জিআরপি থানায় গৃহবধূকে আটকে রেখে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত শুরু

0
ব্রেকিং নিউজ
  •  

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

.

খুলনা রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভেতর নারীকে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রেলওয়ে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপি ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করে।

রেলওয়ে পুলিশের অন্য দুই কর্মকর্তাকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

তাদেরকে আগামী সাত দিনের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২ আগস্ট সন্ধ্যায় বেনাপোল থেকে খুলনাগামী কমিউটার ট্রেনের এক কামরা থেকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ এক নারীকে আটক করেন রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক লতিকা বিশ্বাস। রাতেই ওই নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। ওই নারীকে রাতে থানায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। রাতে থানার ভেতরেই ওই নারীকে ধর্ষণ করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান। এরপর একে একে পুলিশের আরও চার সদস্য তাঁকে ধর্ষণ করেন।

সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মো. শফিউজ্জামান দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, ওই নারীর শরীরে কোনো ক্ষতস্থানের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু অনেক সময় ক্ষত পাওয়া না গেলেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। সংগৃহীত আলামত পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরএমও এবং ওসিসির সমন্বয়কারী ডাক্তার অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অভিযোগকারির ডাক্তারি পরীক্ষার পর নমুনা ঢাকায় ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন আসতে এক মাস সময় লাগতে পারে।

ধর্ষিতার দুলাভাই শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর জানান, গত ২ আগস্ট শুক্রবার তার শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান প্রথমে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর আরো চার জন পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় ‘গ্রেফতার’ দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। তিনি আরো জানান, আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর তার শ্যালিকা থানায় তাকে যেভাবে গণধর্ষণ করা হয়েছে তা তুলে ধরেন। ধর্ষিতার বড়ো বোন অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় তিনি দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ফেনসিডিলের মামলা থেকে রক্ষা পেতে সে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করেছে। ওই মহিলাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ ২ আগস্ট আটক করা হয়। সেই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে গিয়ে সে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে।

*“স্যার, আমাকে এভাবে শেষ করে দিবেন না, ওসি বলে-তোর এখনও ভরা যৌবন”

 

কোন মন্তব্য নেই