একান্ত সাক্ষাৎকারে নওশাদ মাহমুদ রানা
“যুবলীগের পদ পেতে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল চেয়ারম্যান ওমর ফারুক” (ভিডিও)

0
নওশাদ মাহমুদ রানা।

গত কিছুদিন ধরে দেশজুড়ে ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে। ফলে জুয়াখোর, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দুর্নীতিপরায়ণ সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ছে। রাজধানীতেই এরা বেশি ধরা পড়েছে।

ঢাকা দেশের রাজধানী বিধায় এখানে সম্পদ আহরণের সুযোগ যেমন বেশি, তেমনি এখানে বসবাসকারী দুর্নীতিবাজদের সংখ্যাটিও বড়।

ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন- খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীম, সফিকুল আলম ফিরোজ, ইসমাইল হোসেন সম্রাট, লোকসান হোসেন ভূঁইয়া, এনামুল হক তথা এনু ভূঁইয়া এবং রূপন ভূঁইয়া। এদের কয়েকজনের বাড়ী ও অফিসে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা ও বিভিন্ন অস্ত্র মাদক ব্যাংব ব্যালেন্স।

সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ পড়েননি যুবলীগের বতর্মান ৭১ বছর বয়সি ওমর ফারুক চৌধুরীও। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সম্পদ, আর্থিক হিসাবের বিবরণ চেয়েছে। প্রশাসন তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সীমান্তে সর্তকতা জারি করেছে।

এ পরিস্থিতি এবার চট্টগ্রামের এক সাবেক যুবলীগ নেতা চেয়াম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পদপদবী নিয়ে বানিজ্যের অভিযোগ তুলেছে।
চট্টগ্রামে স্কুল থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা এবং আওয়ামী লীগের বনেদি পরিবারে সন্তান, সাবেক যুবলীগের কেন্দ্রিয় সদস্য, তরুণ ব্যবসায়ী নওশেদ মাহমুদ রানা যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে পদ পদবী বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি জানান, চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের দাবীকৃত ৩০ লাখ টাকা দিতে না পারায় কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশ থাকার পরও যুবলীগের কমিটিতে তার স্থান হয়নি।

গতকাল জনপ্রিয় ও চট্টগ্রামের শীর্ষ স্থানীয় নিউজ পোর্টাল পাঠক ডট নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকালে সাবেক যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানা শহর আওয়ামী লীগের জন্ম ইতিহাস, যুবলীগের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান নিয়ে খোলাখুলি বক্তব্য দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাঠক ডট নিউজের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিল্পী।

নওশাদ মাহমুদ রানা বলেন, দীর্ঘদিন সুনামের সাথে যুবলীগ রাজনীতি করে আসলেরও বর্তমান চেয়ারম্যান ক্যাসিনো বাণিজ্য, অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন দল থেকে জামায়াত বিএনপি ফ্রিডম পার্টিও লোকজনকে টাকার বিনিময়ে পদ পদবী দিয়ে এ যুবলীগকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করেছে।

যুবলীগের একজন কর্মী হিসেবে এখন যুবলীগ পরিচয় দিতে আমি নিজেও ঘৃর্ণাবোধ করি। গত কমিটিতে আমি নানক আজম ভাইয়ের সাথে ছিলাম, কাজ করেছি রাজপথে মাঠে ময়দানে, আন্দোলন সংগ্রামে, ওয়ান ইলেভেনে বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারীনি খালেদার বিরুদ্ধে। তখন আমি কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ছিলাম।

পরবর্তিতে এসে যখন কাউন্সিলের পরে আমার সিভি জমা দিলাম তখন বিভিন্ন পদপদবী নিয়ে দেন দরবার চলছে। তখন আমার জন্য বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় ত্যাগী নেতা আমার জন্য বর্তমান চেয়ারম্যানকে সুপারিশ করেছিলেন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের চট্টগ্রামের এক ক্যাশিয়ার (তখন আমি ঢাকায় ছিলাম) আমি নাম প্রকাশ করছি না, সে যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে এখনও। ওই ক্যাশিয়ার আমাকে গুলশানের দুই নম্বর রোডের রোজ ভিউ হোটেল দেখা করতে বলে। দেখা করলে সে আমাকে বলে সিভি চেয়ারম্যানের কাছে জমা হয়েছে।

এখন আমার সাথে কথা বলতে হবে। আমি বলি কি কথা বলো। তখন সে আমাকে ৩০ লাখ টাকা দিতে হবে। তাকে আমি বললাম আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান আমার পুরো পরিবারই আওয়ামীলীগ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। আমি টাকা দিয়ে কেন যুবলীগ করবো? তখন সে বলে এটা এখন কালচারে পরিণত হয়েছে। আমাদের চেয়াম্যানের সিদ্ধান্ত এ রকম। আপনি যদি পদপদবী চান তাহলে ৩০ লাখ টাকা দিতে হবে।

তখন আমি তাকে বললাম চট্টগ্রামে আমাদের ঘরে আওয়ামী লীগের জন্ম, টাকা দিয়ে রাজনীতি করি না। প্রয়োজনে আমি আওয়ামী লীগ করবো না নৌকায় ভোট দেবো। যতদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যা জীবিত আছেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যার নির্দেশে তিনি যদি কলাগাছকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বলে কলাগাছকে ভোট দেবো। কিন্তু টাকা দিয়ে আমি পদ পদবী নেবো না। তখন এ নিয়ে তার সাথে আমার উচ্চবাচ্য হয়। সে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুর চৌধুরীর চট্টগ্রামের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত। যত টেন্ডারবাজি আকাম কুকাম হয় যা কিছু সয় সমস্ত কিছুর মিডিয়া হল সে।

শুনুন তাঁর ভিডিও সাক্ষাৎকারের পুরো অংশ…

কোন মন্তব্য নেই