জিম্বাবুয়ের ভঙ্গুর অর্থনীত -১
যে দেশে ডিম বা পাউরুটি কিনতে থলেভর্তি টাকা লাগে!

0
.

সাউথ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে শওকত বিন আশরাফঃ

পাড়ার দোকান থেকে দৈনন্দিন ডিম,পাউরুটি কিনতে গিয়ে যদি থলেভর্তি টাকা নিয়ে যেতে হয়, তাহলে চমকে ওঠাই স্বাভাবিক। ঠাট্টা নয়, ভয়াবহ মূদ্রাস্ফীতির জেরে এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন জিম্বাবুয়ের বাসিন্দারা।

দেশের অর্থনীতির হাল ভয়াবহ।মূদ্রাস্ফীতির হার তলানিতে ঠেকার দরুণ অর্থনীতির এই করুণ অবস্থা। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) এই সংবাদ ফাঁস করেছে দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক। বর্তমানে জিম্বাবুয়ের ৩৫ লাখ কোটি ডলার দিয়ে কিনতে হয় ১ মার্কিন ডলার। মূদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়ায় ৫০ কোটি শতাংশে। যার জেরে রোজ বাজার করতে যেতে প্লাস্টিক ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে বের হতে হয় বাসিন্দাদের।

আফ্রিকার এক সময়ের খাবারের ভাণ্ডার ধরা হত জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু শিল্প কারখানার অবব্যবস্থাপনা, খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও চরম দূর্নীতির মাধ্যমে এই অবস্থার পতন ঘটে। ২০০৯ সাল থেকেই জিম্বাবুয়ের নিজস্ব মুদ্রা নেই। পণ্য কিনতে জিম্বাবুয়ের নাগরিকেরা তাই মার্কিন ডলার ও সাউথ আফ্রিকার রেন্ডের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

২০০৯ সালে ডলারকে দেশের প্রধান লেনদেন মুদ্রা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ইউয়ান, ইয়েন, রুপি ও অস্ট্রেলিয়ান ডলারকে লিগেল টেন্ডার মানি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। জাতীয় মুদ্রা পরিত্যাগ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বহু মুদ্রাভিত্তিক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে দেশটি।

কয়েক বছর ধরে নগদ ঘাটতির কারণে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। এখন প্রশ্ন হলো, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নগদ সরবরাহ পাওয়া যাবে কোত্থেকে? মূল সমস্যা হচ্ছে বরার্ট মুগাবে চলে গেলেও দলের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ, এমারসন নানগাগওয়াও জানু পিএফ দলের সদস্য। আর এটাই চিন্তিত করছে পশ্চিমা দেশগুলোকে। এ মুহূর্তে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

তবে সংস্থাটি সহযোগিতায় ইচ্ছুক হলেও কোনো চুক্তিতে যেতে অনেক নিয়ম মানতে হয় তাদের। অবশ্য চীনের কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করতে পারে জিম্বাবুয়ে।গত দুই দিন জিম্বাবুয়ের হারারে ঘুরে ফিরে এ অর্থনীতির এই করুন চিএ চোখে পড়েছে।ব্যাংকের সামনে লম্বা লাইন অথচ ব্যাংকে টাকা নাই এমন অভিযোগ জিম্বাবুয়ের নাগরিকের।
(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই