শিক্ষক পেটানো সেই তোফাজ্জল অবশেষে কারাগারে

0
ব্রেকিং নিউজ
  • *প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

                    *প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

.

পরীক্ষার্থীকে নকলে বাধা দেয়ায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকে শিক্ষককে পেটানো মামলার প্রধান আসামি তোফাজ্জলকে অবশেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোপের মুখে এলাকা ছেড়ে চারদিন পালিয়ে থাকার পর মামলায় জামিন নিতে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

বুধবার সুনামগঞ্জ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (তাহিরপুর জোন) বিচারক শুভদ্বীপ পাল তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালানাকারী সিনিয়র আইনজীবী মতিউর রহমান পীর তাকে কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তোফজ্জল উপজেলার বাদাঘাট (উত্তর) ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।

সোমবার আহত শিক্ষকের থানায় দায়েরকৃত মামলায় তাহের-তোফাজ্জল আট জনকে আসামী করা হয়। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বাপ-বেটার সহযোগী ১০ থেকে ১৫ জনকে।

তাহিরপুরের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সুত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নকলে বাঁধা দেন বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক। তারপর ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীকে হলে উত্যক্ত করছিল। এ সময় বাধ্য হয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন ওই শিক্ষক।

এদিকে ওই শিক্ষার্থী পরিবারের কাছে তাকে হল থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা জানায়। পরে ওই শিক্ষার্থীর নানা বিদ্যালয় পরিচালানা কমিটির সদস্য আবু তাহের বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষককে ছাত্র-ছাত্রী, অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

এদিকে ঘটনাটি তাহেরের ছেলে তোফাজ্জলের কানে এলে তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে ফের বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকে শিক্ষক মাজেদুল ইসলামকে মারধর করে পরীক্ষায় অংশ নেয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা টেনে ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনাটি দেখে প্রধান শিক্ষক দৌঁড়ে এসে তোফাজ্জলকে বাঁধা দেয়। এ সময় তোফাজ্জল প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দানুকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও প্রদান করেন।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তোফাজ্জল তার সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যান।

আহত সহকারী শিক্ষককে রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পরদিন সোমবার থানায় তাহের-তোফাজ্জলসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন আহত শিক্ষক।

ওই ঘটনার জের ধরে রোববার, সোমবার, মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও একদিনের পরীক্ষা স্থগিতের পর ফের টানা চতুর্থদিনের মতো বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধন সমাবেশ থেকে বুকে কালোব্যাজ ধারণ করে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক। তারা তাহের ও তোফাজ্জলের অন্য সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা তাহেরসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটে বৃহস্পতিবার পুর্ণ দিবস হরতাল আহবান করেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফজালুল হক শিপলু অভিযোগ করেন, অতীতে আরও একাধিক শিক্ষক তোফাজ্জল গংদের হাতে বিদ্যালয়েই লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেও একজন ভুক্তোভোগী বলে জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তোফাজ্জল গংদের ইভটিজিংয়ের মুখে বিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্রীকে তার পরিবার অন্যত্র বাল্যবিবাহ দিতে বাধ্য হন। গত ৫ থেকে ৬ বছরে বিদ্যালয়ের শতশত ছাত্র শারীরিক নির্যাতন, হুমকি এবং অসখ্য ছাত্রী হেনস্তা, মোবাইল ব্লাক মেইলিংয়ের শিকার হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দানু ও সহকারী শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, তোফাজ্জল বিগত দিনে বাজার থেকে রহমত আলী ওরফে রমু নামের ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে বাড়িতে গাছে বেঁধে মারধর করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় চিকিৎসক ডা. আবদুস ছালামকে সে বাদাঘাট বাজারের হাসপাতাল রোডে চেম্বারে ডুকে তার লোকজন নিয়ে মারধর করে। সিলেটের আদালতে এক কিশোরী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা, সুনামগঞ্জ আদালতে ব্যবসায়ী অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় বিচারাধীন দুটি মামলার আসামি এই তোফাজ্জল।

তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বাধা দিতে গেলে তাদের পরিবারের লোকজন এবং তাদের গ্রুপের সহযোগীদের নিয়ে প্রায়শই এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম দানু।

বুধবার তাহিরপুর থানার ওসি মো.আতিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশ প্রত্যেক আসামির বাড়ি ব্লক রেইড দিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। পলাতক অন্য আসামিরা বর্তমানে এলাকা ছেড়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আবু তাহের মিয়ার মোবাইল ফোনের সংযোগ বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য নেয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই