রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে

7
.

কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একজন রোহিঙ্গা কিশোরিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর বা আইএসপিআর জানাচ্ছে, তারা বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। রোহিঙ্গাদের পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট ‘রোহিঙ্গা ভিশন ডট কম’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধর্ষণের এই অভিযোগ সম্পর্কে জানা যায়। প্রতিবেদনটিতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটার সময় উল্লেখ করা হয়েছে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর (রবিবার), সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা।

এতে বলা হয়, দুই জন কিশোরী তাদের ঘরের মধ্যে খেলা করছিল। সেই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সদস্য এদের একজনকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। সেনাসদস্যরা স্থান ত্যাগ করার পরে প্রতিবেশিরা কিশোরীটিকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যায়। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। আইএসপিআর-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, ‘অতি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিদেশি অনলাইন পোর্টালে আমরা দেখতে পেলাম ১২ বছরের একটা রোহিঙ্গা মেয়ে সেনাসদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার

হয়েছে’। তিনি বলেন, ‘ঐ সময় যৌথবাহিনীর যে নিয়মিত টহল হয় সেই টহল ঐখানে দিচ্ছিল। যাই হোক, বিদেশি অনলাইন ভিত্তিক পোর্টালে এই অভিযোগটা আসার পরে আমরা সে বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে একটা উচ্চ পর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছি’। টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পের একাধিক রোহিঙ্গা নেতা জানান, তারাও ২৯শে সেপ্টেম্বরের এই ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার কথাও তারা উল্লেখ করেন। একজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ঐ ঘটনার পর ‘ভিকটিমের পরিবার’ এখন আর কোন কথা বলতে চাচ্ছে না।

কক্সবাজারের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৩০শে সেপ্টেম্বর সদর হাসপাতালে একজন ‘রেপ ভিকটিমকে’ চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি দুই দিন ঐ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

আইএসপিআর-এর পরিচালক লে. কর্নেল জায়েদ অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের ব্যাপারে বলছেন, ‘যদি দোষী প্রমাণিত হয়, সেই দোষের মাত্রা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে’। তদন্ত কমিটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে দিয়ে এই কমিটি গঠন করেছে, যারা এই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে, এটা যে স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার সেটা উপলব্ধি করে সেই রকমভাবে তদন্ত করতে পারেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন’।

এদিকে, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, এই অভিযোগের কথা লোকমুখে শুনতে পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছিলেন। তবে ভিকটিমের পরিবার বা প্রতিবেশি এমন কাওকে পাওয়া যায়নি। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘যদি আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ না করে তাহলে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারিনা। তবে আমরা এমন একটা গুঞ্জন শুনে লোক পাঠিয়েছিলাম কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি’।

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার অবশ্য বলেন, ‘এই ধরণের তথ্য সত্য না’। এদিকে কক্সবাজারে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, ‘এই প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত আছেন’। তারা আরো বলছে, এই ধরণের ঘটনায় ব্যক্তি চিকিৎসা, মানসিক এবং শারীরিক সাহায্য পেতে পারে।

সংস্থাটি বলছে, ‘ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার বজায় রাখা এবং চলমান তদন্তে আমরা ব্যক্তির বিস্তারিত জানাতে পারি না’।২০১৭ সালের অগাস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসা শুরু করে।

তাদের অনেকেই বাংলাদেশে এসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার নানা অভিযোগ করেছিলেন। এদের অনেকেই গণধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ণের অভিযোগও করেছিলেন।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১১ লক্ষের মত রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী কাজ করছে। সেখানে বেশ কিছু দেশি, বিদেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য। তথ্যসূত্র : বিবিসি

7 মন্তব্য

  1. এদের বিচারের আওতায় আনা হোক । বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস ও আস্থার অনন্য এক নাম। গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি আস্থার নাম। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী খুব সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। যারা এই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তথা মানুষ কে ছোট করতে চাচ্ছে তাদের cross fire চাই। তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। এরা (রোহিঙ্গা ) ঘৃণ্য জাতি । এজন্য এদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে । এরা একে বারে নংরা জাতি।

  2. পুরো পৃথিবীতে সেনাসদস্যদের অন্যভাবে দেখা হয় এবং আমাদের বাংলাদেশের মানুষের নিকট এই সেনাসদস্যরা কতটা সম্মানিত সেটি আমরা খুব ভাল করেই জানি। রোহিঙ্গাদের এখন বাংলাদেশের বিষফোঁড়া মনে হয় আর এই বিষফোঁড়া রোহিঙ্গারা নিজেদেরকে এই বাংলাদেশে শক্তভাবে অবস্থান করাতে এখন এই ধরনের মিথ্যাচার করছে সেটি আমরা ভালো করেই বুঝি।সেনা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে পারছে না বা যে সকল এনজিও গুলো বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা থাকলে অনেক টাকা আয় করতে পারে তারাই এমন ধরনের মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে সেটি আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি।

  3. সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি সেখানে অবস্থিত এনজিওগুলো এবং বিদেশি অনেক চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কারণ সেনাবাহিনীদের কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার যে চেষ্টা চলছে তাতে বাধা পড়ছে এবং মায়ানমারে ফেরত ফেরত পাঠানোর যে চেষ্টা করা হচ্ছে তাও অনেকটা এগিয়ে চলছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। আর তাই সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করে দেওয়ার জন্যই এই ধরনের মিথ্যাচার করা হচ্ছে সেনাবাহিনীর নামে।