চুল কেটে দিয়ে নারীর শরীরে সিগারেটের ছেঁকা

0
.

পাবনা সদরের দোগাছিতে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এক নারীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। ছখিনা বেগম নামের ওই নারীর অভিযোগ, হামলার সময় চুল কেটে তাঁর শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দেওয়া হয়েছে। উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে তাঁর স্বামী জিলাল প্রামাণিককেও।

গত শনিবার রাতে দোগাছি ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় প্রতিবেশী শাহজাহার আলী (৪৫), তৈয়ব উদ্দিন (৪১), ফরিদ প্রামাণিক (৩৫), খাইরুল প্রামাণিক (৪০) ও বিপ্লব প্রামাণিকের (২৫) বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় মামলা করেছেন ছখিনা বেগম। আসামিরা পলাতক।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, কিছুদিন আগে জিলাল ও ছখিনার বাড়ির ২৩ শতাংশ জায়গা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করেন আসামিরা। জমি উদ্ধারের জন্য জিলাল প্রামাণিক আদালতে মামলা করেন। এর জের ধরেই শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে অভিযুক্তরা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় জিলাল ও ছখিনা ঘর থেকে বেরিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করার অভিযোগে তাঁদের এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় ভুক্তভোগীরা চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাঁরা দুজনেরই মুখে কাপড় পেঁচিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। একপর্যায়ে তাঁরা কাঁচি দিয়ে ছখিনা বেগমের মাথার চুল কেটে দেন ও হাতে থাকা সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছেঁকা দেন। এতে চিৎকার করে উঠলে ছখিনার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যান।

ছখিনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অভিযুক্তরা চুল কেটে সিগারেটের ছেঁকা দেওয়ার সময় শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ ঘটনার বিচার চাই।’ আর জিলাল প্রামাণিক বলেন,‘মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্তরা হুমকি দিচ্ছিলেন। তাঁরা আমাদেরই আত্মীয়। রাতের বেলা এভাবে হামলা করবে বুঝতে পারিনি।’

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহম্মেদ বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। ছখিনা বেগম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

কোন মন্তব্য নেই