সরকারী নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ
চট্টগ্রামের আকাশে অবাধে উড়ছে অবৈধ ড্রোন

0
.

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন ড্রোন উড়ানো হচ্ছে চট্টগ্রামের আকাশে।  জেলা ও মহানগরীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাণিজ্যিক ও বিনোদনমুলক ভিডিও নির্মানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বা উড়ানো হচ্ছে ড্রোন (মনুষ্যবিহীন উড়োযান)। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন আমদানি, সংরক্ষন এবং ব্যবহার সরকারীভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও কতিপয় ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান তা মানছেন না।

চট্টগ্রাম মহানগরী ও নগরীর বাইরেও বিভিন্ন উপজেলা বিয়ে বা মেহেদী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন, বিভিন্ন কর্পোরেট গ্রুপের প্রচারণামুলক অনুষ্ঠান ধারনে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। সাধারনের চোখে ড্রোনের ব্যবহার কোন নেতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে দেখা না গেলেও কৌশলে তা কুচক্রি মহল অপরাধমুলক কাজেও ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় পুলিশ এ ব্যাপারে তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে।

.

অনুসন্ধানে জানা যায়, সামগ্রীকভাবে দেশে ড্রোনের আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে ড্রোন ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃংখলা রক্ষায় পর্যবেক্ষনের লক্ষ্যে ড্রোন ব্যবহার বা উড়াতে পারেন। সর্বসাধারনের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। অবৈধ এবং যথেচ্ছভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, প্রমোশনাল ও প্রচারণামুলক কাজে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ ড্রোন।

মহানগরীর অভ্যান্তরে এবং নগরীর বাইরে উপজেলা পর্যায়েও বিয়ে বা মেহেদী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় বড় আয়োজন এবং তাদের প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরি, মিউজিক ভিডিও বা নাটক তৈরী, মডেল ফটোশুট কিংবা এভি তৈরিসহ নানা ধরনের ভিডিও ধারনে অবৈধভাবে ড্রোন উড়ানো হচ্ছে।

.

চট্টগ্রাম নগরীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হ্যালো চিটাগাং। অবৈধভাবে ড্রোনের ব্যবহার প্রসঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডার রিয়াদ খান জানান, তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে ড্রোন ব্যবহার করেন সেসব প্রতিষ্ঠান নিজেরা ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে থাকে। তবে তিনি ড্রোন সংরক্ষন বা ব্যবহারের জন্য কোন অনুমতি নেন না বা প্রয়োজন হয়না বলে জানান। ড্রোন রাখার জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মতামত ব্যাক্ত করেন। তবে চট্টগ্রামে শত শত অনুষ্ঠানে ড্রোন ব্যবহার হলেও কোন প্রতিষ্ঠানকেই ড্রোন ব্যবহারের জন্য সিভিল এভিয়েশন কোন অনুমতি দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে অপরাধমুলক কোন কাজে ড্রোন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া না গেলেও বিনাঅনুমতিতে যথেচ্ছ ড্রোনের ব্যবহার অপরাধমুলক বা আইন-শৃংখলা পরিপন্থি কাজেও ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সীতাকুণ্ডে কেএসআরএম কারখানার আকাশ সীমানায় পিএইচপির ড্রোন।

ইতিমধ্যে এই ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে চট্টগ্রামে দুটি বড় শিল্পগ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে কেএসআরএম স্টিল প্লান্ট-এর উপর অবৈধভাবে পাশ্ববর্তী পিএইচপি গ্রুপ কর্তৃক ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষন করেছে বলে অভিযোগ করেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ।

এই ঘটনায় পিএইচপি গ্রুপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দেশের আকাশসীমায় ড্রোন ওড়াতে হলে দেড় মাস আগে অনুমতি নিতে হবে। আর কেউ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিনা অনুমতিতে দেশের আকাশে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে সিভিল এভিয়েশন। আর যেসব স্থানে বিমানবন্দর নেই সেখানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তবেই ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। ড্রোন ওড়াতে সিভিল এভিয়েশনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যথেচ্ছ ড্রোন ব্যবহার হলেও পুলিশ প্রশাসন থেকে ড্রোন ব্যবহারের জন্য কখনো কেউ অনুমতি গ্রহন করেনি। ঢাকা মহানগর পুলিশ অনুমতিবিহীন ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলেও চট্টগ্রামে পুলিশের এই ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত নেই।

এসব প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পিআর এন্ড আইসিটি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, ড্রোন ওড়ানোর জন্য নীতিমালা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা উপেক্ষা করে অনুমতি বিহীন কোথাও ড্রোন উড়ানোর তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

কোন মন্তব্য নেই