মুরসির মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: আল্লামা কাসেমী

1
.

মিশরের একমাত্র নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী রাষ্ট্রপতি মুরসির ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

বুধবার (১৮ জুন) এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, মুরসির ইন্তিকাল স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। এটা ছিল একটি শক্তিশালী চক্রের যোগসাজশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই লক্ষ্যে জেলখানায় সেরকম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিলো। নির্জন কারাবাসে তাঁকে অমানবিকভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের অসুখ ছিল। কিন্তু কারাগারে এসব রোগের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কোনরকম সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবার ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তরফ থেকে বার বার যথাযথ চিকিৎসার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সিসি’র সরকার এতে কর্ণপাত করেনি।

শোকবার্তায় আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জিগির তুলে ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সুদানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বহু মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রকে হয় ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে, নতুবা চরম গোলযোগ ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু মুহাম্মদ মুরসি তো পশ্চিমা উস্কানীতে সৃষ্ট কথিত আরব বসন্তের ঢেউয়ে হোসনী মুবারকের উৎখাতের পর পশ্চিমা গণতন্ত্রের সকল নিয়ম অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই ক্ষমতায় বসেছিলেন।

তিনি বলেন, মুহাম্মদ মুরসি মিশরের ইতিহাসে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির স্বচ্ছ নির্বাচনে বিজয়ী ‘একমাত্র’ নেতা। হোসনি মোবারকের মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ ছিল। ফলে মোহামদ মুরসি পার্লামেন্টে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন। তাছাড়া তিনি শিক্ষা জীবনে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়েছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ একাডেমিক শিক্ষা পেয়ে পিএইচডি লাভ করেছিলেন। তিনি ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদদের মধ্যে একজন আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত নেতা, যা বিরল।

তিনি বলেন, পশ্চিমারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির যে স্লোগান দিয়ে একের পর এক মুসলিম দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের এই স্লোগান যে স্রেফ ভণ্ডামি, মুরসিকে উৎখাত ও তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে হত্যায় পশ্চিমা সায় ও নীরবতায় আরো স্পষ্ট হয়েছে। মূলত: পশ্চিমা পুঁজিবাদিরা ইসলাম উৎখাতের লড়াই জারি রেখেছে।

প্রথম মন্তব্য