বাংলাদেশ কল্যাণ রাষ্ট্রঃ নাগরিক অধিকারের উর্বর ভূমি

0
ব্রেকিং নিউজ
  •  

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

মোস্তফা নূর

বিভক্তির চরমতম অবস্থানে অধঃপতিত একটি বীজ তড়পাচ্ছে এখানে ! এই গহীন সুড়ঙ্গে। এই আমার লক্ষ শহীদের আত্মবলিদানে প্রাপ্ত স্বাধীন বাংলাদেশ! এখানে এখনো স্বাধীনতাটাকে খুঁজছে সাধরণ গণমানুষ। কতিপয় অসাধারণ পতঙ্গজাতের অধিনে চলে গেছে দেশের সবকিছু। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে চীর বিদায় নিয়ে যাচ্ছেন একে একে।

নানান জাতের স্বৈরাচার নানান অভিধায় এখানে ঝেঁকে বসেছিলো নানান অঙ্গিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তারা তাদের যাবতীয় অযোগ্যতার এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদ (পরদেশ) সমূহের সৌখিন দালালীর যোগ্যতা প্রদর্শনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাষাবাদ করেছে এই সরল বাংলাদেশে। গণমানুষের রক্তে চলেছে তাদের আহার-বিহার, ভোগ-বিলাস। এরা কেউ কারো হতে উন্নত। কেউ কারো হতে অবনত। এ-ই যা।

কিন্তু আজ অবধি কেউ কথা রাখেনি। কেউ কথা রাখতে পারেনি। যদি বলি- কথা রাখার কসরত করতে যে প্রস্তুতি লাগে তাতো গ্রহন করেনি এরা কখনো! হয়তো আমাদের এই পঞ্চাশ বছরকাল শাসকদের কারোই নিয়তে গণ্ডগোল ছিলোনা। নিয়ত ছিলো একেবারে সাফ্-পরিষ্কার! ধরেই নিলাম। কারণ তারাইতো বলেন, তারা বা তাদের পূর্বপুরুষগণ কী কী ভালোকাজ করে গেছেন ইত্যাদি—–।

ঠিকই তো , কেউ এসে ইসলামী ফাইণ্ডেশন করেছেন রাষ্ট্রীয় ভাবে। সংবিধানে বিসমিল্লাহ এবং মহান আল্লাহর উপর আস্থার কথা বসিয়েছেন কেউ। কেউ এসে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং শুক্রবার ছুটি ঘোষনা করে ধর্মীয় উপসনালয়ের বিদ্যুৎবিল মওকুফ এবং ফ্রি করেছেন। কেউ এসে ফাযিলকে ডিগ্রীর মান, কামিলকে মাষ্টার্স এর মান দিয়েছেন। আবার কেউতো দাওরাকে মাষ্টার্স এর মান দিয়ে তবলীগকে দু’ভাগ এবং তাদের ভাষায় বিশিষ্ট সকল দেশীয় ইসলামী চিন্তাবিদ! এবং অবিশ্বাসী প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের ফতোয়া মতে অনৈসলামীক সংগঠন “জামায়াতে ইসলামী” কে শায়েস্তা করে কাওমীদের জননী হওয়া বা হয়ে যাওয়ার মাঝে ইহকাল-পরকালীন সন্তুষ্টি খোঁজা ইত্যাদি দ্বীনি কর্ম অবিরাম অব্যাহত রেখেছেন।

মোট কথা হলো সবই চলছে সমান অথবা অসমান তালে। কিন্তু এই দেশের মানুষের ভাগ্যের খবর কী? কেমন পরিবর্তন হলো এই দেশ-রাষ্ট্রের! অঙ্গীকার সমূহের কাল-হকীকত কী? কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছি আমরা?

এই দেশটির একটি অপরাধ ছিলো। আর তা হলো তার জন্মসূত্রে। অপরাধ হলো, এখানে শাহ জালাল, শাহ পরাণ, খানজাহান আলী হতে শরু করে বখতিয়ার খলজি, নবাব সিরাজুদ্দৌলার চেতনা ধন্য হওয়ার অপরাধ।

এই দেশের ৯০% নাগরিক মুসলিম। ফলে এই দেশকে নিয়ে যেমন ইসলামিষ্টগণের ভাবনা আছে তেমনি আছে ইসলাম বিদ্বেষিদের কঠিন দুষ্ট পরিকল্পনা। ইসলামিষ্টদের ভাবনা বিভাজিত। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষিদের পরিকল্পনা সুসংহত এবং ঘরে বাইরে ‍যুগপৎ। ফলে এই দেশেটি কখনো ষড়যন্ত্র মুক্ত থাকতে পারেনি। কখনো ষড়যন্ত্র মুক্ত ছিলোনা। তাই হয়তো মুক্তি আসেনি আমাদের।

নানামুখী বিশাল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রায় আদর্শহীন, ভিত্তিহীন কোনো একটি জাতিরাষ্ট্র উদ্দেশ্যহীন চলায় তার গন্তব্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়না। এই দেশ এবং জাতির ভাগ্যেও তাই হয়েছে।

তপন মোহন চট্রোপাধ্যায় লিখেছেন- “ষড়যন্ত্রটা আসলে (অভিজাত) হিন্দুদেরই ষড়যন্ত্র” হিন্দুদের চক্রান্ত হলেও বড় পদবীধারী পরিচিত ক্ষমতাধর গোছের মুসলমান তো অন্ততঃ একজন চাই। নইলে সিরাজউদ্দৌলার জায়গায় বাংলার নবাব হবেন কে? ক্লাইভ তো নিজে নবাব হতে পারেন না। হিন্দু গভর্নরও কেউ পছন্দ করবে কিনা সন্দেহ? জগৎশেঠরা তাদের আশ্রিত ইয়ার লতিফ খাঁকে সিরাজউদ্দৌলার জায়গায় বাংলার মসনদে বসাতে মনস্থ করেছিলেন। এসময় উমিচাঁদেরও সায় ছিল। কিন্তু লর্ড ক্লাইভ চেয়েচিলো অন্য রকম কিছু। ক্লাইভ মীরজাফরকেই বাংলার নবাবী পদের জন্য মনোনীত করে রেখেছিলো।

পলাশী শুধু এক খন্ড নদীমাতৃক সবুজ ভূমি নয়, কেবল কোনো সাধারণ যুদ্ধের ময়দানও নয়। এটি হচ্ছে প্রাণ উৎসর্গিত স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষদের রক্তক্ষরণের স্থান, ষড়যন্ত্রকারীদের বিশাল প্রহসনের স্থান। দেশদ্রোহী বেইমানদের চিনে রাখার মোক্ষম সময়। অন্যরকম ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্যবাহী মাইলষ্টোন। বাংলাদেশী স্বাধীনতাকামী সকল মানুষের জন্য এই স্থান প্রেরনার অতি উজ্জ্বল বাতিঘর। যে প্রেরণা যুগিয়েছে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় সিরাজ এবং তাঁর পরিবারের অদম্য সাহসী শহীদগণ।

অন্যদিকে এই পলাশীর প্রান্তর কোনো একটি ধর্মের অনুসারীদের একক কৃতিত্বশীল অধ্যায় নয়। বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল লড়াকু দেশপ্রেমিক গণ- মানুষের ঈমানী পাঠশালাও বটে। যারা দেশের জন্য নিবেদিত প্রান হয়ে লড়াই করেছেন। । পলাশী মানে বাংলা এবং ভারতের কারবালা। পলাশী আমাদের জাতীয় চেতনা এবং ঐক্যের ভীত গড়ে দিয়েছে। সেই ভীত মজবুত করতে পারলেই আমরা এই জাতিকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবো।

এই দেশটি ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের পক্ষ হয়ে তাঁর প্রধান সেনাপতি দ্বারা প্রহসন, বেইমানী, মীরজাফরী নামীয় কুখ্যাত ট্রাজেডির পরে যা হয় তার পর দীর্ঘ প্রায় দুই শত বছর ইংরেজ-অভিজাত দালাল ব্রাহ্মন শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অবশেষে অবিরাম আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে হাজি শরীয়ত উল্ল্যাহ, শহীদ তীতুমীর, শহীদ রজব আলী, সূর্যসেন,সুফী নুর মোহাম্মদ নিজামপুরী সহ নাম জানা না জানা অসংখ্য জ্ঞানী গুণি, আলেম-ওলামা, কুলি-মজুর, ছাত্র-শিক্ষক, চাষা-ভূষা, নারী-পুরুষের রক্তে রঞ্জিত হয়ে এবং ইংরেজদের বিভাজন নীতির ফলে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় অতিষ্ট করে তোলে এই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয় ভারতীয় উপ-মাহদেশ, এবং শান্ত ‍সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য পীঠস্থানকে। যেখানে একাধারে সাড়ে আটশত বছরের মুসলিম শাসন অনন্য সুশাসনের নজির স্থাপন করেছে। সেখানেই ইংরেজ এবং অভিজাত কূলীন ব্রাহ্মন্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে কী সব ধ্বংসযজ্ঞ নাযিল করেছে তা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।

ঐতিহাসিকরাই বলেছেন, পলাশীর যুদ্ধের একমাত্র নায়ক ও বীর হচ্ছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। কারণ তিনি নিজে দেশের স্বার্থেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি যদি ইংরেজদের সাথে সমঝোতা করতেন তাহলে দীর্ঘসময় নবাব থেকে সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু দেশের ভালবাসায় নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে ইতিহাসের নির্মম পরিনতিকে হামিুখে বরণ করে নিয়েছেন।

পলাশীর যুদ্ধের ২৫৭ বছর পরেও আজ আমাদের অনেক প্রশ্ন -পলাশীর যুদ্ধ কেন সংঘটিত হয়েছিল? কি হয়েছিল সে যুদ্ধের পরিনাম? কেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা সে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন? পলাশীর ট্রাজেডীর জন্য কারা দায়ী? কেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে সিরাজের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খাঁ সহ অন্যান্য সেনাপতিগণ এবং রাজ কর্মচারী জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, নন্দকুমার, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ প্রমুখরা সিরাজের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে দেশের স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে তুলে দিয়েছিল।

অপরদিকে এই ভূ-খণ্ডটিকে ঘিরে অবিরাম ষড়যন্ত্রের অপরপিঠে চলে আরেক জুয়া খেলা। যেখানে উভয় পক্ষই মেধাবী মুসলিম বেকুব নেতৃত্ব বলির পাঁঠা হয়ে যান। যা এখনো হয়ে চলেছেন। যা ঠেকানো মুশকিল। জেনে শুনে বিষ পান করার মতোই অনেকটা। কিন্তু তথাপিও কি পরিত্রাণের উপায় থাকেন? থাকে তো। আচ্ছা চেষ্টা বা কুশিশ করলে কি অসুবিধা! জানিনা, আমাদের মুসলিম নেতৃত্ব কিসের শরমে ডাইমেনশানস বা মোহনায় মৌজ উৎরে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় একেবারে নাবালেগী চরিত্রে আবির্ভূত হন। নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের চেয়ে তারা বেশী প্রমাণ করতে চান যে, তারা আসলেই বেশী না লায়েক! বেকুব, অসহায়!

এই অসহায় অসহায় সুফীয়ানাগীরির সুযোগ নিয়ে মুসলিম মানস ও বিশ্বাসের মূলে আরো ভয়ঙ্কর একটি আঘাত করেছে প্রতিপক্ষ-শত্রুরা। তারা নিজেদের ক্ষমতা এবং তাদের নাতি-পুতিদের ক্ষমতা এমনকি আরো শতশত বছরের ক্ষমতার চিন্তা করে ভয়ঙ্কর সব পরিকল্পনা সজিয়ে নেয়। তাদের সেই ষড়যন্ত্রের একটি উৎকৃষ্টতম দলিল খুঁজে পাওয়া যায়-
Cambridge University Press সম্পাদিত ও প্রকাশিত Separatism Among Indian Muslims: The Politics of the United Provinces’ Muslims, 1860-1923/ By- Francis Robinson/ Cambridge University Press, 2007 এ। আমাদের সম্মানিত ১০ জন আলেম এর নাম পওয়া যায় সেখানে। যারা মুসলিম সমাজের নেতৃত্বে ছিলেন অথচ তারা নিয়মিত বৃটিশ সরকারের বিরোধীতায় মশগুল থাকেন এবং নিজেদের মাঝে পরস্পর দ্বন্দ-বিদ্বেষ ছড়িয়ে চলছিলেন। ফলে বৃটিশরা নিরপাদে ছিলো আর মুসলিমরা শাসক হতে গোলামে পরিণত হয়। সেই সম্মানিত আলেমগণ প্রতিমাসে বৃটিশ সরকার হতে বখরা/সেলামী/দালালী নিতেন। তাদের নাম-ধাম এখানে দিতে পারি। কিন্তু না। আমি সেই কাজটি করার জন্যে কলম ধরিনি। আমরা উদ্দেশ্য সেটা নয়। আমি শুধু দেখিয়ে দিতে চাচ্ছি যে মুসলিমদেরকে নানান শাখা, উপশাখায় ছোট খাটো বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি করে হানাহানি বিবাদ বিষম্বাদে কিভাবে লিপ্ত করা হয় এবং সেই লেলিয়ে দেয়া আগুন এখনো দাও দাও করে জ্বলছে সর্বত্র।

অনেক কষ্ট কাঠিন্য, সংগ্রাম সাধনা, আত্মদানের মাধ্যমে দ্বি-জাতি তত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। সেই স্বাধীনতা বৃটিশদের নিকট হতে হলেও তার পূর্বে অনেক বার জালিম বৃটিশদের অধিনতার মাঝে থেকেও মুসলিমগণ এবং ভারতের বিভিন্ন দলিত সম্প্রদায় অভিজাত হিন্দুদের বৃটিশ সমর্থিত জুলুম নির্যাতন হতে মুক্ত হতে সংগ্রামের পথে নেমে আসেন। অনেক প্রতিবাদী সংগ্রামীর জীবন ক্ষয় ঘটে। রক্ত নদী সাঁতরে কূল পায়নি অসংখ্য অধিকার এবং স্বাধীকার আন্দোলন।

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন অবশেষে এক অনন্য সফল পরিণতি লাভ করলেও অভিজাত রাবীন্দ্রিক বলয় সেই আন্দোলনে ইংরেজ সমর্থন নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লে ১৯১১ সালে এসে ভেস্তে যায় এই বাংলার (বাংলাদেশে) স্বাধীনতার একটি মোক্ষম পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে আবারো সংগঠিত হয় আন্দোলন সংগ্রাম। অনেক রক্ত ঝরার পরে মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করে এই জাতি।

এক পর্যায়ে যখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো যে, কিংবা ইংরেজ মদ্যপ গুণ্ডা শাসক শ্রেণী এবং উচ্চ ক্ষমতাধর ব্রহ্মন্যবাদী অভিজাত মুৎসুদ্দিরা একাট্টা হয়ে নির্যাতিত গণমানুষের জন্যে বিশেষ করে উপহমাদেশের মুসলিমদের জন্যে আর কোনো নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদার বিন্দু-বিসর্গ পরিমাণ জায়গা অবশিষ্ট রাখতে নেই এহেন দানবীয় অত্যাচারের নারকীয় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে ঠিক তখন কৃষকদের উপর চাপিয়ে দেয়া জুলমবাজীর কর/ খাজনা বিরুধী গুচ্ছ গুচ্ছ প্রান্তিক আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। সেই প্রান্তিক আন্দোলন যখন তরুণ শহুরে কলম যোদ্ধাদের আকৃষ্ট করে এবং তাদের সাহসী কলমে বারুদ ফলতে থাকে। তখনি বেরিয়ে আসেন কাজী নজরুল ইসলাম সহ অনেকেই। গঠিত হতে থাকে জাতীয় রাজনৈতিক দল সমূহ এবং মোর্চা। জাতীয় নেতৃত্বে প্রাণ সঞ্চার করে সেই প্রান্তিক আন্দোলন সমূহ।

ঠিক এখন যেমন আমাদের বাংলাদেশে এই চরম রাজনৈতিক শূণ্যতার প্রেক্ষাপটে; চরম নৈরাজ্যের গহীন অতলে অন্ধকার নৈরাশ্য ভেদ করে যেমন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে। তাদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং যোগ দেয় সারাদেশের ছাত্ররা ৫৬% কোটা সংশোধেনর দাবীতে। সেই আন্দোলনকে মাঝপথে অপহরণ করতে ব্যর্থ হয়ে অমনি ভীত-সন্ত্রস্ত্র ভীত্তিহীন শাসক গৌষ্ঠির হৃৎকম্পন আরম্ভ হয়ে বাছ-বিচারহীন ভাবে সকল কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।

গণপরিবহনে নৈরাজ্য ঠেকাতে মৃত্যু মিছিল থামাতে নেমে আসে মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিশোর এবং শিশুরা। সেই আন্দোলন জনগণের পূর্ণ সমর্থনে সফলতা পায়। ইতিহাসের নির্লজ্জ মিথ্যাচারীরা সে সময় নিয়মিত টিভিতে মিথ্যাচার হতে খানিকটা রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তির প্রলাপ সহ তাদের পঁচা জিহবা গুটিয়ে নেয়। মানুষ দালাল টেলিভিশন দেখা প্রায় বন্ধ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুক এবং ইউ.টিউব আরো বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠে এই ভাটির দেশে। আমাদের হায়দার হোসেন Haidar Hosen, সায়ান ওয়াহিদ Sayan Wahid রা হয়ে ওঠেন সময়ের কণ্ঠস্বর।।

আমরা স্বাধীনতা শব্দটি সকাল-বিাকলে উচ্চারিত মন্ত্রের মতো আয়ত্ব করেছি বটে। কিন্তু এই শব্দের সাথে জড়িয়ে থাকা প্রাণের উপাদান বিষয়ে আর একটিও শর্ত পূরণের ধারে কাছে নেই আমরা। আমাদের নেতৃত্ব সুগঠিত নয়। বেহাল বেখবর বোহেমিয়ান এর দশা।

আমাদের নাগরিকগণ পরিশ্রমি। আমাদের সম্ভাবনা সমূহ উজ্জ্বল। আমাদের মেধা সমূহ সুতীক্ষ্ণ। আমাদের প্রতিপক্ষ ধূর্ত। আমাদের রাজনীতি পরকীয়ায় আক্রান্ত! ফলে আমাদের সকল ভালো কিছুর স্থান সংকীর্ণ হয়ে আসছে। আমাদের এখানে মন্দেরা মহানন্দে মহিরুহ লাভ করে। আমাদেরকে বিশ্ব পরিব্রাজক ইবনে বতুতা নাকি বলেছিলেন- “ধনে সম্পদে পরিপূর্ণ দোজখ”।

সর্বোপরি সতর্কতার জন্যে এবং বালখিল্যপনা ত্যাগ করার জন্যে এখনি যত্নবান হতে হবে। এখনি অযৌক্তিক অহেতুক কু-তর্কে জাড়ানো হতে নিজেদের মুক্ত করতে হবে। সামনে পাতানো ষড়যন্ত্রের জালটি আগে অতিক্রম করি আমরা। তার পরে আর কী কী ষড়যন্ত্রের জাল বিছায় প্রতিপক্ষ দেখা যাবে।

জনগণের প্রতিপক্ষরাই আজ জনগণের পক্ষ বলে পরিচিতি লাভ করেছে! এটাই একটি মৌলিক সংকট। এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ট্রাজেডী। এই প্রতিপক্ষ তাদের গৌষ্ঠি পরম্পরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা স্বত্বেও নাগরিক মর্যাদা এবং মানবিক অধিকার সুরক্ষায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

অপরদিকে ইসলামপন্থিরা কী করেছে? তারা দেশের ভাবনার চেয়েও বেশী ভেবেছে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। এই ইসলামপন্থিদের প্রায় সবারই একটি স্লোগান রাজপথ কাঁপিয়েছে নিজেদের শক্তি, বুদ্ধি. বিবেক এবং তারুণ্যের চরম অপচয় ঘটিয়েছে। সেই স্লোগানটি হলো- “ রুশ, ভারত, মার্কিন।। ফুরিয়ে গেছে তোদের দিন”। এই ইসলামপন্থিরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ-বিভেদ প্রকটতর পর্যায়ে নিয়ে যেতেও কসুর করেনি। তারা নিজের মধ্যে এবং ভিন্ন ধর্মের সৌন্দর্য সমূহের মাঝে কূলশ বিনিময় না করে ষড়যন্ত্রকারীদের ফ৭াদে পা দিয়েছে বার বার। তারা সেবা এবং মানুষের অধিকার আন্দোলনে নজর না দিয়ে কেবল আবেগ তাড়িত হয়ে ইসলাম, ইসলাম করে ঈমান গেলো, ঈমান এলো, বলে ডাক-চিৎকার করেছেন। ক্ষমতামুখী ভণ্ডরা তাদেরকে সিগারেটের মতো ব্যবহার করছে। শুকটান দিয়ে সিদ্ধি হাছিল করে ছুঁড়ে ফেলছে। অভিজাত গুণ্ডারা যেমন প্রকাশ্য রাস্তায় সিগারেটের শেষাংশে সর্বশেষ প্রজ্বলিত আগুনকে নিষ্প্রয়োজন ঘোষনা দিয়ে ঠোঁট বাঁটিয়ে বাঁ-পায়ের বুটের তলায় পিষ্ট করে বীরত্ব দেখিয়ে হন হন করে হেঁটে যায়। ঠিক তেমনি করে ইসলামপন্থিদেরকে নির্বাচনে ব্যবহার করে সরকার গঠন করে চরম অবমূল্যায়নের ক্লেদ চাপিয়ে হনহনিয়ে সরকার চালিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে সময় পার করেছে জনগণ এবং গণতন্ত্রের প্রতিপক্ষরা। এই সব ঘটনাতো আমার মতো পুচকে রাজনৈতিক কর্মীর অহরহ চোখে দেখা। জীবনের অভিজ্ঞতা এবং জীবনের রক্ত-ঘামের অর্জন।।

তাহলে এখন উপায় কী? কী করতে হবে আমাদের ?
যা যা করতে হবে তাই বলছি এবার একটু চা-পানি পান করে নিয়ে বসা যাক!!
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার-
ইসলামের হুকুম হইলো এই যে, ————-
কুরআন বলছে এই যে, ————-
হাদিস বলছে এই যে, ————-
নবী (সঃ) বলেছেন এই যে, ————-
আমার পীর সাহেব বলেছেন এই যে, ————-
অমুক বলেছেন এই যে, ————-
তমুক বলেছেন এই যে, ————-
অমুক বইয়ে লিখেছে এই যে, ————-
অমুক কিতাবে লিখেছে এই যে, ————-!

ফলে এটা রাষ্ট্রকে মানতে হবে। সরকারকে মানতে হবে। এটা বিচারককে মানতে হবে। আদালতকে মানতে হবে। এটা মজুতদারকে মানতে হবে। এটা সুদ-ঘুষ খোরদেরকে মানতে হবে। এটা ভেজালকারী দোকানদারকে মানতে হবে। এটা পুলিশকে মানতে হবে। এটা আওয়ামীলীগকে মানতে হবে। এটা বি.এন.পি কে মানতে হবে। এটা নাস্তিকদেরকে মানতে হবে। এটা সবাইকে মানতে হবে। এভাবে না বলে। কিংবা এই ধরণের মন-মানসিকতা পোষন না করে আরো সহজ পথে অনেক সহজেই আসল বা প্রকৃত জনকল্যাণের কাজটি করা যায়। অবশ্যই উক্ত সব বিষয়ে জ্ঞানার্জনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির দ্বারা অব্যাহত থাকবে।

আমাদের সংবিধান যে অবস্থায় আছে। যে অবস্থায় আমাদের দেওয়ানী এবং ফৌজদারী আইন ও বিধিমালা, রাষ্ট্রের এবং সরকারের নিয়ম-নীতি, মূল্যবোধ, সামাজিক প্রথা, আইনের ব্যাখ্যা এবং রেফারেন্স, যাবতীয় অঙ্গীকার এবং প্রতিশ্রুতি, মৌলিক মানবাধিকার নীতিমালা, বিভিন্ন বিশেষ আইন এবং পদ্ধতিগত সুযোগ সুবিধা ইত্যাদিকে সামনে রেখে জন অধিকার এবং জন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কাজে কর্মসূচী প্রণয়ন, প্রয়োগ সহ বাস্তবায়ন করা যায়।

মানবাধিকারের দাবী সমূহের আগে ইসলাম জুড়ে দিয়ে এটা ইসলামী দাবী, ওটা ইসলামী মিছিল, এটা ইসলামী সমাবেশ, এটা ইসলাম প্রিয় মানুষের র‌্যালী। এভাবে ভেদ বিভেদকে মুসলমানরা কেনো উষ্কে দেবেন? এটাতো ইসলামী অনুশাসন এবং মুসলিম নীতির পরিপন্থি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এভাবেই চলে আসছে এই উপমহাদেশে ইংরেজ আসার পর হতে। তাতে কী মহান আল্লাহ খুশি হচ্ছেন? নিশ্চয়ই নয়। মানুষের কল্যাণের চেয়ে আর কোনো আমল চূড়ান্ত আমল নয় তাঁর কাছে।

আমি বলতে চাচ্ছি যে, যে কোনো সভ্য দেশের প্রচলিত আইনও বিধি সমূহ ভালো করে পাঠ-পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে- তা প্রায় ৯০% বা ৯৫% ইসলামী আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

ফলে যারা- মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার সমৃদ্ধ একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্যোগ বা রাজনৈতিক দল গঠন করে কাজ শুরু করতে চান এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র উপহার দিতে চান বঞ্চিত জনগণকে। তাদেরকে এবং তাদের সমর্থকদেরকে এবং সেই রাষ্ট্রের ইসলাম ধর্মানুসারী জনসমষ্টিকে বুঝতে হবে যে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা বিষয়টি কিভাবে নিলে সুবিধা হয়। এটা কারো ঈমান এবং আমলের হেরফের হবার মতো কোনো বিষয় নয়। বরং আমলকে আরো নিরাপদ এবং সহজ করবে। মনে রাখতে হবে এটা কেবল দূরদৃষ্টি সম্পন্নতার বিষয় বিতর্কের বিষয় নয়।

এই ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়ঃ
ধরুন, আপনি একজন শিশু চিকিৎসক। শিশুদেরকে তো সব কিছুই শেখাতে হয়। কারণ কোনো শিশুইতো মায়ের পেট হতে কিছুই শিখে আসেনি। তাই আপনি তাকে পেয়েছেন মাত্র কিভাবে বোতলের চিপি খুলতে হবে এটা শিখানো আরম্ভ করলেন। তার পরে তাকে বললেন, কত চামচ করে সে সিরাপ পান করবে।

সেই্ শিশুটি খুব খুশি, তার পিতা-মাতা ও খুশি। তাদের বাচ্চাটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে অনেক কথা বলেছে। শিখেছে বোতলের চিপি খোলার কৌশল যা তার পিতা-মাতাও কখনো জানতেন না। আহা!!

ফলাফল কি দাঁড়ালো দেখেন-
শিশুটি অনেক খুশি, তার বাবা মা ও খুশি। ওষুধ সে নিজে নিজেই খাবে। নিজেই সে এখন আস্ত পাকা ছেলে! বাহ্ বেশ! সেই শিশুটি বোতলের চিপি খুলতে গিয়ে সময় নিলো ঘণ্টা খানেক। কোনো মতেই সে পারছিলোনা। আচ্ছা মতো চেষ্টা করে তার পরে নিলো একটি ছুরি-। তার হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে গেলো। এদিকে তার ১০৩* জ্বর। সিরাপ খাওয়া ও হলোনা সময় মতো। তার বাবা মাকে ও সে আর বললো না। কারণ সে তো এখন আর যেনো তেনো শিশুটি নয় ! সে যে এখন আস্ত একটা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শিশু!

আপনারাই বলুন, এর পর শিশুটি নিশ্চয়ই তার ডোজ/ওষুধ গ্রহনের হিসেব বা পরিমাণটা ভুলে গেছে। কী বলেন!

এভাবে কোনো কিছু যতই সত্য হোক না কেনো। সত্যকে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় আবেগ দ্বারা চাপিয়ে না দিয়ে যদি আমরা একই বিষয়টিতে গণমানুষের প্রয়োজনের নিরীখে দেশের প্রচলিত আইন, বিধি, বিধান, নিয়ম, নীতি এবং সংবিধানের ধারা, উপধারা সহ বাধ্যতামূলক বিভিন্ন ঘোষনাপত্র জেগেট ইত্যাদি উল্লেখ করতঃ মৌলিক মানবাধিকার, সংশ্লিষ্ট বিষয়ীক সাধারণ এবং বিশেষ আইন নিয়ম-নীতি এমনকি প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধি-বিধান মোতাবেক দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির রেফারেন্স দ্বারা অনুপ্রাণিত করতে পারি প্রতিটি মৌলিক প্রয়োজনকে।

প্রয়োজন সমূহ যখন রাষ্ট্র উপেক্ষা করে তখন দাবী উঠবে। দাবী সমূহ যখন মূল্যায়ন করা হয়না তখন হয় আন্দোলন সংগ্রাম।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আমাদের পবিত্র ধর্মকে যাবতীয় বিতর্কের উর্ধৈ্ব রেখে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীর এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানগণের চরিত্র হনন বন্ধ করে। তাদেরকে হীন দলীয় রাজনীতির বলয়াবদ্ধ না করে সার্বজনীন পর্যায়ে রেখে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। বিভাজনের রাজনীতি, উচ্ছেদ এবং ধ্বংসের রাজনীতিকে “না” বলে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। খুন, গুম, সন্ত্রাস, ধর্ষন, দূর্নীতি, লুটতরাজ, অপচয়, মেধা ও টাকা পাচার রাষ্ট্রকে দেওলিয়া করে দিচ্ছে। নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটানো হয়েছে। এই অবস্থায় চলতে পারেনা। মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত হাসি ঠাট্টার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যারা অপরাধ নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্বে আছে তারা অপরাধের ঠিকাদারী নিয়ে জঘন্য সকল অপরাধ করে আবার সেই গর্হিত অপরাধের সফলতায় উল্লাস করছে প্রকাশ্য অনুষ্ঠান করে। ধন্যবাদপত্র পাঠিয়ে অধঃস্থনদের উৎসাহিত করছে। জবাবদিহিতার কোনো রেশমাত্রই নেই কোথাও। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশতম প্রহরে দাঁড়িয়ে আমরা কী সিদ্ধান্ত নিতে পারি না! আমরা নতুন হয়ে উঠতে চাই। আমরা একটি পথ খুঁজে ফিরছি। পথ আমাদের ডাকছে।

একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ হলো- একটি রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে পরিপূর্ণ কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবকত্ব সূলভ সাধারণ রাজনৈতিক চরিত্র পরিগ্রহ করা যা মানুষের কল্যাণ সাধনে এবং একটি জাতি-রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম। সেই সক্ষমতা অর্জন করার সাথে সাথে জনকল্যাণ মূখী নেতৃত্বের সামগ্রীক যোগ্যতর উন্নয়ন ঘটাবে। যোগ্যতম রাষ্ট্রসেবকদেরকে সংগঠিত করবে নির্মোহচিত্তে। সর্বোপরি একটি বিশাল দৃঢ় আস্থাশীল সমর্থক গৌষ্ঠি সৃষ্ঠি করবে। গণমানুষের পরম ভালোবাসার স্থান হবে সেই রাজনৈতিক আবহ। আমরা সেই রাজনীতির শুরুটা দেখতে চাই। করতে চাই সেই সুন্দরের প্রারম্ভিক উচ্চরণ। যেখানে দাঁড়িয়ে এদেশের সরল সহজ হত-বঞ্চিত মানুষ বলবে- “ এ আমার বাংলাদেশ কল্যাণ রাষ্ট্রঃ আমার সকল অধিকার আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছো ‍তুমি” জিন্দাবাদ প্রিয় মাতৃভূমি, চিরজীবি হও তুমি, চিরজীবি হও, চিরজীবি হও,চিরজীবি হও”।
চট্টগ্রাম- ০৬/০৭/২০১৯ ইং

লেখক পরিচিতি- মোস্তফা নূর, আইনজীবী, গীতিকবি, প্রাবন্ধিক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তা্ই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়

* নিউজিল্যাণ্ড মসজিদে হামলা, জুমার নামাজে হত্যা ট্রাজেডি

 

কোন মন্তব্য নেই