৪৮ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি
ভিক্ষা করে সংসার চালান নোয়াখালী মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক

4
ব্রেকিং নিউজ
  •  

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

.

গিয়াস উদ্দিন রনি, নোয়াখালী:

নোয়াখালীর সেনবাগো কাদরা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ভিক্ষা করে সংসার চালান।  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অস্ত্র জমাদানের সার্টিফিকেট থাকার পরও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেননি তিনি।

একাধিকবার ভিক্ষার টাকা সাবেক উপজেলা কমান্ডারের হাতে তুলে দিলেও এখনও মুক্তিযোদ্বার তালিকায় নাম না উঠায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সহযোদ্ধারা। দেশের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আকাংখা শামসুল হকের।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জামালপুরের শামসুল হক ১৯৭১ সালে বয়সে ছিলেন তরুণ। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে শত্রুমুক্ত করতে অন্যাদের সাথে তিনিও ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ এলাকা সেনবাগ ও পাশ্ববর্তী সোনাইমুড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেননি শামসুল হক। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অস্ত্র জমাদানের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে বিভিন্ন দফতরে বারবার ধরণা দিয়েও স্বীকৃতি না পেয়ে মনের দুঃখে ও লজ্জায় এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম ভিক্ষা করে সংসার চালান।

২০১৭ সালে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও তার সহযোগীর হাতে ভিক্ষার ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন নাম তালিকাভুক্তির জন্য। সেনবাগ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন ৮২৭ জন। আরও ১৯৭ জনকে ভাতার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবী, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন সাবেক উপজেলা কমান্ডার।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাবেক কমান্ডার টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শামসুল হক মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় তিনিও মর্মাহত।

এ বিষয়ে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান পাঠক ডট নিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক’র নাম লাল মুক্তি বার্তা ও ভারতীয় তালিকায় নেই। তবে যাচাই বাচাই করে ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, সেনবাগ উপজেলার সাবেক কমান্ডার আবদুল ওহাব ২০১৭ সালে শামসুল হকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও তিনি শুনেছেন।

এ সাবেক কর্মান্ডার কিছু দিন আগে দুদকের মামলার জেল থেকে জামিনে আসে। তবে এ বিষয়ে জানা মাত্র আমি তাৎক্ষণিক ওই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা করি এবং সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করি। ভব্যিষতেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শামসুল হককে সার্বিক সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

4 মন্তব্য