ইলিশ মাছ না কিনলেও কেটে নেয়া হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ টাকা!
এবার আগোরা’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

0
ব্রেকিং নিউজ
  •  

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

আগোরা মগবাজার আউটলেট।

দেশের অন্যতম চেইনশপ আগোরার বিরুদ্ধে এবার প্রতারণার মাধ্যমে ভোক্তার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানটির রাজধানীর মগবাজার আউটলেট ইলিশ মাছ না থাকলেও একজন ক্রেতার কাছ থেকে ইলিশ কেনা বাবদ ৪ হাজার ১৫০টাকা কেটে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ধরা পড়ে ভুল স্বীকার করে আগোরার কর্মকর্তা।

.

দেশের প্রাচীনতম ও স্বনামধন্য একটি বেসরকারী নিউজ এজেন্সির সিনিয়র সাংবাদিক শাহরিয়ার পলাশ সম্প্রতি আগোরা থেকে বাজার করতে গিয়ে এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানান।

সাংবাদিক শাহরিয়ার পলাশ আগোরায় প্রতারিত হয়ে তাঁর ফেসবুক এ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ক্যাশ মেমো।

পাঠক ডট নিউজের পাঠকদের উদ্দ্যেশে সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

#আগোরার_প্রতারণা

গত শনিবার অফিস শেষ করে আগোরা মগবাজার আউটলেট-এ যাই। বাজার করার পর কাউন্টারে টাকা দেয়ার সময় দেখলাম বিল অস্বাভাবিক বেশি। জিঙ্গেস করার পর কাউন্টারে থাকা ছেলেটি বলল, আমাদের ভুল হয় না। বাসায় গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন। বাসায় এসে মিলিয়ে দেখি আমি ইলিশ মাছ কিনিনি। অথচ তার দাম ৪১৫০ টাকা ধরা হয়েছে। সাথে সাথেই গিয়ে দেখি আউটলেট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেখানে থাকা সিকিউরিটির লোক কোনো ভাবেই নাম্বার দিবে না। শেষে মামলা করব এবং তাকেও আসামী করব, এই কথা বলার পর সে অনেকটা বাধ্য হয়ে সুপারভাইজার মোস্তফার নাম্বার দেয়। আমি তাকে বিষয়টি জানালে তিনি সকালে যেতে বলেন। সকালে আবার যাওয়ার পর ম্যানেজার ফারুক সাহেবের দেখা পাই। তিনি বলেন, তাদের আউটলেটে ইলিশ মাছ-ই নেই। তিনি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন, এবং আমার টাকা ফেরত দেন।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমরা যারা মাসিক বাজার এসব সুপারশপে করি, তা কি কখনো মিলিয়ে দেখি? তারা কি সব সময়ই এমন প্রতারণা করে আমাদের পকেট কাটছে।

আগোরার জন্য আমার বিকল্প ৩ প্রস্তাব

আগোরা মগবাজার।

প্রতারণা ধরা পড়ার পর আমি তাদের কাছে আমার ২ বছরের বিল চাই। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় চায়। আমি সময় দিয়ে চলে আসি। সন্ধ্যায় শিলা নামের একজন আগোরার নাম্বার থেকে ফোন করে জানায় তাদের কাছে মাত্র ২ মাসের বিল রয়েছে। আমি একথা শোনার পর তাদের বিকল্প ৩ টি প্রস্তাব দেই।

১. তারা আমার গত ২ বছরের বিল দিবে। যাতে আমি মিলিয়ে দেখতে পারি এ রকম অদ্ভুত কোনো বিল আমার নামে করা হয়েছে কিনা

অথবা
২. যদি ম্যানেজার এই অপকর্মে জড়িত না থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে যথাযথ শাস্তি দিয়ে তা মিডিয়ায় প্রচার করবে।

অথবা
৩. প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে এটা ধরে নিয়ে ২ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সমাজের অসহায় সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মাঝে তা বিতরণ করতে হবে। এবং মিডিয়ার তা প্রচার করতে হবে।

এ নিয়ে মিসেস শিলা আমাকে বেশ কয়েকবার ফোন করেন এবং আমার বাসায় আসতে চান। আমি তাকে অনুরোধ করি, আমার শর্তে রাজি থাকলে আমার অফিসে আসতে।

তাদেরকে গতকাল পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বিকল্প ৩ টি শর্তের কোনোটিই পালন করতে পারেন নি। শেষ পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যায় ম্যানেজারের সাথে আমার ফোনো কথা হয়, এবং তিনি জানান আমার ২ বছরের বিল দিবেন তবে আমাকে ১ মাস সময় দিতে হবে।

আমি পরিস্কার বুঝতে পারছি, এটা কালক্ষেপন করার কৌশল, এবং প্রতারণার নতুন কোনো ফাঁদ। তাই আমি আজ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছি। না হয় তাদের এই প্রতারণা চলতেই থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই