের হাউস ক্লিনিং সার্ভিস খুব ভালো, আমি বেশ কিছুদিন ধরে ইউজ করছি, আপনার ভাবী তো বিউটি পার্লারের যে সার্ভিসগুলো ওরা দেয় সেইটাও ইউজ করছে, ট্রাই করে দেখতে পারেন।” আমি অফিসে বসেই মোবাইলে অ্যাপস্টোরে গিয়ে অ্যাপটা ডাউনলোড করলাম। ক্লিনিং লিখে সার্চ দেয়ার পর বেশ কিছু অপশন আসলো। আমি On Demand Cleaner সার্ভিসটায় ক্লিক করলাম। এইটায় যা দেখলাম তা হলো তারা প্রফেশনাল ক্লিনার পাঠাবে এবং সার্ভিস প্যাকেজের সময়সীমা হচ্ছে ২ ঘণ্টা, চার্জ ৩০০/- টাকা। ঘর মোছা, ওয়াশরুম ক্লিনিং, ফার্নিচার ডাস্টিং, এগুলো সবই তারা করে দিবে, বললে কিচেনও পরিষ্কার করে দিবে। যদি এরপরেও আমি অ্যাডিশনাল কিছু করাতে চাই, তাহলে প্রতি ঘণ্টার জন্য এক্সট্রা ১০০/- টাকা পে করতে হবে। এবং টাইমিং এরও অপশন থাকে। আমার সুবিধা মতো স্লট নিতে পারি। এরপরে আমার মনে পড়লো আমার বাসার পর্দাগুলোও অনেকমাস ধরে ধোয়া হয় নাই। আর আমার ছুটা খালা সহজে পর্দা ধুতেও রাজি হয় না, আর উনি তো নাই-ই আজ এক সপ্তাহ হলো। টাইপ করলাম লন্ড্রি, দেখলাম এরও অপশন আছে। তো ব্যস, আমার তো হয়েই গেলো। এইবার অর্ডার কনফার্ম করে অপেক্ষার পালা।

.

পরদিনই ছিল শুক্রবার, আমার বাসায় গেস্ট আসার দিন। ওদের ওখান থেকে একদম সময় মতো সকাল ১১টায় লোক এসে হাজির। একটা ছেলে এসেছে লন্ড্রির কাপড়্গুলো নিতে। তাকে পর্দাগুলো নামিয়ে দিলাম, গুছিয়ে নিয়ে চলে গেলো।

আমার বাসাটা ৪ বেডরুমের, ড্রয়িংরুম, ফ্যামিলি স্পেস, ডাইনিং স্পেস, কিচেনসহ রুমের সংখ্যা ৯, কাজেই ৭ দিন মেইড না আসায় বাসার কি অবস্থা হয়েছে আশা করি বুঝতেই পারছেন, তার উপর আমার ছেলে! উফ! সারা বাসায় জায়গায় জায়গা চিপসের প্যাকেটের খোসা, ফ্লোরে চকোলেটের দাগ, আর বাথরুমের ফ্লোরে কন্ডিশনার দিয়ে স্লিপারি হয়ে গিয়েছে যেটা দিয়ে সে গোসলের সময় খেলা করেছে! আমার বাসা পুরোটা ক্লিন করতে ক্লিনারের সময় লেগেছে ৩ ঘণ্টা। ওদের সার্ভিস চার্জ ছিল ৩০০/- টাকা, ১ ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে কারণ আমার বাসা অনেক বড়, এজন্য আমাকে এক্সট্রা পে করতে হয়েছে ১০০/- টাকা। But according to me its worth it. কারণ রাতে গেস্ট আসার আগে আমার বাসা একদম ঝকঝক করছে। এবং আমাকে গেস্টদের সামনে কোন এমব্যারাসমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়নি। ক্লিনার যথেষ্ট এফোর্ট দিয়ে কাজ করেছে, এবং তার বিহেভিয়ার ও ভালো ছিল।

আর কিছুদিন পর লন্ড্রি সার্ভিস থেকে পর্দাগুলোও চলে আসলো, পরিষ্কার করে ধোয়া এবং ইস্ত্রি করা অবস্থায়।

বাংলাদেশ এখন সত্যিই ডিজিটাল হচ্ছে, এবং এই দেশি উদ্যোগগুলো আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আমাদের মতো যারা চাকরিজীবী, অথবা যারা চাকরিজীবীও না, এইরকম মেইড না আসায়, অথবা যারা নিজেরাই নিজের বাসার কাজ করে, কোন অসুস্থতার কারণে হয়তো করতে পারছেন না, তাদের জন্য এ ধরণের সার্ভিসগুলো বেশ উপযোগী। ইনস্ট্যান্ট সার্ভিস পাওয়া যায় কোনরকম হ্যাসেল ছাড়াই। অবশ্যই ট্রাই করে দেখতে পারেন। আর আমি নেক্সট টাইম ওদের বিউটি পার্লারের সার্ভিস Book My Look টা ট্রাই করবো।

কোন মন্তব্য নেই