ভারতকে খুশি করতে দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিকিয়ে দেয়া হয়েছে

3
.

ভারতকে খুশি করতে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা বিকিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি নাইট এঙ্গেল মোড় হয়ে আবার বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন রিজভী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘ভারতকে খুশি করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন। দেশের গণতন্ত্র স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কারণ খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়া যাবে, সীমান্তে হত্যা অব্যাহত রাখা যাবে। কোনো টু শব্দ হবে না, প্রতিবাদ হবে না।’

সরকারের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘আর না, অনেক হয়েছে, এবার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তিনি মুক্ত হবেন, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। ’

দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনও হতে পারে না- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘মানুষ জানে আপনি তিস্তার পানির জন্য কথা বলবেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আনবেন। কিন্তু তা না এনে ফেনী নদীর পানি দিয়ে দিলেন। এক ফোঁটা পানিও আনতে পারেন নাই। দেশ বিরোধী চুক্তি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা বন্ধে, ভারতের এনআরসি নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি, কোনো কথা বলতে পারেননি। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এত ক্রীতদাস কেন? আপনি এত নতজানু কেন?’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘আমরা এতদিন দেখলাম আপনি শুধু দিয়েই দিলেন। আপনি কিছু নিতে পারেননি। আপনি বলেছেন, ভারতকে এত দিলাম তারা মনে রাখবে। আপনি শুধু তাদেরকে মনে রাখার জন্য দিলেন, জনগণের জন্য কী আনলেন? কিছুই আনতে পারেননি।’

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাইফুর রহমান মিহির, কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউর রহমান ফাহিম, দফতর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক, বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন ভুইয়া, এল রহমান, শাহ আলম, মো. সাজ্জাদ, আব্দুল আউয়াল, আক্তার হোসেন জিল্লু, আমান উল্লাহ মেম্বার, সোহরাফ হোসেন স্বপন, হারুন অর রশীদ খোকন, জহিরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাচ্চু, আকরাম বাবু, বুলবুল মল্লিক, মোহাম্মদ আলী, মাহাবুব আলম ভুইয়া শাহীন, আবদুল কাদের বাবু, প্রমুখ মিছিলে অংশ নেন।

3 মন্তব্য

  1. ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন সবার আগে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যখন ভারত বিএনপি’র পক্ষ থেকে নিজের সমর্থন সরিয়ে নেয় তারপর থেকে ভারতের নামের নানান অপপ্রচার করছেন বিএনপি নেতারা। এখানে রিজভী সাহেব যে কথা বলেছেন সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি কথা। আমরা সকলেই জানি ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক ভালো এবং দু’দেশের উন্নয়ন হোক এই চিন্তাধারার নিজেই ভারত বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। শুধুমাত্র দুই দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কথা বলছে বিএনপির নেতারা।

  2. কিছুদিন আগেও কুলাঙ্গার তারে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যেটা আমির খসরুর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন। কিন্তু আজ আবার যখন বিএনপি নেতারা দেখছে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলোর মাধ্যমে এগিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে তখন ভারত-বাংলাদেশের নামে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি নেতারা। মূলত রিজভী সাহেবকে বিএনপির মধ্যে রাখা হয়েছে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এটা আমরা কখনো সমর্থন করবো না এটা তাদের বুঝতে হবে।

  3. আপনারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তো বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। ভারতের সাথে পানি বন্টনের যে চুক্তি হয়েছে, তার যুক্তি রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের ফেনী নদীর পানি ভাটিতে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই মানবতার খাতিরে এই চুক্তি। বুয়েটের আন্দোলনে ইতিমধ্যে সুরাহা হতে চলেছে সকল অপরাধীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার কারণে। কিন্তু এই আন্দোলনকে পুঁজি করে আপনারা খালেদা জিয়ার মতো দুর্নীতিবাজকে মুক্তির দাবি করা কখনো যুক্তিযুক্ত নয়।