সরকার সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে এখন জুয়ায় আশ্রয় নিয়েছে : মির্জা ফখরুল

3
.

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিৎ। কারণ দেশটা জুয়াড়িদের দেশ হয়ে গেছে। এই সরকারকে যদি আমি বলি জুয়াড়ি সরকার, আমার অপরাধ হবে না। কারণ, সরকার সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে এখন জুয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তারা ভাবছে জুয়া খেলে যদি কোনো রকমে টিকে থাকা যায়। যাবে না, কারণ এটা হচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষের দেশ।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চাই এখনো আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। দেশের মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কোনো বাধা হবেন না। তাকে আইনগতভাবে মুক্তি দিন। ভোট চুরি করে যে পার্লামেন্ট গঠন করেছেন তা বাতিল করেন। নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের ছোট নেতা, পাতি নেতাদের দাপটে দেশে থাকা যাচ্ছে না। সরকারি কর্মচারীরা চুপচাপ চলে যায় মান-সম্মান, ইজ্জত নিয়ে। যা হুকুম করে তাই করতে হয়। চাঁদা দাও নয় তো যাও।

তিনি বলেন, আজকে মাটি খুড়ে বেড়িয়ে আসছে সরকারের পাপের ইতিহাস। কেঁচো খুঁজতে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসছে। তিনি বলেন, আজকে সরকারের লোকেরা ইচ্ছেমতো মানুষ খুন করে, ক্রসফায়ার করে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, জিজ্ঞাসা করলে বলা হয় জানি না। নিখুঁতভাবে গুম হয়ে যায়। আমাদের এমপি পর্যন্ত বাদ যায়নি।

গত এক বছরে বিদেশে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ক্যাসিনোগুলোতে কাজ করে বিদেশীরা এবং তারাই দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একবারও বলি নাই বেগম জিয়াকে দয়া করে মুক্তি দিন। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তার যেটা প্রাপ্য সে অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা কোর্টে যাই জামিনের জন্য। বিচারপতি সব শুনে বক্তব্য শুনে চলে যান। বলেন পরে আদেশ দেব। যখন উপর থেকে নির্দেশ আসে পরে তিনি আদেশ দেন। এখন দেশে বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই। সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে দোষারোপ করেন পুলিশকে। পুলিশ কী করবে। উপরমহল থেকে যা হুকুম হয়, নির্দেশ হয় পুলিশের তা পালন করতে হয়। সরকার হুকুম দিয়েছে- দেশে যারা গণতন্ত্র চায়, তাদের মারো, তারা মেরেছে। সরকার হুকুম দিয়েছে- নির্বাচনের সকল কেন্দ্র দখল করো, তারা করেছে।

3 মন্তব্য

  1. আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। সুতরাং এটা নিয়ে অপপ্রচারের রাজনীতি আপনারা না করায় ভালো হবে মনে করি। কারণ আওয়ামী লীগ দেশে কোনো দুর্নীতিবাজ ও অবৈধ ব্যবসায়ীকে ঠাঁই দিবে না। কিন্তু আমরা দেখি নি বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কখনো তাদের দলের নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে? কারণ তারা সে দুর্নীতির টাকা ভাগ পান বলে গ্রেফতার করা হতো না।

  2. সরকার যদি সবদিকে ব্যর্থ হতো তাহলে কখনো নিজ দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের নামতো না। দেশ থেকে সকল দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের উৎখাত করতে বর্তমান সরকারকে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এখন যদি আপনারা ক্ষমতায় থাকতেন তাহলে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীদের কে উৎসাহ দিয়ে তারেক জিয়ার কাছে অর্থ পাচার করতেন।

  3. সরকার ব্যর্থ শুধুমাত্র আপনাদের নজরে। কিন্তু দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার সফলভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। একই সাথে যারা জুয়ার আশ্রয় নিয়েছে তারা সরকারদলের কখনো কেউ ছিল না। তারা শুধুমাত্র সুসময়ের বন্ধু অর্থাৎ দল ক্ষমতায় আছে বলে তারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা বলে। অবৈধ পথে অর্থ ইনকাম করছে আর সেই জন্যই সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশ এবং জাতিকে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।