হাসিমুখে কথা : মানসিক শক্তি বাড়ায়

0
.

“প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি জানালায় হাসিমুখ, হাসিমুখে আনন্দধারা…” শিরোনামহীনের এই গানটির মতই প্রতিটি রাস্তায়, জানালায়, প্রতিটি মুখে হাসি দেখতে পেলে মন্দ হয়না! আমরা মানুষেরা বড্ড সংক্রমণে ভুগি; আচরণের সংক্রমণ, অনুভূতির সংক্রমণ। সুখ-দুঃখ দু’টোই অনেক বেশি ছুঁয়ে দেয় আমাদের। তাই অন্যকে প্রতিনিয়ত ছুঁয়ে দিতে হয় বলেও মন খারাপের মধ্যেও আমরা হেসে কথা বলতে চেষ্টা করি, হয়তো তাই উচিত!

একটু মুখ গোমড়া করে থাকা যেমন পরিবেশটাকেই গুমোট করে দেয়, তেমনি একটু হাসিমাখা কথোপকথনও একইসাথে আন্তরিকতা ও আগ্রহ প্রকাশ করে। যেমন কারো কোন প্রস্তাবে আমরা যখন নির্লিপ্ততার সাথে বা আগ্রহশূন্যভাবে সাড়া দিই, ব্যক্তিটির কাছে কিন্তু সে সাড়ার আবেদন অপেক্ষাকৃত কম থাকে। সেক্ষেত্রে মনে করা হতেই পারে ব্যাপারটি একতরফা এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির তাতে কোন উৎসাহই নেই। এতে করে প্রস্তাবকারীরও উৎসাহে ভাঁটা পড়ে বৈকি! সবমিলিয়ে ব্যাপারটি তখন খুব শীতল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ঠিক একই ঘটনাতে মুদ্রার ওপিঠ বের করে যদি প্রস্তাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাসিমুখে সাড়া দেন, আগ্রহ দেখান- তবে ঘটনার ও সম্পর্কের উষ্ণতা, আন্তরিকতা সবই বজায় থাকে।

হাসিমুখ মানুষের জন্য এতই প্রয়োজনীয় যে ধর্ম, চিকিৎসা, শিক্ষা সকল শাখাই এর বন্দনা করে এসেছে। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা হাসিমুখে যদি নিজের ভাইয়ের প্রতি তাকাও, তাও সাদকায় পরিণত হয়”। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলেন, হাসলে মানুষের স্বাস্থ্য ও মন দুটোই ভাল থাকে। আজকাল তো ‘Laughter therapy’ বলেও একখানা পরিভাষা বেরিয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানে; আর শহরে শহরে ‘Laughter club’! বোঝাই যাচ্ছে সবাই হাসিমুখের কদর করছেন, কিন্তু বোধকরি আজকালকার অন্য সবকিছুর মত এতে কৃত্রিমতা না ঢোকানোই ভাল। শত ব্যর্থতাতেও যেন এইটুকু সৎ-সাহস থাকে যাতে মানুষগুলো একজন অন্যজনের সাথে হাসিমুখ বিনিময় করতে পারে।

ঠোঁটের কোণে ভেসে ওঠা এক চিলতে নির্ভেজাল হাসি কখনো কাউকে দুর্বল করেনা বরং বাড়িয়ে দেয় এগিয়ে যাবার ইন্ধন, মানসিক শক্তি। পথ চলতে প্রয়োজন হয় বিশ্বাস; নিজের এবং অপরের প্রতি। সে বিশ্বাসটুকু ধরা পড়ুক হাসিমুখে কথা বলায়। প্রতিটি দিন শুরু হোক প্রত্যাশাভরা হাসিতে ও ইতি ঘটুক একরাশ প্রাপ্তিতে।

আমাদের শুদ্ধতম আনন্দ, সমানুভব, সহাবস্থান ফুটে উঠুক আমাদের অকৃত্রিম হাসিতে।

কোন মন্তব্য নেই