ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক ও নিরাপত্তা বিষয়ক খুটিনাটি তথ্য

0
.

আজকাল অনেক শুনি যে “আমার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কেউ আমার ফেসবুকে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করছে। আমার একাউন্ট থেকে অনেকের কাছে বার্তা চলে যাচ্ছে ” ইত্যাদি।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকিংয়ের চেষ্টা আমাদের দেশে নতুন না। ইন্টারনেটের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা অনেক বেড়েছে।

ফেসবুকের জনপ্রিয়তা দিন দিন আমাদের দেশে বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বিভিন্ন একাউন্টে ব্যক্তিগত তথ্য থাকা এবং সামাজিক বা ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকার কারণে একাউন্টগুলো অনেক ক্ষেত্রেই হ্যাকারদের লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে।

কিছু নিরাপত্তা যা ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে হ্যাক হওয়া থেকে নিরাপদে রাখবেঃ

ফেসবুকের নিরাপত্তা জন্য সবার আগে আপনার ফেসবুক থেকে নিরাপত্তা পাতা Security and Login যেতে হবে ।

সবার আগে যেটা মাথায় রাখতে হবে তা হল পাওয়ার্ড বা সঙ্কেত শব্দ যা দিয়ে আপনি আপনার ফেসবুক একাউন্টে প্রবেশ করেন

ফেসবুকের পাসওয়ার্ড কখনো অন্য কোন কোথাও ব্যবহার করা উচিত নয় এবং কারো সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। পাসওয়ার্ড হতে হবে ছোটবড় অক্ষর, নম্বর ও বিশেষ অক্ষর (@ ~# !*_) মিলিয়ে, অন্ততপক্ষে আট সংখ্যার, যা সহজে কেউ ধারণা করতে না পারে।

তবে কারো নাম, জন্মতারিখ, বিয়ে বার্ষিকী, পরীক্ষার বছর, মোবাইল নম্বর, বিশেষ তারিখ ইত্যাদি পাসওয়ার্ড হিসাবে সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ।

আপনার একাউন্টে লগিন করার পূর্বে দেখেন ওয়েবসাইট ইউআরএল (www.facebook.com) কিনা। তবে সবসময় অন্যের উপর ভরসা না রেখে নিজেই টাইপ করুন সেক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ হবে ।

আপনার ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ডিভাইস ছাড়া অন্য কোথাও থেকে লগ ইন করলে অবশ্যই ফেসবুক ব্যবহার শেষে লগআউট করুন।প্রয়োজনে লগআউট হয়েছে কিনা নিজে চেক করুন। যদি ভুলে যান, তাহলে ফোন বা অন্য কোন কম্পিউটারে ফেসবুকে লগইন করে সিকিউরিটি এন্ড লগইন সেটিংয়ে গিয়ে দেখতে পাবেন, সর্বশেষ কোথায় আপনি লগইন করেছিলেন। সেখানে ডিভাইস সনাক্ত করে লগআউট করে দিতে পারেন।

যদি ঘনিষ্ঠ কারো কাছ থেকে কোন ইমেইল, মেসেঞ্জারে বার্তা, বা পোস্ট পান, যা হয়তো তার স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মেলে না, সবচেয়ে ভালো হবে সেটায় ক্লিক না করা বা সাড়া না দেয়া। যেমন কেউ হয়তো লিখতে পারে যে, সে কোথাও বেড়তে গিয়ে বিপদে পড়েছে অথবা আপনার মেসেঞ্জারে এমন একটি লিংক পাঠিয়েছে, যার কোন কারণ নেই। অথবা আপনার গোপনীয় কিছু আছে বলে লিংক এর ক্লিক করতে বললে অবশ্যই তা এড়িয়ে যাবেন । এক্ষেত্রে তাকে আলাদাভাবে একাউন্টে নক করে বা বার্তা পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন বা দ্বি-স্তর নিরাপত্তা অবশ্যই চালু করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড পেলেও এই কোড না থাকার কারণে লগইন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি আপনি গুগল থেকে অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও এছাড়া পেন ড্রাইভের মাধ্যমে ইউনিভার্সাল সেকেন্ড ফ্যাক্টর বা রিকভারি কোড ব্যবহারেরও সুযোগ আছে।

তিন থেকে পাঁচজন বিশ্বস্থ বন্ধুকে নির্বাচন করাতে পারেন, যাদের মাধ্যমে একাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হলে তারা facebook.com/hacked লিংকে গিয়ে রিকভারি কোড দিয়ে আপনার ফিরে পেতে সহায়তা করবে।

ফেসবুকে কেউ প্রবেশ করেছে বলে মনে হলেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত । তবে প্রতি দুই বা তিন মাস পর পর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত ।

মনে রাখবেন, হ্যাকাররা প্রথমে ই-মেইল আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করে। ই-মেইল আইডি হ্যাক করতে পারলে খুব সহজে ফেসবুক আইডিও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে।

ওপরের পন্থাগুলো অবলম্বন করলে আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হলেও পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। এমনকি আপনার সব ই-মেইল আইডি হ্যাকড হলেও বা আপনার ফেসবুকের ইমেইল আইডি বদলালেও মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে তা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
নিরাপদে থাকুক সবার ফেসবুক একাউন্ট।

লেখকঃ মামুনুর রহমান, আইটি বিশেষজ্ঞ।

কোন মন্তব্য নেই