হাঁস হারানো সেই কাশেমের পাশে ছাত্রলীগ

2
.

হাঁস হারানো কাশেমের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ফেসবুকে লেখেন, হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী কাশেম ভাই কায়িক পরিশ্রম করতে পারেন না। তাই নিজের ভাগ্য ফেরাতে মোটা সুদে ঋণ নিয়ে হাঁসের খামার করেছিলেন। কিন্তু দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগের কারণে তার প্রায় ৮০০ হাঁস মারা গেছে। এগুলো তার বেঁচে থাকার অবলম্বন ছিল।’

তিনি আরও লিখেন, ‘অসহায় কাশেম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুতই ছাত্রলীগ পরিবার তার পাশে দাঁড়াবে। সারাদেশে লাখ লাখ কর্মী রয়েছে সংগঠনের। তাদের মধ্যে যদি ৮০০ কর্মী একটি করে হাঁস কিনে দেয়, তাহলে আবার বেঁচে থাকার অবলম্বন ফিরে পাবে কাশেম ভাইয়ের পরিবার।’

এ ঘটনায় হাঁসের খামার মালিক আবুল কাশেম বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতারা তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে হাঁস কিনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

হাঁস কিনে দেয়ার ব্যাপারে নেত্রকোণা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়জুর মুর্শেদ খান অমি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। এটি একটি মহৎ উদ্যেগ এবং এই কাজটি করতে পারলে খুবই ভালো লাগবে। এর আগেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই ধরনের সেবামূলক কাজ করেছে।’ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত হাঁস কিনে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত রবিবার বিকালে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেমের (৬০) ৮শ হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠে। এ সব হাঁসের দেয়া ডিমের উপার্জন দিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। মরে যাওয়া হাঁসের বাজার মূল্য ছিল প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

আবুল কাশেম জানান, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তার ১৭শ হাঁসকে হাওড়ের পরিত্যক্ত খাবার খেতে ছাড়া হয়েছিল। তখন নিজের বাড়ির খামার থেকে বেরিয়ে পাশেই অন্যের একটি পরিত্যক্ত ধান ক্ষেতে কিছুক্ষণ খাবার খেয়েছে অধিকাংশ হাঁস। খাবার খাওয়ার কয়েক মিনিট পরেই হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে। তার ধারণা, ওই ধান ক্ষেতে কেউ হয়ত শত্রুতা করে বিষ দিয়ে রেখেছিল। এজন্য হাঁসগুলো এক এক করে দ্রুত মারা যায়। এ ঘটনার পর উপার্জনের সব অবলম্বন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন প্রতিবন্ধী আবুল কাশেম।

2 মন্তব্য