জিয়া হাবীব রচিত ‘গণমাধ্যম ও কোর্ট রিপোর্টিং বিষয়ক আইন’ গ্রন্থ পর্যালোচনা

5
ব্রেকিং নিউজ
  •                 
.

রায়হান আজাদ

সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। কেননা সাংবাদিকতা গোপনীয়তার শত্রু। জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের প্রায়ই স্বার্থানেষী মহলের রোষানলে পড়তে হয়। তাই তাদের সাংবাদিকতা বিষয়ক আইন কানুন স¤পর্কে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। উন্নয়ন ও সভ্যতার নেপথ্যে আছে সাংবাদিকতা। নাগরিক জীবনের ঐক্য-সংহতি ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির সেতুবন্ধুন রচনায় সাংবাদিকতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমাজজীবনে ন্যায়-নীতি নিশ্চিতকরণে সাংবাদিকরা মূখ্য সঞ্চালকের আসনে সমাসীন।

অধুনা বিশ্বে সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাইতো খ্যাতিনামা বৃটিশ দার্শনিক জর্জ বার্নাড‘শ বলেছেন,“Journalism is the best profession of the world.” সাংবাদিকতা যেমনি দায়িত্বশীল পেশা তেমনি এ পেশার মান রক্ষায় সাংবাদিকদের হতে হয় চৌকস ও বহুমুখী প্রতিভাবান। একজন পেশাদার সাংবাদিককে সমাজ, সভ্যতা, ধর্ম, ইতিহাস-ঐতিহ্য, আইন ও শাসন-প্রশাসন সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকতে হয়। নাগরিক জীবনের সকল নাড়ী-নক্ষত্র সাংবাদিকের নখ দর্পণে থাকা বাঞ্চনীয়।

উন্নত সাংবাদিকতায় নাগরিক জীবনের নানান দিক ও বিভাগকে সম্পাদনা ও সন্নিবেশের সুবিধার্থে বিভাজন করে বিট সৃষ্টি করা হয়। এক্ষেত্রে আইন-আদালত সাংবাদিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিট। এ বিট বিশাল বলয় জুড়ে; নিত্য সৃজনশীল। শাসন-প্রশাসন, আইন ও বিচার রাষ্ট্রের একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ আদ্যোপান্ত তিনি দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ লেখক, মানবাধিকার কর্মী ও সংবাদপত্র বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ। তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এডভোকেট এ.এম জিয়া হাবীব আহসান বিরচিত ‘গণমাধ্যম ও কোর্ট রিপোর্টিং বিষয়ক আইন’ বইটি অধ্যয়নের পর সত্যিই আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। তিনি দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ লেখক মানবাধিকার কর্মী ও সংবাদপত্র বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ তিনি আইনী বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক ও প্রণেতা। এবার তিনি লিখেছেন সংবাদকর্মীদের জন্য। উন্নত মলাটের বুক বাইন্ডিং করা ৩৭০ পৃষ্ঠার এ বইয়ের ছাপা ও অঙ্গসজ্জা বরাবরেই মতো সুন্দর হয়েছে। সূচিপত্রে বইটি দুই অংশে বিভক্ত।

প্রথম অংশে রয়েছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: পেছন ফেরে দেখা, সংবাদপত্র আইন, কোর্ট রিপোটিং, আদালত অবমাননা, প্রকাশনা বিষয়ে দন্ডবিধি-১৮৬০, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪, বিজ্ঞাপন প্রকাশের নিয়ম,প্রেস কাউন্সিল আইন-১৯৭৪, ব্লাসফেমি আইন এবং আমাদের দেশে গণমাধ্যমকে যেসব আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেসব আইন প্রভৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

দ্বিতীয় অংশে গণমাধ্যমের বিভিন্ন আইন অধ্যায়ভিত্তিক আলোচিত হয়েছে। এতে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬, বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮,প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আইন-২০১৮, কপিরাইট আইন-২০০০, আদালত অবমাননা আইন-২০১৩ প্রভৃতি বিধান সুচারুরূপে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ উপলক্ষে বইটি প্রথম প্রকাশ করে চট্টগ্রামের অভিজাত প্রকাশনা সংস্থা বলাকা প্রকাশন,৪০মোমিন রোড, চট্টগ্রাম।

লেখক এডভোকেট এ.এম. জিয়া হাবীব আহসান একজন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীর পাশাপাশি স্বনামধন্য গ্রন্থকার তদুপরি কলামিস্টও বটে। কোর্ট রিপোর্টিং আইনগত সহায়তা প্রদান এবং কলাম লেখক হিসেবে মিডিয়াজগতের সাথে তার তিনযুগেরও অধিককালের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশ-বিদেশে অহর্নিশ কাজ করে চলেছেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং সংবাদপত্রের সাথে নিবিষ্টভাবে সম্পৃক্ত থাকায় লেখক তার এ বইয়ে সংবাদ ও সংবাদপত্র বিষয়ক যেসব আইনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন তা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

তাছাড়া গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সর্বশেষ ধারা বিবরণীর জন্য আইনজীবী ও আইনের শিক্ষার্থী সবার কাছে বাংলা মাধ্যমের এ বই একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমার ধারণা। পুস্তকটি উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য আইন শিক্ষক ও মানবাধিকার প্রবক্তা ব্যারিস্টার সলিমুল হক খান মিল্কীর জাগ্রত স্মৃতির উদ্দেশ্যে। মুখবন্ধ লিখেছেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক আলহাজ্ব এম এ মালেক। বইটি চট্টগ্রাম শহরের অভিজাত পুস্তকালয়সমূহে পাওয়া যাচ্ছে, স্টক ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আপনার কপি সংগ্রহ করুন।

5 মন্তব্য