বিক্রি না করে অনেকে মাটি চাপা দিয়েছে
৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে চামড়া বিক্রি হয়েছে! (ভিডিও)

1
.

এবারই ৩১ বছরের মধ্যে কোরবানির পশুর চামড়া সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনছেন ২শ টাকারও কম দামে। আর এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে।

গেল বছরের লোকসানের অভিজ্ঞতায় এবার অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া ব্যবসা থেকে সরে এসেছেন। এরপরও যারা নেমেছেন, তারা নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনছেন। তাদের চোখেমুখে পুঁজি হারানোর ভয়। তারা বলছেন, যদি কেনা দাম না পাই। আর চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের কাছে সব চামড়া কেনার মতো নগদ টাকা এই মুহূর্তে নেই।

বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের বা এলাকায় ছোটখাটো সিন্ডিকেটের উপস্থিতি চোখে পড়ত। এবার তাদেরও খুব একটা দেখা মেলেনি।

চামড়ার এই ভয়াবহ দর পতনে অনেকে চামড়া বিক্রি না করে ক্ষোভে কেটে টুকরো করে মাটি চাপা দিয়েছে।

ঈদের দিন সোমবার সকালে সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে। বেলা ৩টা পর্যন্তও কোরবানির চামড়া কেনার জন্য কেউ আসেনি। যারা এসেছেন, তারাও চামড়ার খুব কম দাম বলায় বিক্রি হয়নি।

এছাড়া রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা খুবই কম। বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজন বিনা পয়সায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ওই একই চিত্র চোখে পড়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা প্রতি বছর একই কাহিনি করে। নানা অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দামও তারা দিতে চায় না। তাই মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লস খায়। এবারো লসের ভয়ে তাই নেকেই ব্যবসায় নামেনি।

এবার ঢাকায় গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারাদেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা। এছাড়া বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬শ টাকায়। আর মাঝারি মানেরগুলো বিক্রি হচ্ছে ৩শ থেকে ৫শ টাকার মধ্যে। যা গেল বছরও বিক্রি হয়েছিল ৭শ থেকে ৮শ টাকায়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চিন্তাভাবনা করে চামড়া কিনতে হবে। কারণ, আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া সংগ্রহ না করে যারা লবণ দেবেন, তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনবো।

বিষয়টি খোলসা করে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, এই মুহুর্তে সব চামড়া কেনার মতো নগদ টাকা আমাদের হাতে নেই। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এবার সব চামড়া আমরা কিনতে পারবো না।

তিনি মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, যেসব মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া কিনবেন, তারা যেন ঈদের দিন চামড়া বিক্রি করার কথা মাথায় না রাখেন। চামড়ায় ভালোভাবে লবণ দেয়ার মানসিকতা নিয়ে চামড়া কিনতে হবে।

সরকারের নির্ধারিত দামে ঢাকায় ট্যানারি মালিকদের কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা।

উত্তরার একদল ব্যবসায়ী জানান, তারা গরুর চামড়া সর্বনিম্ন আড়াইশ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে সাতশ টাকায় কিনেছেন। গেল বছরের লোকসানের কারণে এবারো লোকসানের ভয়ে রয়েছেন এই ব্যবসায়ীরা।

আবার প্রতি বছরের মতো এবারো বেশি দামে চামড়া কিনেছেন এমন ব্যবসায়ীর সংখ্যাও কম নয়। রাজধানীর বনানী, খিলক্ষেত এলাকার অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

প্রথম মন্তব্য