একটি পেঁয়াজ কুড়িয়ে পাওয়ার আশায়

0
.ছবি-প্রথম আলো,জুয়েল শীল

কেউ বসে আছে ট্রাকের পাশে, কেউ বা ট্রাকের নিচে। সবারই বয়স ৮-১০ বছর। আশপাশে তীক্ষ্ণ নজর। ট্রাকে ওঠা-নামার সময় একটি পেঁয়াজ নিচে পড়লেই শুরু হয়ে যায় কাড়াকাড়ি। এভাবে একটি-দুটি করে কুড়িয়ে কুড়িয়ে কয়েক কেজি পেঁয়াজ জমলেই বিক্রির জন্য ছুটে যাচ্ছে দোকানে। চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পথশিশুদের পেঁয়াজ সংগ্রহের এমন দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খাতুনগঞ্জে গিয়ে পথশিশুদের এমন পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে দেখা গেল। এই শিশুরা আগে ঘুরে ঘুরে বোতল ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করত। এখন তাঁদের প্রতিদিনের কাজ পেঁয়াজ সংগ্রহ করা। প্রতিদিন সকাল হলেই সবাই জমায়েত হচ্ছে খাতুনগঞ্জে। সারা দিনের সংগ্রহ করা পেঁয়াজ বিক্রি করে তবেই ফিরছে ঘরে।

ট্রাকের নিচ থেকে পেঁয়াজ কুড়িয়ে ব্যাগে ভরছে পথশিশুরা। ট্রাকের নিচ থেকে পেঁয়াজ কুড়িয়ে ব্যাগে ভরছে পথশিশুরা। বাকলিয়ার ছিন্নমূল বস্তিতে বাস করে ১০ বছর বয়সী শিশু মো. সোহেল। খাতুনগঞ্জে গিয়ে কথা হলো তার সঙ্গে। সোহেল জানায়, প্রতিদিন সকাল ১০টায় সে ব্যাগ হাতে খাতুনগঞ্জে চলে আসে। এরপর ট্রাকে পেঁয়াজ ওঠা-নামার সময় মাটিতে পড়ে যাওয়া পেঁয়াজ কুড়িয়ে নিয়ে ব্যাগে ভরে। এভাবে বিকেল পর্যন্ত পেঁয়াজ সংগ্রহ করে। ব্যাগ ভরে গেলে চলে যায় পাশের খুচরা দোকানে। সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি করে। এভাবে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিনে প্রায় ৫০০ টাকা উপার্জন হয়।

কুড়িয়ে পাওয়া পেঁয়াজ বিক্রি করে দিনে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে এই পথশিশুদের। কুড়িয়ে পাওয়া পেঁয়াজ বিক্রি করে দিনে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে এই পথশিশুদের।

কথা হয় চাক্তাই এলাকার বস্তি থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে আসা আরেক শিশু শাহ আলমের সঙ্গে। দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ কুড়াতে আসছে সে। আগে প্লাস্টিকের বোতল বিক্রি করে দিনে ১০০-১৫০ টাকা আয় হতো। এখন দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানায় সে।

খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, আগে পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে কোনো পথশিশু আসত না। তবে পেঁয়াজের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচুর পথশিশু রোজ পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে আসছে। কারণ একটি পেঁয়াজ বিক্রি করেই তারা ১০-২০ টাকা পাচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাকে ওঠা-নামার সময় যে পেঁয়াজ মাটিতে পড়ছে, সেগুলো বিক্রি করে তারা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করছে।

সূত্র-প্রথম আলো

কোন মন্তব্য নেই