সহজ সমাধান তৈলাক্ত চুলের

0
ব্রেকিং নিউজ
  •                 
.

বেশির ভাগ মানুষই তৈলাক্ত চুল আর তৈলাক্ত স্কাল্পের সমস্যায় জর্জরিত।এরা ডালনেস, dandruff সহ আরও অনেক সমস্যায় পড়ে। বিশেষ করে শ্যাম্পু করার পরদিনই চুল কেমন যেন চিটচিটে হয়ে যায়।ফলশ্রুতিতে ধূলা বালি খুব সহজে আটকে যায় আর শুরু হয় চুল পড়া, ড্যামেজ হওয়ার মত হাজার সমস্যা। অয়েলি স্কাল্প তাদের হয় যাদের অয়েল গ্ল্যান্ড দিয়ে অনেক বেশি তেল নিঃসরণ হয়। আর এটির প্রধান কারণ হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার আর অনিয়মিত জীবন যাপন। ভিটামিএ , বি এবং ই এর অভাবে এমনটি হয়। সৌভাগ্য ক্রমে কিছু ঘরোয়া উপাদানের মাধ্যমে আমরা তৈলাক্ত চুলজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। তৈলাক্ত চুল ও স্কাল্প থেকে নিস্তার পেতে কিছু সমাধান জানাবো আজ আপনাদের। তবে আগেই বলে রাখি সবগুলো রেসিপি ট্রাই করার দরকার নেই। আপনার পছন্দ ও উপকরণের প্রাপ্যতা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিন।

– শুরু করবো ওয়েলি চুলের জন্য খুব সহজ একটি সমাধান দিয়ে। চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব অনু্যায়ী মুলতানি মাটির সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এটি চুলে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

– একটি গাজর খোসা ছাড়িয়ে এর পিউরি বানিয়ে নিন। এবার মাথার তালুতে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ১৫ মিনিট। তারপর শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২ বার করবেন।

– চায়ের পাতা ফুটিয়ে নিন। তারপর পানিটা ছেঁকে নিয়ে তাতে আর একটু পানি মিশিয়ে চুলে লাগান যখন ইচ্ছা তখন। চায়ে আছে ট্যানিক এসিড, যা এক ধরনের এসট্রিনজেন্ট। এটি চুলের তেল কাটিয়ে দেয়।

– একটি সম্পূর্ণ লেবুর রস নিন তার সাথে এক কাপ পানি মিশান। তারপর সম্পূর্ণ চুলে রিন্স করুন। তারপর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

– চার টেবিল চামচ ম্যাসড পাকা কলা নিন এর সাথে এক চামচ মধু আর ১ চা চামচ জাম্বুরা বা লেবুর রস নিন। এবার খুব ভালো করে মিশিয়ে নিন উপকরণ গুলো। তৈরি হয়ে গেল আপনার হেয়ার প্যাক। গোসলের ৩০ মিনিট আগে চুল সহ স্কাল্পে ম্যাসেজ করুন। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

– এখন অয়েলি চুলের জন্য একটি স্পেশাল শ্যাম্পুর রেসিপি বলবো। যেকোনো মাইল্ড শ্যাম্পু নিন ১ চা চামচ, এলোভেরা জেল ও মধু ১ টেবিল চামচ। এই শ্যাম্পু আপনি ১ সপ্তাহ ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করতে পারবেন।

– প্রত্যেক বার শ্যাম্পু করার পর লেবুর রস, ভিনেগার আর চায়ের লিকারের মিশ্রণ দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই এসিডিক উপাদানগুলো চুলের অতিরিক্ত তেলের বিরুদ্ধে কাজ করে।

– ২টি ডিমের কুসুমের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তারপর ভেজা চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন ২-৩ মিনিট। এরপর আপনার চুলে স্যুট করে এমন কোন শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

– ৫ টেবিল চামচ টক দই, এক টেবিল চামচ বেকিং পাউডারের সাথে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস দিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর পরিষ্কার চুলে লাগিয়ে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শুধু মাত্র পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। লেবুর রস মাথার তালুর রন্ধ্র বন্ধ করে। ফলে তেল উৎপাদন কম হয়। অন্যদিকে টক দই স্কাল্পে ঘাম হওয়া কমিয়ে আনে।

– পুদিনা পাতা যেমন মুখের ত্বকের জন্য উপকারী তেমনি উপকারী মাথার ত্বকের জন্য। ২ টেবিল চামচ পুদিনা পাতা ৫০০ মিলি পানিতে ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। শাম্পু করার সময় মাইল্ড শ্যাম্পু যেমন বেবি শ্যাম্পুর সাথে ২:১ অনুপাতে মিশিয়ে নিন। পুদিনা পাতার সলিউশন নিবেন ২ ভাগ আর শ্যাম্পু নিবেন ১ ভাগ।

গুরুত্বপূর্ণ টিপসঃ

– যেহেতু তৈলাক্ত চুলের কারণে প্রায় শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হয় তাই মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করাই শ্রেয়।

– তেল চুলে দিয়ে কখনও বাইরে যাবেন না এতে ময়লা বেশি জড়িয়ে যাবে চুলে।

– সারা রাত চুলে তেল দিয়ে রাখবেন না।

– সপ্তাহে ২বারের বেশি চুলে তেল দিবেন না।

– যখনই শ্যাম্পু করবেন খেয়াল রাখবেন আপনার শ্যাম্পু যেন অয়েলি চুলের জন্য ফরমুলেটেড হয়।

– তেল ব্যবহার করার জন্য নন গ্লেসি তেল বেছে নিন।

– মাথার তালু সবসময় পরিষ্কার আর ঘাম মুক্ত রাখবেন। কারণ হয়ত খেয়াল করেছেন চুল তেল চিটচিটে হয়ে যাওয়ার পর কেমন যেন বোটকা গন্ধ বের হয়।

উপরের রেসিপিগুলো দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া, মানে বেশ কিছুদিন ব্যবহার করার পর উপকার পাবেন। কিন্তু চটপট একটি সমাধান দিয়ে আমার আর্টিকেল শেষ করতে চাই। বাইরে যাচ্ছেন কিন্তু চুল তেল চটচটে নিষ্প্রাণ হয়ে আছে। হাতের কাছে সাদা পাউডার তো আমাদের সবারই আছে, তাই চটজলদি চুলের মাঝে কিছু পাউডার ছিটিয়ে দিন আর অপেক্ষা করুন ৫ মিনিট। তারপর চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন আপনার ঝরঝরে চুলগুলো।

কোন মন্তব্য নেই