এসেনশিয়াল প্রোডাক্ট স্কিন এবং হেয়ার কেয়ারের কোকোনাট অয়েল তৈরির আদ্যোপান্ত

0
.

কোকোনাট অয়েল। সহজ বাংলায় নারিকেল তেল। যুগযুগ ধরে চুল আর ত্বকের যত্নের জন্য কোকোনাট অয়েলের ব্যবহার হয়ে আসছে । বিশেষ করে সাউথ এশিয়া এবং ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টে কোকোনাট অয়েল একটি অত্যন্ত প্রচলিত হেয়ার অ্যান্ড স্কিন কেয়ার এসেনশিয়াল প্রোডাক্ট। অনেক দেশে রান্নায় ও কোকোনাট অয়েল ব্যবহার করা হয়, শ্রীলঙ্কা-তেই তো অনেক ডিশই কোকোনাট অয়েল দিয়ে রান্না করা হয়। কোকোনাট অয়েলের উপযোগিতার কথা লিখে শেষ করা যাবে না। স্কিন এবং মাথার স্কাল্পকে ভিতর থেকে পুষ্টি যুগিয়ে প্রাণবন্ত করে তোলে কোকোনাট অয়েল। নিয়মিত কোকোনাট অয়েল ম্যাসাজের ফলে ভালোভাবে ব্লাড সার্কুলেশন হয়, ডেড স্কিন সেলস (ত্বকের মৃত কোষ) দূর হয়, চুল এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মেকআপ রিমুভার হিসেবে এবং ঠোঁটকে নারিশ করার জন্যও কোকোনাট অয়েলটাকেই বেশি প্রেফার করি। চুলের ডীপ কন্ডিশনিং হোক, আর স্কিনের ড্যামেজড সেল রিপেয়ারিং-ই হোক, কোকোনাট অয়েলের চেয়ে নিরাপদ এবং সহজলভ্য অপশন আর নেই।

কীভাবে তৈরি হয় কোকোনাট অয়েল (Production of Coconut Oil)

নারিকেল গাছ থেকে তেল তৈরির জন্য নারিকেল সংগ্রহ করা হয়। কোয়ালিটি ভেদে ২-২০ মাস পর্যন্ত নারিকেলগুলো তেল তৈরির উপযোগী হওয়ার মতো ভালো থাকে । তবে খুব কচি নারিকেল হলে সেখান থেকে তেল তৈরি করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই নারিকেলের পারফেক্ট ম্যাচিউরিটি ও জরুরী।

টেকনিকালি যদি বলতে হয়, তাহলে পৃথিবীর সব কোকোনাট অয়েলই প্রাকৃতিকভাবেই রিফাইন্ড, কারণ তেলটা আমরা সরাসরি গাছ থেকে পাই না, নারিকেল থেকে এক্সট্রাক্ট করে বের করতে হয়। মূল পার্থক্যটাই হলো এই extraction procedure এ। সাধারণভাবে বলতে গেলে কোকোনাট অয়েল দুই রকম – রিফাইন্ড এবং আনরিফাইন্ড। রিফাইন্ড কোকোনাট অয়েলটাই বাণিজ্যিকভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রস্তুত করা হয়। এ ক্ষেত্রে দু’রকম পদ্ধতি আছে –

(১) ড্রাই প্রসেস

এ পদ্ধতিতে নারিকেল থেকে শাঁস বের করে সেটা তাপ প্রয়োগ করে শুকানো হয় এবং নারিকেলের শুষ্ক শাঁস (Copra) প্রস্তুত করা হয়। এই তাপ প্রয়োগের জন্য সূর্যের প্রখর রোদ, আগুন অথবা বিশেষ ওভেন (kilns) ব্যবহার করা হয়। তারপর এই নারিকেলের শুষ্ক শাঁস থেকে মেশিনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে কোকোনাট অয়েলটা বের করে নেয়া হয়।

(২) ওয়েট প্রসেস

এ পদ্ধতিতে নারিকেলের তাজা শাঁস ব্যবহার করা হয়। এবং তেল আর পানির ইমালশান তৈরি করা হয়। তারপর তেল আর পানিকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা করা হয়। এই পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য।

আনরিফাইন্ড ভার্জিন কোকোনাট অয়েল

ভার্জিন কোকোনাট অয়েলটা কোল্ড প্রেসিং পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তেলের প্রাকৃতিক উপাদানগুলো তেমন একটা নষ্ট হয় না। কোল্ড প্রেসিং পদ্ধতিতে নারিকেলকে প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে তার মধ্যে থেকে তেলটা বের করা হয়, কোন প্রকার তাপ ব্যবহার না করে।

বাড়িতে বসে নারিকেল তেল তৈরি

ছোটবেলায় আমার দাদীকে দেখতাম নারিকেল কুড়িয়ে তার সাথে আধ লিটার পানি মিশিয়ে সেটা কড়াইয়ে চুলার তাপে অনেকক্ষণ ধরে নাড়তেন এবং তারপর সেই পানির উপরে আস্তে আস্তে তেলটা ভেসে উঠতো। তারপর উনি পাতলা সুতি কাপড়ের সাহায্যে ছেঁকে তেলটা আর শাঁসটা আলাদা করে নিতেন। তিনি বলতেন তিনি তার দাদীর কাছ থেকে শিখেছিলেন। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে কিন্তু সব ক্ষেত্রে কোকোনাট অয়েলের প্রোডাকশন এবং ব্যবহার হয়ে আসছে। বাড়িতে বসে এবং বাণিজ্যিকভাবেও।

কোকোনাট অয়েলের প্রোডাকশন প্রসেস যেটাই হোক না কেন, পুষ্টিগুণ কমবেশি ও হোক না কেন,কোকোনাট অয়েলের বিকল্প কিন্তু সত্যিই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আপনার স্কিন এবং বিশেষ করে চুলের ন্যাচারাল ডীপ কন্ডিশনিং এর জন্য কোকোনাট অয়েলের বিকল্প নেই। আমি যেদিন কোকোনাট অয়েল মাসাজ করে তারপর শ্যাম্পু করি, সেদিন যদি সময়ের অভাবে কন্ডিশনার স্কিপ ও করি, তেমন একটা অসুবিধে হয় না। কোকোনাট অয়েল ড্রাই এবং এইজিং স্কিনের জন্য মিরাকল প্রোডাক্ট বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। এটা স্কিনকে সফট এবং স্মুদ করে তোলে, বলিরেখা কমায় এবং স্কিনকে ভেতর থেকে ডীপ নারিশমেন্ট জোগায়। খুব কম খরচের সবচেয়ে ইফেক্টিভ এবং সাইড ইফেক্ট বিহীন মেকআপ রিমুভারের নাম নিতে গেলেও কোকোনাট অয়েলের নামটাই সবার আগে আসে।

তাই এখন থেকেই এই অসাধারণ প্রাকৃতিক উপাদানটি আপনার চুল এবং ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা শুরু করুন এবং কোন প্রকার সাইড ইফেক্টস ছাড়া স্বল্প খরচে পান গ্লোয়িং স্কিন এবং শাইনিং হেয়ার।

কোন মন্তব্য নেই