রাবি’র অধ্যাপিকা আকতার জাহানের সুইসাইড নোট উদ্ধার

0
akter_jahan
মানষিক অস্থিরতায় আত্মহত্যা করেন রাবি’র সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির (৩৮) কক্ষ থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষের ল্যাপটপের নিচে তার নিজ হাতে লেখা সুইসাইড নোটটি পাওয়া যায়।

মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, রাতে বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাসহ পুলিশ ওই কক্ষে তল্লাশি চালায়। এ সময় আকতার জাহান জলির বিছানায় থাকা ল্যাপটপের নিচ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়।

full_1678226900_1473445303
‘সুইসাইড নোট’

‘সুইসাইড নোট’ টি হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা নিজের সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে কোনও সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে। আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা একটা সুইসাইড নোট পেয়েছি। সেটি তার সহকর্মী শিক্ষকদের দেখিয়েছি। তারাও বলেছেন, নোটটি আকতার জাহানের লেখা।’

%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0_%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8-1
ছেলে সোয়াদ এর সাথে নিহত অধ্যাপিকা আকতার জাহান জলি।

কমিশনার বলেন, ‘এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তা অবশ্যই মামলা গ্রহণ করা হবে।’

কমিশনার বলেন, ‘কেউ আটক নেই। আমরা নিহতের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বলেছি। তারপর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক তানভির আহমদের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেন আকতার জাহান। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই আবাসিক ভবনে (জুবেরি) একাই থাকতেন আকতার জাহান। তাদের সংসারে একটি ছেলে (সোয়াদ) রয়েছে। সে ঢাকায় নানির বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে।

কোন মন্তব্য নেই