খাতুনগঞ্জে মজুদ করা বস্তা বস্তা পচা পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে

0
.

বাড়তি দামের আশায় গুদামজাত করা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যাওয়ার কারণে নদীতে ফেলে দিচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা। গত তিনদিন ধরে খাতুনগঞ্জের পাশে কর্ণফুলী নদীর সংলগ্ন চাকতাই খালে এসব পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে। খালের পাড়ে এখন বিপুল পরিমাণ পচা পেঁয়াজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন দাম আরও বাড়বে সে আশায় নিজেদের গুদামে মজুদ করে রাখা পেঁয়াজে পচন ধরেছে। সে পচা পেঁয়াজ এখন আড়ত থেকে বের হচ্ছে প্রতিদিন।

.

এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে- চাকতাই খালের কিছুটা দূরে রাতের অন্ধকারে বস্তা পচা পেঁয়াজগুলো কে বা কারা ফেলে গেছে। পেঁয়াজগুলো আকারে ছোট। ফেলে যাওয়া পচা পেঁয়াজের বস্তা থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা খাওয়ার উপযোগী পেঁয়াজ বেছে নিচ্ছেন।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস জানান, পেঁয়াজগুলো মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। এসব পেঁয়াজ যখন খাতুনগঞ্জে ঢুকছিল, তখন কিছুটা পচা ছিল। আর আড়তে মজুদ করে রাখার ফলে একেবারে পচে গেছে। তবে তিনি পচা পেঁয়াজের আড়তদারের নাম-ঠিকানা কিছুই বলতে পারেননি।

চাক্তাই এলাকার চাল ব্যবসায়ী আবুল হাসেম বলেন, পেঁয়াজ পচলে ব্যবসায়ীদের কোনো অসুবিধা নেই। কারণ যে পরিমাণ পেঁয়াজ পচবে তার ক্ষতি পোষাতে ভালো পেঁয়াজের দাম বাড়াতে থাকবে তারা। এখন প্রতিদিন পচা পেঁয়াজ আড়ত থেকে বের হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব আড়তদারকে খোঁজে বের করা।

.

এদিকে আজ কর্ণফুলী নদীর ব্রীজঘাট এলাকাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছু পচা পেঁয়াজ প্রতি বস্তা ২শ থেকে ৩শ টাকা করে কিনে নিয়ে সেখান থেকে ভালো পেঁয়াজ আলাদা করছে। আলাদা করে কিছুটা ভালো পেঁয়াজ তারা ৪০/৫০টাকা কেজিতে মানুষের কাছে বিক্রি করছে বলে জানান পচা পেঁয়াজ কেনা একজন। তিনি তার পরিচয় বলতে চাননি।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এহেসান উল্লাহ জাহেদী পচা পেঁয়াজের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, পেঁয়াজ তো বেশি দিন মজুত করে রাখা যায় না। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের অনেক আড়তে পানি ঢুকেছে। তখন হয়তো আড়তে পানি ঢুকে পেঁয়াজগুলো নষ্ট হতে পারে।

এদিকে আজ শনিবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ২৪০ থেকে ২৫০টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই