কাল রমা চৌধুরীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী, শিল্পকলায় দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান

1
.

একাত্তরের জননী সাহিত্যিক রমা চৌধুরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৩সেপ্টেম্বর। রমা চৌধুরী স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের সহযোগিতায় এ দিন বিকাল পাঁচটায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

স্মরণানুষ্ঠানে থাকবে রমা চৌধুরী’র আবক্ষ প্রতিকৃতি ভাস্কর্য উন্মোচন ও শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক সংগীত, রমা চৌধুরীর লেখা গান পরিবেশনা রমা চৌধুরীর কবিতা থেকে পাঠ, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা ও একাত্তরের জননী থেকে পাঠ এবং রমা চৌধুরীর জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র জঠরলীনা প্রদর্শন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে আরও রয়েছে সকাল ৯টায় রমা চৌধুরীর সমাধি বোয়ালখালীর পোপাদিয়ায় শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন, দ্বিপ্রহরে কৈবল্যধামে ঠাকুরভোগ।

উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানায় জন্মগ্রহণকারী রমা চৌধুরী এক কিংবদন্তীর নাম। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার সাহিত্যিক রমা চৌধুরী যুদ্ধের লেলিহান শিখায় দুই সন্তানও হারান। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করা রমা চৌধুরী সারা জীবন এক কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছেন। সেই লড়াই সংগ্রামের অস্ত্র হিসেবে তিনি হাতে নিয়েছিলেন কলম। তিনি নিজের লেখা গ্রন্থ নিজে প্রকাশ করে এবং নিজেই দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিক্রি করে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করে গেছেন। ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাঁর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে তিনি তিন সন্তানের শোকে আমৃত্যু খালি পায়ে ছিলেন। তিনি নিজের প্রচেষ্টায় ১৮টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। রমা চৌধুরীর এই জীবনসংগ্রাম দেশে বিদেশে অনেকের কাছেই গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। অদম্য মানসিক প্রজ্ঞায় তিনি সকল লোভ লালসার ঊর্ধে উঠে এক স্বকীয় ইতিহাস রচনা করে গেছেন। রমা চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দেখা করতে যান ২০১৩ সালে। অস্বচ্ছল জীবনযাপনকারী রমা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাব বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন।

রমা চৌধুরী মরণোত্তর ‘বেগম রোকেয়া পদক’ সহ বেশকিছু সম্মাননা ও পদক পেয়েছেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর গত বছর ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।