বিরূপ আবহাওয়ায় আমে ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

0
ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) থেকে: টানা খরা আর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আমের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন চাষি, বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। ইতিমধ্যে কিছু কিছু এলাকায় এর প্রভাব পড়তেও শুরু করেছে। এতে বড় ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খরার কারণে আমের আকার ছোট হওয়ার পাশাপাশি গুণগতমানে সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে দাম কম পেতে পারেন চাষিরা। এরপর যদি ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের আম বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. মো. শরফ উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, দীর্ঘ সময়ে খরার কারণে আমের গুটিও তুলনামূলকভাবে বেশি ঝরেছে। ফলে উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে আগাম আম পাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এতে একটা সুবিধা আছেও, তা হলো- যত খরা হবে তত বেশি আম মিষ্টি হবে।

সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানজুড়ে কড়া রোদের সঙ্গে গরম বাতাস। আম বাগানের যে হিমেল বাতাস থাকার কথা, তা নেই। ছোট, বড় ও মাঝারি আমগাছগুলো চুপচাপ সব হজম করে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার সেলিমাবাদ এলাকার আম চাষি আবদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতেই আবহাওয়ার ধাক্কা খেতে হয়েছে তাদের। এরপর একমাসের খরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমের বৃদ্ধি কম হচ্ছে। এছাড়া হালকা বাতাসে আম ঝরছে। সবকিছু মিলে খুব দুশ্চিন্তায় সময় যাচ্ছে তাদের।

প্রায় ১৫ বছরের আম চাষের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে খানপাড়া এলাকার আম চাষি আব্দুল আজিজ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় তিনভাগের এক ভাগ আমের ফলন ঘরে উঠবে। বাকি আমগুলো ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন এ চাষি।

আমের বিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া এলাকাতেও আবহাওয়ার এ বিরূপ প্রভাবের চিত্র পাওয়া গেলো। চারঘাট উপজেলার পূর্ব মেরামতপুর এলাকার আম চাষি জানান, এর আগে এতো বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাদের। শিলাবৃষ্টিতে আম ঝরার পর খরার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পরামর্শ হিসাবে আম গবেষক ড. শরফ উদ্দিন জানান, বাগানের মাটির অবস্থা বুঝে ২০ থেকে ২৫ দিন পর পর সেচ দিতে হবে। যদি সেচের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে শুধু পানি স্প্রে করলেও চলবে।

তবে সেচ বা স্প্রে যাই করা হোক না কেন তা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় করতে হবে। অর্থাৎ বিকেলে বা সকালে করতে হবে।

এ বিজ্ঞানী জানান, রপ্তানিযোগ্য আমের ক্ষেত্রে হয়তোবা সমস্যা হবে না, কিন্তু স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে একটু সমস্যা হতে পারে।

এমন চলতে থাকলে মাছি পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফেরোমোন ফাঁদ অথবা ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অফিসারের পরামর্শ নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

যার গাছে যতটুকু আম আছে সেটা যেন বাজারজাত পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন সেই দিকে খেয়াল রেখে পরিচর্যা করতে হবে।

সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আর রাজশাহীতে চাষ হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন