রাউজানে তৈরি হচ্ছে ভারতীয় নকল ওষুধ, গ্রেফতার ৪

0
.

চট্টগ্রামের রাউজানে দুটি নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। টেলি ওয়ান শপিং ও দেশ হারবাল নামের কারখানা দুটি ভারতীয় ঔষধসহ দেশের নামীদামী কোম্পানীর নকল ঔষধ তৈরী হতো।  অভিযানে কারখানা দুটি সিলগালা, দুই কোটি টাকার নকল ওষুধ জব্দ ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারসহ ৪ জনকে আটক করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ওষুধ প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রামের র‌্যাব-৭।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

জানা গেছে, উপজেলার পাচখাইন গ্রামের আলী মদনের পুত্র আবদুল হাকিম দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর চলচ্চিত্র শিল্পে ভিডিও পাইরেসি করে আসছে। এ নিয়ে তিনি কয়েকবার গ্রেফতারও হন র‌্যাবের হাতে।

একই সঙ্গে দেশ হারবাল নামে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করে আবদুল হাকিম হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। পরবর্তীকালে বিলাসবহুল ভবন ও বাড়ি-গাড়িও করেন।

আবদুল হাকিম দেশ হারবালের পাশাপাশি গড়ে তোলেন টেলি ওয়ান শপিং প্রা. লিমিটেড নামের আরও একটি প্রতিষ্ঠান।

আর এ জন্য উপজেলার পথেরহাট বাজারে প্রকাশ্যে শোরুম ও ব্রাহ্মণহাট এবং পথেরহাটের হাজী নাছির বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় গড়ে তোলেন নকল ওষুধ কারখানা। যেখানে ভারতীয়সহ দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের নকল প্যাকেটজাতের মাধ্যমে ওষুধ তৈরি করছে সাধারণ কর্মচারীর মাধ্যমে।

আর এসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধগুলো অনলাইনে অর্ডার নিয়ে বিকাশসহ মোবাইলের নানা মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করত।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আজিজের নেতৃত্বে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি টাকার ওষুধ জব্দ করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা হোসইন মোহাম্মদ ইমরান ও কামরুল হাসান।

অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার উপজেলার পাচখাইনের মনিরুল হকের পুত্র জসিম উদ্দিন ইউসুফ (৩৫), হাসান (২৫), ইমরান আলী (২৬), নঈম উদ্দিনকে (৩০) আটক করে র‌্যাব। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রতারক আবদুল হাকিমসহ কর্মরত প্রায় ৬০ কর্মচারী পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রথমে আমরা ব্রাহ্মণহাটের দেশ হারবালের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করি। পরবর্তীকালে তাদের স্বীকারোক্তিতে পথেরহাটের শোরুম ও বাজারের পিছনে হাজী নাছির বিল্ডিংয়ের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করি। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ওষুধ জব্দ করি।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করি। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল হাকিম পলাতক থাকায় জরিমানা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই