পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্ত
মুসলিম শিক্ষার্থীর মননে নাস্তিক্যবাদের বীজ বুনন করা হচ্ছে-আল্লামা কাসেমী

2
.

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, ‘২০১৩ সালে শিক্ষার আধুনিকায়নের নামে নতুন একটি বাতিল বিষয়বস্তু ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষা নবম-দশম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাস্টার্স শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই শিক্ষার মাধ্যমে কোমলমতি লক্ষ লক্ষ মুসলিম শিক্ষার্থীর মননে নাস্তিক্যবাদের বীজ এবং চিন্তা-চেতনার বুনন চলছে। এই শিক্ষা চলতে থাকলে এমন আশংকা ভুল হবে না যে, ‘কয়েক প্রজন্ম পর পশ্চিমা উন্নত দেশসমূহের মতো মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ সকলের অগোচরেই নাস্তিক অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এই দেশেও বিয়ে বহির্ভুত যৌন জীবন লিভটুগেদার সামাজিক রূপ পাবে এবং সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য আন্দোলন হবে’। বাংলাদেশের মুসলমান ও অভিভাবকদের জন্য এটা কতই না ভয়াবহ ও হতাশার বিষয় হবে।

আজ (২৮ জুন) শুক্রবার এক বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ২০১৩ সালের পরে পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির নিন্দা জানান এবং সরকারের প্রতি অবিলম্বে ইসলামী বিশ্বাস ও জাতি বিনাশী ‘বিবর্তনবাদ’-এর শিক্ষা বাতিল ও নিষিদ্ধের দাবি জানান।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ১০০ থেকে ১১২ পর্যন্ত, জীব বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ২৭০ থেকে ২৭৬ পর্যন্ত, জীব বিজ্ঞান ২য় পত্র, (গাজী পাবলিশার্স-ঢাকা), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ২৮৭ থেকে ৩০০ পর্যন্ত, সমাজ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ২৫১ থেকে ২৫৬ পর্যন্ত পাঠ বিবর্তনবাদের আলোকেই লেখা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে বির্বতনের উপর স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ বই রয়েছে।

বিবৃতিতে আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, বিবর্তনবাদের প্রতিপাদ্যবিষয় হলো, সৃষ্টিকর্তার ধারণা থেকে মানুষকে বের করে দেয়া। কারণ, ডারউইনবাদ বা নব্যডারউইনবাদ বা ঊাড়ষঁঃরড়হ-এর বক্তব্য- ‘সবকিছু প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। একটি ভাইরাস, এরপর একটি ব্যাকটেরিয়া, এর থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে একটি থেকে অপরটি, এমন করে করে সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ও বানরের পূর্বপুরুষ একই ছিল’।

তিনি বলেন, বিবর্তনবাদ মতে, সৃষ্টিকর্তার ধারণা ভিত্তিহীন। তাই বিবর্তনবাদ সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করে না। পৃথিবীর প্রচলিত কোন ধর্মকেই স্বীকার করে না। বরং ধর্মকে উল্লেখ করেছে ‘মানুষের চিন্তা- চেতনার ফসল’ হিসেবে। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে ২৫১ থেকে ২৫৬ পৃষ্ঠায় আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে এরকমই পড়ানো হচ্ছে।

আল্লামা কাসেমী বলেন, পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ ডক্টরাল বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন, পৃথিবীতে কখনো এভাবে বিবর্তনের মতো ঘটনা ঘটেনি। বিবর্তন ঘটে প্রজাতির বয়স, আকৃতি, বৈশিষ্ট্য-এর উপরে। কিন্তু বিবর্তনের দ্বারা নতুন প্রজাতির কখনো উদ্ভব হয় না। পৃথিবীর প্রায় ৯৯% মেডিকেল ডাক্তারগণ মানুষ ও বানরের পূর্বপুরুষ যে এক, এটা স্বীকার করেন না। কোষ বিজ্ঞান বা আণবিক বিজ্ঞান দ্বারা বিবর্তনকে প্রমাণ করা যায় না। বিবর্তন যদি কোন প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু হতো, তবে উন্নত দেশসমূহ যেমন- আমেরিকা, ইসরাইল, তুরস্ক, রুমানিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রমুখ দেশে বির্বতন শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করা হতো না। প্রশ্ন হল- এত বিরোধ থাকার পরেও কেন পৃথিবীতে এই শিক্ষা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটা শিক্ষার রাজনৈতিকিকরণ। মানুষকে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনাবোধ থেকে বের করে আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদে মশগুল রাখার জন্য এই বিবর্তনবাদের শিক্ষা পুঁজিবাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় অস্ত্র।

তিনি বলেন, উন্নত দেশসমূহের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর দশটি দেশের ৬০% শিক্ষিত মানুষ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তারা তাদের দেশে পাঠ্যক্রমে ১৯ দশকের শেষদিকে বিবর্তন চ্যাপ্টার অর্ন্তভুক্ত করেছিল। যার ফলে নাস্তিকতা অকল্পনীয় হারে বেড়েছে। ঐ সমস্ত দেশে সমকামিতা, পর্ণো, মদ, জুুয়া সব বৈধ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০০০ বা এর পরে বিবর্তন শিক্ষা শুরু করেছে। যার ফলে বর্তমানে নাস্তিকতা প্রচুর বেড়েছে। গত ১ বছরে ভারতে ২টি জিনিস বৈধ হয়েছে- ১। সমকামিতা ২। পরকীয়া। কেন ঐসব দেশে এগুলো বৈধ, এগুলো যে পাপাচার বা নিকৃষ্ট, তা তো ধর্মীয় বই-পুস্তকে উল্লেখ রয়েছে। মানুষ যদি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস না করে, তবে সে কেন এগুলো মানতে যাবে। এসব বিষয়ে বৈধতার জন্য ঐসমস্ত দেশের সরকার এখন বাধ্য হচ্ছে জনগণের চাহিদার কারণে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আমাদের দেশে ২০১৩ সালের পর থেকে গত ৬ বছর ধরে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকোত্তর স্তরে বিবর্তনবাদ পড়ানো হচ্ছে। যার কারণে দেশের তরুণ শিক্ষিত শ্রেণীর একটা অংশের মধ্যে নাস্তিক্যবাদি চিন্তা-চেতনা প্রচুর বেড়েছে। আরো যদি সামনে ৮/১০ বছর এভাবে চলতে থাকে, তাহলে এদেশেও প্রায় ৩০% মানুষ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করবে না। এখন যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা এগুলো পড়ছে তারা আগামীতে বাবা মা হবে। বাবা মা যদি সৃষ্টিকর্তার ধারণায় সন্ধিহান থাকেন, তবে সন্তানরা কী করবে? অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম সবগুলো মাধ্যম থেকে নাস্তিক্যবাদ ধারণা পাবে। পরিশেষে এরাও একসময়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানবে না। ধর্মীয় বিয়ে মানবে না। বিয়ে ছাড়াই একসাথে বসবাস করবে। মদ, জুুয়ার বিধিনিষেধ মানবে না। সমকামিতার বৈধতা নিয়ে আন্দোলন হবে। লোকজন আল্লাহ, রাসূল, ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করবে। শেষে ধর্মভীরু মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে বড় ধরনের দ্বন্দ্ব বেঁধে যাবে। যা একটি নিশ্চিত গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত হবে। এর জন্য তখনকার সরকার দৃশ্যত: দায়ী থাকবে না। কারণ, নীরবেই বিবর্তনবাদের শিক্ষার কারণে জেনারেল শিক্ষিতদের মধ্যে বিশাল নাস্তিক্যবাদি চিন্তার জনগোষ্ঠী তৈরি হয়ে যাবে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এভাবে পুরো জাতির এত বড় সর্বনাশ আমরা করতে দিতে পারি না। আমরা এমন জাতি বিনাশী উদ্যোগ চুপচাপ দেখে যেতে পারি না। তিনি এ বিষয়ে দেশের আলেম সমাজ, অভিভাবকমহল, রাজনীতিবিদ ও জনসাধারণকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষা বাতিলের জোর আহ্বান জানান। – প্রেসবিজ্ঞপ্তি

2 মন্তব্য

  1. ২/৪ পাতা বিবর্তনবাদ পড়ে যদি মানুষ নাস্তিক হয়ে যায়, তাহলে আপনারা হাজার হাজার পৃষ্ঠা কি ধর্ম পড়ালেন, কাসেমী সাহেব? সেই হিসাবটা আগে দেন। কোটি কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে আপনাদেরকে ধর্ম শিক্ষা দেওয়ার জন্য। টাকাটা হালাল করে তারপর খান।