মাকে নিয়ে নায়িকাদের মন্তব্য
‘অনেক কষ্ট দিয়েছি মা, ক্ষমা করে দিও’

0
ব্রেকিং নিউজ
  •                 

আজ বিশ্ব মা দিবস। ‘মা’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হৃদয়ের মানসপটে ভেসে উঠে অসীম, চিরন্তন, আত্মত্যাগী, ভালবাসার প্রতিচ্ছবি, এক মমতাময়ী প্রতিমূর্তি। সারা বিশ্বের সঙ্গে আজ বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকারা মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানিয়ে বলেছেন না বলা অনেক কথা।

.

মা আমাকে চোখের আড়াল হতে দিতেন না : চিত্রনায়িকা মৌসুমী

আমি আমার মা-বাবার প্রথম সন্তান। অনেক আদর, স্নেহ, মায়া-মমতায় আমি বেড়ে উঠেছি। মায়ের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে আমার সখ্য। মায়ের আদর-স্নেহ, ভালোবাসায় প্রত্যেক সন্তানই বেড়ে ওঠে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আমি একটু বেশিই ভালোবাসা পেয়েছি। কখনও মা আমাকে চোখের আড়াল হতে দিতেন না। আমার প্রতি তিনি এতোটাই সচেতন ছিলেন যে, আমাকে কীভাবে ভালো লাগবে, আমার অভিনয় কীভাবে ভালো হবে সেদিকে তার সব সময়ই সজাগ দৃষ্টি থাকতো। এটা সত্য যে বাবার কারণে আমি অভিনয় ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে পেরেছি।

এখন আম্মুর বয়স হয়েছে। টুকটাক কিছু অসুস্থতা লেগেই থাকে। তারপরও আম্মু যতটুকু সময় পান আমার কাজগুলো দেখার চেষ্টা করেন। আমাকে উৎসাহ দেবার চেষ্টা করেন। এখনও আমি বাইরে থেকে বাসায় ফেরার পর ‘মাম্মি’ বলে যখন আম্মু ডাকেন তখন প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। ছোটবেলায় আম্মুর আদরে ভালোবাসায় আমি বেড়ে উঠেছি, সেই ভালোবাসার মায়াজালেই আমার আম্মুকে সারাটা জীবন আমি আমার কাছে রাখতে চাই।

.

মাকে আর কষ্ট দিতে চাই না : পূর্ণিমা

মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়ায় আমি আজকের পূর্ণিমা। তাই মায়ের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমার মাকে সব সময় ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন। আমি নিজেও একজন মা। তাই মায়ের কষ্টটা এখন খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। মায়ের কোনো তুলনা হয় না। না জেনে, না বুঝে, মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। মাকে আর কষ্ট দিতে চাই না। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আর আমার বাবাকে যেন আল্লাহ বেহেস্তবাসী করেন সেই দোয়াও চাই সবার কাছে।

.

ক্ষমা করে দিও : চিত্রনায়িকা পপি

আজ আমার জীবনের অন্যরকম দিন। কারণ চলচ্চিত্রে আমার সাফল্যের জন্য আমার মা আজ সকালে ‘গরবিনী মা সম্মাননা’য় ভূষিত হতে যাচ্ছেন। তাই আজকের দিনটা আমার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন হতে যাচ্ছে। আর আজকের দিনে বারবার শুধু বলতে চাই, আম্মু আমি তোমাকে অনেক অনেকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমাকে তা বলে হয়ে ওঠে না। অনেক কষ্ট দিয়েছি মা, ক্ষমা করে দিও। আমাদের সব ভাই বোনদের তুমি তোমার আশীর্বাদের মধ্যে রেখো সবসময়। তুমি ছাড়া আমার এত সুন্দর জীবন হয়ে উঠতো না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি, আমি তোমার গর্ভে জন্মেছি মা।

.

মা’ই হতেন আমার কো-আর্টিস্ট : অভিনেত্রী তারিন

আমার শক্তি, অনুপ্রেরণা, সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। মা মাটি দেশ, এই তিনটি বিষয়ের মানুষের জীবনে অবদান অনস্বীকার্য। এই পৃথিবীর আলো বাতাস, যে নিঃশ্বাস নিচ্ছি তা মায়ের ত্যাগের কারণেই নিচ্ছি। মায়ের বিকল্প হয় না, মায়ের কোনো তুলনাও হয় না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। ছোটবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠা, আমার শিক্ষা, আমার নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠা, সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠা, সর্বোপরি একজন অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে আমার মায়েরই অবদান সবচেয়ে বেশি। মায়ের কাছেই আমার গানে হাতেখড়ি। অভিনয় জীবনের শুরুতে মা’ই ছিলেন আমার কোআর্টিস্ট। যখন কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে পেতাম তখন মা’ই হতেন আমার কোআর্টিস্ট। অভিনয়ের চর্চা করতাম এভাবেই। আর এভাবেই আমার অভিনেত্রী হয়ে ওঠা। আমার মা খুব মেধাবী ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিলো বলেই আমি আজ অভিনেত্রী তারিনে পরিণত হতে পেরেছি। আমার মা যেভাবেই থাকুন, সবসময়ই যেন আল্লাহ ভালো রাখেন এই দোয়া চাই সবার কাছে।

আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি : মোনালিসা

আম্মুই আমার জীবনের সব। আম্মুই আমার জীবনের চলার পথের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, শক্তি। আম্মুই আমার জীবনকে গড়ে দিয়েছেন। যে কারণে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি দেশের বাইরে এসেও জীবনকে পরিচালিত করতে পারছি। আমার জীবনে আম্মুর শিক্ষা, আম্মুর আদর্শ, আম্মুর ভূমিকা অপরিসীম। এখন আর আগের মতো বলতে পারি না, মাগো আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি। তারপরও বারবার বলতে ইচ্ছে করে, আমার মাকে আমি আমার জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসি। মাকে কেউ জেনে শুনে কষ্ট দিতে চায় না। আমিও চেষ্টা করি আমার কোনো কারণে যেন আম্মু কষ্ট না পান। আমার খুব ইচ্ছে করে পৃথিবীর সব সুখ আম্মুকে দিতে। আম্মু সব সময় ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক এই দোয়াই করি।

.

মা যে কী পরিমাণ কষ্ট করেছেন : ফারহানা মিলি

ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে আমার আমিতে পরিণত করার পেছনে মা যে কী পরিমাণ কষ্ট করেছেন, তার হিসাব দেয়া সম্ভব না। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আম্মার দেয়া সাহস, অনুপ্রেরণা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। আমার নেপথ্যে কিংবা আমার ছোট ভাই বিপুলের নেপথ্যে আম্মা কী পরিমাণ কষ্ট করেছেন, তা এখন আরও বেশি অনুভব করি, কারণ আমি নিজেও একজন মা। সত্যি সব মা’ই তার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার ক্ষেত্রে অনেক কষ্ট করেন। আমার মাও তাই করেছেন। মায়ের ঋণ কোনো ভাবেই পরিশোধ করা সম্ভব না। দোয়া করি, আম্মা-আব্বাকে যেন আল্লাহ ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন।

.

আম্মু আমাকে ‘বাবু’ বলে ডাকেন : ইশানা

আমার অভিনয় জীবন, আমার ব্যক্তি জীবন এবং আমাকে সম্পূর্ণরূপে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিটি মুহূর্তে আমি আমার আম্মুকে পাশে পাই। জীবন চলার প্রতিটি পদক্ষেপে আম্মুর গাইডলাইন, আম্মুর সাপোর্ট আমি ভীষণভাবে নিয়ে থাকি। চেষ্টা করি, আম্মু যেন কোনো কারণে আমার কাছ থেকে কষ্ট না পান। তারপরও যদি কোনওো কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আম্মু যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। আম্মু আমাকে ‘বাবু’ বলে ডাকেন। আম্মুর নাম নীলিমা। তাই আম্মুকে কখনও আম্মু, কখনও মা, কখনও নীলিমা বলেও ডাকি। সবগুলো নামের মধ্যে এক অন্যরকম মায়া, ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। আমি সারাটি জীবন আমার আম্মুর পাশে পাশে থাকতে চাই।

.

আমার জন্য মাকে কাঁদতে হয়েছিলো : নীশিতা বড়ুয়া

আমার সঙ্গীত জীবন গড়ে ওঠার পেছনে আমার মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। আমি জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। আমার পরিবার ভীষণ কনজারভেটিভ একটি পরিবার। তারপরও মায়ের কারণেই আমি দেশের বাইরে দুই বছর পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এইচএসসি পাস করার পর যখন চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হবার সুযোগ পেলাম তখন পরিবারের সবাই যেখানে ছেলে মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিরোধী তখন আমার মা’ই সেখানে পড়ার সাহস যুগিয়েছিলেন। ক্লোজআপ ওয়ান অডিশনে যখন আমাকে কোনোরকম কার্ড দেয়া ছাড়াই ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছিলো। তখন রাত ১২টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে থাকতে হয়েছিলো। কিন্তু আমার মাকে বাইরে থাকার প্রত্যেকটা কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়েছিলো। তাই মায়ের সহযোগিতা ছাড়া আমার আজকের নীশিতা হয়ে ওঠা হতো না। এখন সাধারণত আমি নিজেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। কিন্তু যেখানে নড়বড়ে হয়ে যাই তখন মা’ই আমার সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে পাশে থাকেন। মা’রা এমনই, সব সময় ভালোবেসে যেতে পারেন।

আমি একটু রাগী, একটু বেশি স্ট্রেট ফরওয়ার্ড। মনে আছে একবার আমার জন্য মাকে কাঁদতে হয়েছিলো। যখন আমি পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হতে পারিনি। পরবর্তীতে একটি পরীক্ষায় আমি ১০০’তে ৯৯ পেয়েছিলাম। মা অনেক খুশি হয়েছিলেন। মায়ের খুশির জন্যই সারাটা জীবন কাজ করে যাবো।

.

আম্মুর সঙ্গে ঝগড়া করি : কণ্ঠশিল্পী লিজা

আমার সঙ্গে আমার আম্মুর সম্পর্কটা একটু অন্যরকম, বাবার সঙ্গেও। তাদের দু’জনকে সবসময়ই আমার এটা-ওটা গিফট করতে ভীষণ ভালো লাগে। আম্মুর সঙ্গে ঝগড়া করি, আবার কিছুক্ষণ পর সরিও বলি। মা-মেয়ের সম্পর্ক যেমন মধুরতর হয় তেমনই সম্পর্ক আমাদের দু’জনের। আম্মুর হাতের রান্না করা খাবার ছাড়া আমার আর কোনো খাবারই ভালো লাগে না। তাই যখন শো’র কারণে দেশে-বিদেশে থাকতে হয় তখন খাওয়া নিয়ে আমার খুব সমস্যা পড়তে হয়।

আম্মু সব সময় আমার গান শোনেন। আমার গানের মধ্যে তিনি অন্যরকম সুখ খুঁজে পান। আমার লিজা নামটি আমার আব্বুর রাখা। আমার আম্মু-আব্বু আমাকে নিয়ে সব সময় গর্ব করেন। এটা আমাকে পুলকিত করে। আমি চেষ্টা করবো আমার কারণে যেন কখনও তারা কষ্ট না পান। সারা জীবন তাদের জন্য নিবেদিত হয়ে থাকতে চাই।

কোন মন্তব্য নেই