সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিরা কে, কোথায়?

0
ব্রেকিং নিউজ
  •  

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

.

সালমান শাহ এর মা নীলুফার চৌধুরীর অভিযোগ আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন মিলে সালমান শাহকে হত্যা করে। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে আছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সালমানের স্ত্রী সামিরা, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ঢালিউড সিনেমার খল অভিনেতা ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি।

সালমান ভক্তদের মনে প্রশ্ন এই, আসামিরা এখন কে, কোথায়? জানা গেছে, সামিরা ও তার মা দেশেই থাকেন রাজধানীর বারিধারায়। ডনও ঢাকায় থাকেন। রাবেয়া সুলতানা রুবি এখন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। রুবি থাকতেন ফিলাডেলফিয়ায় স্বামী জিন চেনের সঙ্গে।

গত বছর নিউইয়র্ক ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টাইম টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাবেয়া সুলতানা রুবি সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে বলে জানান।  তিনি জানিয়েছিলেন-স্বামীর কাছ থেকে পালিয়ে এখন নিউইয়র্কে এসে থাকছেন তিনি।  তার এই বক্তব্যের পর স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সে ভিডিও এবং আবারও আলোচনায় উঠে আসে ৯০ দশকের জনপ্রিয় এ নায়কের মৃত্যুর বিষয়টি।

.

সালমান হত্যা মামলার আরেক আসামি আজিজ মুহাম্মদ ভাই একজন বড় শিল্পপতি। অলিম্পিক ব্যাটারি, অলিম্পিক বলপেন, এমবি ফার্মাসিটিউক্যাল, এমবি ফিল্ম, টিপ বিস্কুট, এনার্জি বিস্কুট এগুলোর মালিক তিনি । স্বপরিবারে তিনি এখন ব্যাঙ্ককে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর। রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, এ অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। অবশ্য সিআইডির প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সালমান শাহর মা নীলুফার চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজির আবেদন করেন।

.

একসময় মামলাটি তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। তবে র‌্যাব মামলাটি তদন্ত করতে পারবেন না- ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জ–৬ এর বিচারক এমন আদেশ দেন। এরপরই মামলাটি পিবিআইকে দেওয়া হয় তদন্তের জন্য।

জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা ফের তদন্ত করবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সম্প্রতি সালমান শাহর বিউটিশিয়ান রাবেয়া সুলতানা রুবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে রাবেয়া সুলতানা রুবি বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেণনি, তাকে খুন করা হয়েছে।

.

এ বিষয়ে পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার (মেট্রো) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমিও শুনেছি, ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এটা আমাদের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগে আমাদের কাছে তেমন কোনো সূত্র ছিল না। কিন্তু ওই নারী দেশে নেই। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

‘আলামতের অভাবে মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা যাচ্ছে না’, উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সালমান শাহ হত্যা মামলায় কয়েক পর্যায়ে তদন্ত হয়েছে। অনেক আলামত নষ্ট হয়েছে। এ কারণে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে এ ভিডিওতে কিছুটা হলেও সংঘট ঘুচবে। অপেক্ষা করুন, সময়ই সব বলে দেবে।

উল্লেখ্য, রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৭ নম্বর আসামি রুবি।

কোন মন্তব্য নেই