আওয়ামীলীগ জুয়াড়ী, মাস্তান ও লুটেরাদের দলে পরিণত হয়েছে : সোহেল

5
.

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল বলেছেন, আওয়ামীলীগ এখন দলে অনুপ্রবেশকারী বালতেছে। তার কারণ আওয়ামীলীগ জুয়াড়ী, মাস্তান ও লুটেরাদের দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামীলীগ এখন আর আওয়ামীলীগ নাই। কিন্তু বাছলে কি হবে কম্বল থেকে আশ বাছলে কি আর কম্বল থাকে? জুয়াড়ী, মাস্তান ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিলে তো আওয়ামীলীগের অস্তিত্বই থাকে না। তাই বিএনপিতে যাতে সমাজবিরোধীরা ঢুকতে না পারে সেজন্য দলীয় গঠনতন্ত্রে বিধি নিষেধ দেয়া আছে।

তিনি আজ ২ নভেম্বর শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এতে তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের মাটি শহীদ জিয়ার সৈনিকদের কাছে একটু আলাদা। কারণ এই মাটিতেই আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতার রক্ত ঝরেছে। রক্তস্নাত এই মাটিতে আসলেই ভিন্ন অনুভূতি কাজ করে। এই পবিত্র ভূমি থেকেই বিএনপি সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছিল। শত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও যতটুকু সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার রিপোর্ট ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। তারেক রহমানের নির্দেশেই চট্টগ্রাম থেকে আবারো নতুন করে সদস্য সংগ্রহ শুরু করা হবে। এক সময় তৃণমূলের নেতারা বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতেন কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখন সমাজে অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতিতেও অবক্ষয় চলছে। তিনি বলেন, যে কোন রাজনৈতিক দলের প্রথম কাজ হচ্ছে নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটানো। চট্টগ্রামে সংগঠনের অবস্থা ভাল হওয়ায় ২০ হাজার সদস্য ফরম পূরণ করতে পেরেছে। এটা আমাদের জন্য শুভ সংবাদ। যারা দলীয় আদর্শ ও শহীদ জিয়ার আদর্শকে বিশ্বাস করে তাদেরকেই দলে নিতে হবে। সমাজ বিরোধীদের দলে রাখা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছিল আওয়ামীলীগ কাউয়া দলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখন আওয়ামীলীগ অনুপ্রবেশকারী দলে পরিণত হয়ে অন্তসার শূন্য। এখন প্রয়োজন একটি শক্তিশালী আন্দোলনের। যে আন্দোলনে মাধ্যমে আওয়ামীলীগের পতন হবে। প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনও চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে চট্টগ্রামে আবার নতুন করে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করা হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে কর্মী বাহিনী নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে। আর এতেই শেখ হাসিনার পতন হবে। শেখ হাসিনার পতন হলেই বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, দেশবাসী এখন অত্যাচারী সরকারের দু:শাসনে অসহায় হয়ে পড়েছে। অবৈধ সরকারের অমানবিক আচরণে দেশের মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা সারাদেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের ফরম বেশীরভাগ জমা দিয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে বাকিগুলো করা যায়নি। আবার নতুন করে যে যাত্রা শুরু হবে তাতে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রাম থেকে প্রথম শুরু করেছিলাম। সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিএনপিতে নবজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের শত জুলুম নির্যাতনের পরও বিএনপি এখন যে কোন সময়ের সাথে শক্তিশালী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে দলকে আরো গতিশীল করতে হবে। সরকারের জুলুম অত্যাচারের পরও ধৈর্য্যধারণ করে পূর্ণ মনোবল নিয়ে নেতাকর্মীদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মী হওয়া সম্মানের বিষয়। আমরা বিএনপির কর্মী হিসেবে গর্ব ও অহংকার করতে পারি। কারণ আয়োমীলীগের বাকশাল থেকে বিএনপির গণতন্ত্রে উত্তরণ করেছিল।

সভায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, আওয়ামীলীগ এখন ডাকাত এবং লুটেরাদের দলে পরিণত হয়েছে। তারা দেশকে খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। শেখ মুজিবের চোরের খনি এখন আওয়ামীলীগের সর্বত্র। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি নূরী আরা ছাফা, সদস্য ব্যারিষ্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, সাথী উদয় কুসুম বড়–য়া, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হালিম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাছ, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, আশ্রাফ চৌধুরী, শফিকুর রহমান স্বপন, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবু ফয়েজ, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, ইসাহাক কাদের চৌধুরী, আলহাজ্ব মো. সালাহ উদ্দিন, নূর মোহাম্মদ, জসিম উদ্দিন সিকদার, এড. আবু তাহের, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, এম এ রহিম, এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আবদুল মান্নান, আহমেদুল আলম রাসেল, মনজুর আলম মনজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, শাহেদ বক্স, সামশুল হক, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মুবিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির বদরুল খায়ের চৌধুরী, চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, মফজল আহমদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবীর আনচার, এড. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

5 মন্তব্য

  1. আওয়ামীলীগ সরকার যখন থেকে দেশে দুর্নিতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ঠিক তখন থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেটাকে থামানোর জন্যে উঠে পরে লেগেছে । আরে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে বলেই দেশের সকল দুর্নীতিবাজরা শাস্তি পাচ্ছে সেটা আওয়ামীলীগ এর নেতা হলেও তার শাস্তি হচ্ছে । বিএনপি কখনো ক্ষমতায় থেকে এইসব কি করেছে ? বিএনপির মত দল কখনো তো কোনো উন্নয়নের কাজ করে না তাহলে তাদের নেতারা কিভাবে এইসব গলাবাজি করে ।

  2. আওয়ামীলীগ সরকার তো আর বিএনপির মত সন্ত্রাসীদের দলে রাখে না তারা সকল দুর্নিতিবাজ নেতাদের বের করে দিয়ে দেশটাকে দুর্নীতি মুক্ত করার অভিযানে নেমেছে। সুতরাং আওয়ামীলীগ নিয়ে বাজে কথা বলার আগে আপনারা আগে নিজেদের কথা বলেন ? ক্ষমতায় থেকৈ কি কখনো কোনো উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন ? কখনো কিছু না করে কিভাবে জনগনের সামনে বর্তমানের উন্নয়নের সরকারকে নিয়ে বাজে কথা বলেন ।

  3. ধরে নিলাম আওয়ামীলীগ এমন একটি দলে পরিণত হয়েছে যেখানে অন্যায় অপকর্মের সাথে জড়িত মানুষের সংখ্যা বেশি কিন্তু আপনার কাছে প্রশ্ন রইল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে বিএনপি কেমন দলে পরিণত হয়েছিল সেটা কি আপনাদের মনে আছে।দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে শেষ করে দেওয়া বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মুখে কি আওয়ামীলিগের নামে এই ধরনের কথা বলাটা মানায়? আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী অপরাধ অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু হয়েছে যা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে করতে দেখা যায়নি।

  4. আপনি এখানে যে কথাটি বলেছেন সেই কথাটি বলতে পারতেন না যদি শেখ হাসিনা এই জুয়াড়ি, মাস্তানা, লুটেরাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করত। তাই কথাটি বলার আগে শেখ হাসিনাকে একবার ধন্যবাদ প্রদান করুন। আপনাদের খালেদা জিয়ার মতো তিনি জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবাজদের সমর্থন করেন না বলে এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে দল এবং দেশকে এই ধরনের অপকর্ম গুলো থেকে মুক্ত করাচ্ছে। এমন সাহস থাকা খুবই ভালো বিষয় যদি এই ধরনের অল্প সাহস আপনাদের জঙ্গিমাতা খালেদা থেকে থাকত তাহলে আজ তার জেলের ভাত খেতে হতো না।

  5. আওয়ামীলীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যারা আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে তারা আর সে অনুপ্রবেশকারীদের এখন বের করে দিয়ে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে দলীয় নেতৃবৃন্দ। সেইসাথে আপনি যে কথাটি বলেছেন তার উত্তর আপনাকে সহজভাবে দিতে গেলে বলতে হয় আজকে যে আপনাদের নেত্রী জেলে রয়েছেন সেটা কিন্তু আপনাদের দলের জুয়াড়ি, মাস্তান ও লুটেরাদের জন্য এবং সব সময় তাদেরকে নিজের চারপাশের রেখে চলেছেন বলে তার আজকের অবস্থা কিন্তু শেখ হাসিনা থেকে দেশ পরিচালনা করার জন্য অথবা ক্ষমতায় থাকার জন্য এই ধরনের মানুষের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই এই লোকগুলো দল থেকে বের করে শেখ হাসিনা একটি জনবান্ধব সরকার গঠন করার কাজ করছে। যেটা আপনারা মেনে না নিলেও দেশের জনগণ বুঝতে পারছে।