খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে: ডা.শাহাদাত

এ সরকারের আমলে বাচা চেয়ারম্যান সহ ১৫৯ এর অধিক মানুষ গুম হয়েছে- আমীর খসরু

7
.

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি’র ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, চট্টগ্রামের নজরুল ইসলাম বাচা চেয়ারম্যানসহ ১৫৯ এর অধিক মানুষ গুম হয়েছে। যারা গুম হয়েছে তাদের পরিবার এখনও তাদের ফিরে পাইনি। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যখন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন থেকে গুম, খুন, নির্যাতন বেড়ে যায়। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক কাঠামো, নির্বাচনী ব্যবস্থা, মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার সব কিছুই কেড়ে নিয়েছে। তেমনিভাবে ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচাকে ঘুম করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার কোনো হদিস সরকার দিতে পারে নাই।

তিনি শুক্রবার (৩০ আগষ্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবসে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে গুম হওয়া বিএনপি নেতা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ওরফে বাচা চেয়ারম্যানের পরিবারকে দেখতে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে শান্তনা দিতে গিয়ে এ কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরিবারকে সান্তনা দিতে গিয়ে আরো বলেন, বিএনপি নজরুল ইসলাম বাচা চেয়ারম্যানকে ভুলিনি। আমরা আপনাদের পাশে আছি। তাই আপনাদের দেখতে এসেছি।

এসময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে এদেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে। এই সরকার বিনা ভোটে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে গুম, খুন, নির্যাতন চালিয়ে ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ শাসন করছে। এই সরকারের অধীনেই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী গুম ও খুন হয়েছে। এই দেশ স্বাধীন হওয়ার কোন সরকারের আমলে তা হয়নি। আজ এই আন্তর্জাতিক এই গুম দিবসে বিএনপি এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, মৌলিক অধিকার, ভোটার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মাঠে আছে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন বোয়ালখালী বিএনপি সভাপতি ও চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচ অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আজ তার পরিবার তাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এই সরকারকে একদিন গুম খুন নির্যাতনের জন্য জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব¡ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রকেই এ দায়িত্ব নিতেই হবে। গুম হচ্ছে যেহেতু আতঙ্কও তৈরি হচ্ছে সর্বত্র। বিচার বহির্ভূত হত্যা হচ্ছে বলেই গুম ও খুন বেড়ে যাচ্ছে। এ দায় সরকারের।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি এম এ আজিজ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, যুগ্ন-সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ তৈয়ব, কামরুল ইসলাম, বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আবু, নগর বিএনপি’র সহ সম্পাদক মোঃ শাহাজান, আব্দুল আজিজ, আলমগীর, বাকলিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আফতাবুর রহমান শাহীন, ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবদুল্লাহ অল ছগির, নগর বি এন পির সদস্য আলী ইউসুফ, হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ, সাহেদা বেগম, বাকলিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, আরো উপস্থিত ছিলেন বাঁচা চেয়ারম্যানের ছোটভাই চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান, বাকলিয়া থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার, মোহাম্মদ জসিম বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নীরব, যুবদল নেতা আসাদুর রহমান টিপু, মাসুম, নুরুদ্দিন, মুসা, মহিলা দল নেত্রী কোহিনুর বেগম, ফাতেমা বেগম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

7 মন্তব্য

  1. বিএনপি নেতারা খুব সহজেই বলে ফেলে এই সরকারের আমলে এতজন ঘুম হয়েছে কিন্তু যদি আমরা তাদেরকে বলি কতজন গুম হয়েছে এবং কারা কারা ঘুম হয়েছে সেই বিষয়গুলো আমাদের নিকট প্রমাণস্বরূপ তুলে ধরতে হবে দেখা যাবে এরা কিছুই তুলে ধরতে পারেনি। গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসন কিছু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে তুলে নেয় নি সেটা আমরা অস্বীকার করব না কিন্তু কিছু মানুষকে চেনা তুলে নেওয়ার পরেও তাদের নামগুলো এই লিস্টে যোগ করার মাধ্যমে মিথ্যাচার করছে বিএনপি সেটি আমরা খুব ভালো করে বুঝতে পারি।

  2. এই সরকারের আমলে বাঁচা চেয়ারম্যানসহ ১৫৯জন গুম হয়েছে বলে আমীর খসরু অভিযোগ করেছেন।কিন্তু বিএনপি নেতারা যদি চাই তাহলে ১৫৯জন থেকে ১৫০জন কোথায় এবং কিভাবে আছে তা জানা যাবে।নির্বাচন আসলেই বিএনপির নেতারা গুমের শিকার হয়।আর এই গুমের ঘটনা ঘটে মূলত তাদের দলীয় কোন্দলের কারণে।তাছাড়া খুম হওয়া অনেক ব্যাক্তি আত্মগোপন করেছে মামলা থেকে বাঁচার জন্য এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য

  3. আচ্ছা আপনারা যে বলছেন বর্তমান সরকারে আমলে বাচা চেয়ারম্যান সহ ১৫৯ এর অধিক মানুষ গুম হয়েছে এইসব গুম আর হত্যার প্রমান দেখাতে পারবেন আপনারা ? এইসব গুম খুন করা বিএনপির মত দুর্নীতিবাজদের অভ্যাস বর্তমান সরকার এমন কোনো কাজ কখনো করে নি আর করবেই না । বিএনপির নোংরা নেতারা নিজেদের নেতাদের গুম করে এখন বর্তমান সরকারে নামে মিথ্যাচার করছে ।

  4. এইসব গুম খুন যে বর্তমান সরকারে আমলে হয়েছে সেই প্রমান কি দিতে পারবেন ? আর আপনাদের মত বিএনপির নেতারা এখন ক্ষমতায় আসার জন্যে যে পাগল হয়ে বেড়াচ্ছেন সেটার দেমের জনগন ভালো করেই দেখতে পাচ্ছে। বিএনপির নেতারা এখন নিজেদের নেতাকর্মীদের গুম করে সরকারে নামে মিথ্যাচার করছে । এইসব নোংরা খেলা বিএনপির মত দলই করতে পারে ।

  5. বিএনপি নেতা আমীর খসরু বলছেন এই সরকারের আমলে ১৫৯ জন নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন আর আমরা যদি খালেদা জিয়ার ভাষণ শুনে তাহলে তিনি বলেছেন বাংলাদেশে নাকি কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে আর জামায়াত বলছে বাংলাদেশে ৫০৭ জনকে গুম করা হয়েছে। এক একজন এক এক রকমের কথা বলছে যাদের কারো সাথে কারো কথার কোনো মিল নেই।এর দ্বারা আমরা বুঝতে পারছি আসলেই বাংলাদেশ যতটা না মানুষ গুম হয়েছে তার চাইতে বেশি গুম হয়েছে এমনটা প্রমাণে ব্যস্ত বিরোধী দলের রাজনীতি করা নেতাকর্মী গুলো।

  6. মাত্র ১৫৯জন?? এতদিন যে বলেছেন হাজার হাজার লোক নিখোঁজ সেটার কি হলো??মাত্র ১৫৯ জন কেন এখন??5 মে হেফাজতের কর্মসূচির পরবর্তী সময় আপনারা বলেছিলেন সেখান থেকে তিন হাজার লোক নিখোঁজ হয়েছে।হেফাজতের ঘটনার পর বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলো হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বলেছেন 500 লোক মারা গেছে।যখন উনার কাছ থেকে তালিকা দেওয়া হল তখন তিনি 100 জনের তালিকা দিতে পারেননি।

  7. গতকাল দেখলাম আপনাদের দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাহেব বলেছেন গত ১০ বছরে ১২০৫ জন কে গুম করা হয়েছে।বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি’র ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, চট্টগ্রামের নজরুল ইসলাম বাচা চেয়ারম্যানসহ ১৫৯ এর অধিক মানুষ গুম হয়েছে।

    তাহলে আমরা কোন সংখ্যাটি বিশ্বাস করবো?? ১২০৫ জন না কি ১৫৯ জন???