খুলনার বাগের হাটে প্রেমের বিরোধে ছাত্রলীগ কর্মী খুন

0
.

খুলনার বাগেরহাটে প্রেম ঘটিত ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে তালিম মল্লিক নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী খুন হয়েছেন। পরিবারের দাবি পূর্ব বিরোধের জেরে রাজা নামে স্থানীয় এক তরুণের ছুরিকাঘাতে তালিমের মৃত্যু হয়।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মাজারের প্রধান গেটে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

আজ শনিবার মরদেহের ময়নাতদন্ত বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খানজাহান আলী মাজার প্রাঙ্গণে প্রেম ঘটিত ব্যাপার নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী তালিম মল্লিক ও মাজারের খাদেম বাবু ফকিরের ছেলে রাজা ফকিরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রাজা ফকিরের ছুরির এলোপাতাড়ি আঘাতে রক্তাক্ত হয় তালিম। এ সময় স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তালিম মল্লিককে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তবে এই ঘটনায় জড়িত রাজা নামে ওই তরুণকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মী তালিম মল্লিককে হত্যার খবর পেয়ে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা খান হাবিবুর রহমান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান।

নিহত তালিম মল্লিক সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সিংড়াই গ্রামের ইয়াছিন মল্লিকের ছেলে। দুই বছর আগে স্থানীয় খানজাহান আলী মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধু আমিনুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রতিদিনের মত আমি তালিম মাজার মোড়ে চা খেতে যাই। যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে তালিম তার মোবাইল ফোনে ফ্লেক্সিলোড করার কথা বলে চায়ের দোকান থেকে উঠে যাওয়ার পথে মাজার গেটে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা তার বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে আমি সেখানে দৌড়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা ইলিয়াস মল্লিক বলেন, দুই দিন আগে আমার ভাতিজা তালিমের সঙ্গে তার এক সময়ে সহপাঠী রাজার বিরোধ হয়। তবে সেই বিরোধটা কি জানতে পারিনি। সেই বিরোধের জেরে আমার ভাতিজাকে রাজা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।

তিনি তার ভাতিজার হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিয়ান আল সুলতান ওশান বলেন, নিহত তালিম মল্লিক ছাত্রলীগের সব ধরনের কর্মসূচিতে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিত। তার দলে কোন পদ না থাকলেও সে একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। তার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের কাছে দাবি জানান তিনি।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাফিউল হাসান বলেন, তালিম মল্লিক নামে এক তরুণকে মৃত অবস্থায় তার স্বজনরা নিয়ে আসেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।  তার বুকের বাম দিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।

বাগেরহাট মডেল থানার ওসি মাহাতাব উদ্দীন বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় তালিম নামে এক তরুণ ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে। নিহতের পরিবার রাজা নামে অপর এক তরুণের বিরুদ্ধে এই হত্যার অভিযোগ করেছে। পুলিশ ওই তরুণকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই