আওয়ামীলীগ এখন হায় হায় কোম্পানীতে পরিণত হয়েছে : ডা. শাহাদাত হোসেন

11
.

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আওয়ামীলীগ এখন হায় হায় কোম্পানীতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামীলীগ এখন দুর্নীতি নির্ভর দল হয়ে গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের দুর্নীতির যে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে সে দুর্গন্ধ দূর করতে প্রশাসনের নির্লজ্জ সহযোগিতায়ও কাজ হবে না। আওয়ামীলীগ এখন বাকশালকেও হার মানিয়েছে। এক দল থেকে এক নেত্রীর দলে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রযন্ত্র যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার কারণে বাংলাদেশ এখন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি এমনভাবে প্রসার লাভ করেছে ফলে সরকার তাদের নিজেদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। এ সরকার নিয়ন্ত্রণহীনভাবেই চলছে। ঢাকায় শতাধিক ক্যাসিনিও’র সন্ধান পেলেও গত দু’সপ্তাহে শামীম, খালেদ এবং সম্রাটসহ শুধুমাত্র ৩ জনের নাম আসলেও গডফাদারেরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মসজিদের শহর ঢাকাকে এখন ক্যাসিনিও’র শহর বানিয়েছে এই অবৈধ সরকার। আওয়ামীলীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে দুর্নীতি, দু:শাসন, জুয়া-ক্যাসিনিও, চাঁদাবাজী, টেনন্ডারবাজী এবং লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করেছে।

তিনি আজ ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন বাঁধা দেয়ার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

 প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, সরকারের মন্ত্রী, এমপি, দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি ও লুটপাটে দেশকে উই পোঁকার মত ভিতর থেকে খেয়ে ফেলেছে। সরকারের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতিতে আসক্ত। আজ সরকারী দলের ছোটখাট নেতাকর্মীদের বাসা বাড়ি থেকে লুটপাটের কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে আওয়ামী লীগের লোকেরা, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতারা নিজেরা নিজেদের দুর্নীতির প্রমাণ নিজেরাই প্রমাণ করেছে। তারা বাংলাদেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।

  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা ঢাকাসহ দেশকে প্রতিটি শহরকে ক্যাসিনোর শহরে পরিণত করেছে। আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তারা এগুলো করতে পারতো না। দেশে একদিকে চলছে আওয়ামী দুঃশাসন অন্যদিকে চলছে জনগণের টাকা লুটপাট। সবকিছু মিলিয়ে দেশের মানুষ আজ মহাসংকটে পতিত। এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য সরকার পরিবর্তন দরকার। সেজন্য সবার আগে গণতন্ত্রের জননী দেশনেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি দরকার।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুর পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শাহেদ বক্স সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মুবিন, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, নগর স্বোচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ প্রমুখ।

নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে কেন্দ্রঘোষিত মনববন্ধনে নগরীর ১৫ থানা ৪৩ ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ স্বস্ব ব্যানার নিয়ে আসলে পুলিশী বাঁধার শিকার হলে মানববন্ধন তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

11 মন্তব্য

  1. যারা আজ বলছে আওয়ামী লীগ দুর্নীতিগ্রস্ত দলে পরিণত হয়েছে এবং তাদের গায়ে থেকে দুর্নীতির দুর্গন্ধ বের হচ্ছে সেই সকল মানুষগুলোকে যদি এখন প্রশ্ন করি আপনাদের শাসনামলে বাংলাদেশ পাঁচবারের উপর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেটি কি ভুলে গিয়েছেন? ক্ষমতার অপব্যবহার এর কথা বলছেন আর এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে আপনারাই তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে অপরাজনীতি শুরু করেছিলেন সেটি আজ কি তবে আপনাদের সাথে হচ্ছে না?

  2. ডঃ শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে বলেছেন দলের নেতাকর্মীরা এমনভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে গিয়েছেন যে এখন সরকার কিংবা দল চাইলেও তাদের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না। অথচ আমরা দেখছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এমন ব্যক্তিদের কে ধরা হচ্ছে যারা দুর্নীতির সাথে সবচাইতে বেশি জড়িত আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তার অর্ধেক যদি তৎকালীন সময়ে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন খালেদা জিয়া গ্রহণ করতেন তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা এতটাই শোচনীয় হতো না। বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ব্যাপক ভাবে যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে ছিল তখনও খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপি কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। অথচ আজ তার দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কিংবা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলছে নিজেদের কথাগুলো সব ভুলে গিয়ে।

  3. ক্ষমতায় যাওয়ার কোন ধরনের সুযোগ নেই বলে কিংবা নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি আছে সেটিতে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে পারেনি বিএনপি ও জামায়াত। এরপর তারা রাজপথে কেউ হারিয়ে গিয়েছে টিকে থাকতে না পেরে। তাদের সাথে অপরাধগুলো রয়েছে যার কারণে তারা এত পিছিয়ে দিয়েছে সেগুলো স্বীকার না করে এখন তারা বলছে বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের রাজনীতি বাকশালকেও হার মানিয়েছে’।

  4. চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, সরকারের মন্ত্রী, এমপি, দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি ও লুটপাটে দেশকে উই পোঁকার মত ভিতর থেকে খেয়ে ফেলেছে। সরকারের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতিতে আসক্ত।আচ্ছা আপনি কি বিএনপি শাসনামল ভুলে গিয়েছেন নাকি? এমন কোন ব্যক্তি কিংবা এমন কোন সেক্টর ছিল না যেখানে চরম পর্যায়ের দুর্নীতি হতনা।অথচ যারা এই ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল আজ তারা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে এবং দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করছে।

  5. এই সব হল আপনাদের বানোয়াট কথা আপনাদের এই সব কথার কোন বিত্তি নেই,দেশের জনগন আর আপনাদের কথা বিশ্বাস করে না।আপনারা দিশেহারা হয়ে এখন সরকারের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছেন জনগনের কাছে।ক্ষমতায় আসার জন্য আপনারা অন্ধ হয়েগেছেন এই সব তালবাহানা করে আর কত দিন চলবেন।

  6. এই সব কথা বলে নিজে কে আর কত ছোট করবেন ।বিএনপির নেতারা এক এক আজগবী কথা বলেন ক্ষমতার জন্য তারা দিশেহারা হয়েগেছে।বিএনপি নেতাদের বুঝা দরকার যে দেশের জনগন প্রমান করে দিয়েছে বিএনপির মতো সন্ত্রাস,রাজাকার,জঙ্গিদের দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না।কারন জনগন আর বিএনপিকে বিশ্বাস করে না।

  7. বিএনপি নেতাদের আওয়ামীলীগ নিয়ে কেন এত বেশি চিন্তা সেটাই বুঝি না। যেখানে তাদের নিজের অবস্থান ঠিক নাই সে জায়গায় আওয়ামী লীগের মতো একটি শক্ত ও জনপ্রিয় দল এর বিরোধিতা করে তাদের কি কোন লাভ রয়েছে? একই সাথে আওয়ামী লীগ যেভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সেই দিক থেকে বলতে গেলে আওয়ামীলীগ এখন একটি জনপ্রিয় ও বৃহৎ জনসমর্থন পাওয়া একটি দল। তাই এ দলের নামে মিথ্যাচার অথবা গুজব ছড়িয়ে কোন লাভ হবে না।

  8. অশিক্ষিত মানুষের মত কথা বলে কোন লাভ হবে না। আওয়ামীলীগ যদি দুর্নীতির মধ্যে নির্ভর করতো তাহলে এই শুদ্ধি অভিযান করে দলের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করত না। দেশ এবং জাতির উন্নয়ন চাই বলে শেখ হাসিনা এ ধরনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর কিসের ভিত্তিতে আপনি বলছেন বাংলাদেশে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে? যেখানে জাতিসংঘের মধ্যে আজ প্রত্যেকটা মানুষ শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানছেন, একই সাথে নানান উপাধিতে ভূষিত করছে সেই জায়গায় আপনার কথাগুলো আমাদের কাছে ভিত্তিহীন ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধুমাত্র প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন বলে আপনারা এই ধরনের কথা বলছেন, সেটা আমরা বুঝতে পারছি।

  9. ক্ষমতা হারিয়ে বিএনপি নেতারা নিজেদেরকে যতই ভালো প্রমাণ করার চেষ্টা করুক না কেন, বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়নের কাছে তারা সর্বদা ব্যর্থ। বিএনপি’ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ক্যাসিনো ব্যবসাসহ বিভিন্ন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলেও আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন নিজ দলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং এটা নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করার কিছুই নেই। যা কিছু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হচ্ছে এবং এর ফলে দেশের জনগণের সমর্থনও বেড়েছে আওয়ামী লীগের প্রতি।