সারাদেশে লবণ নিয়ে গুজব: বিভিন্ন স্থানে জেল জরিমানা, আটক

0
.

‘লবণের কেজি ২০০ টাকা হবে’ মঙ্গলবার সকাল থেকেই এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।  কুচক্রি মহলের এমন গুজবে বিভিন্ন স্থানে লবণ চড়া দামে বিক্রি এবং লবনের সংকট তৈরী করার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জেল জরিমানার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে আটক লবণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

আবার কোনো কোনো এলাকার দোকানদাররা বলছেন, দোকানে লবণই নেই। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত লবণ কিনে রাখছেন। দেশের কোথাও কোথাও বেশি দামে লবণ বিক্রিও হচ্ছে।

মঙ্গলবার লবণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য তুলে ধরা হল-

.

বগুড়াঃ

বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লবণের দাম নিয়ে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ৪৪ জনকে আটক ও ৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, লবণের মূল্য বৃদ্ধি করায় ৪ ব্যবসায়ীকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী শেখ জানান, শেরপুর পৌর এলাকায় দ্বিগুন মূল্য নেয়ায় ব্যবসায়ী আসাদ দত্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও গাড়িদহ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদকে একই অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আটককৃত আরও ৯ জনের বিচার চলছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান জানান, শহরের বিভিন্ন বাজার থেকে লবণের অতিরিক্ত দাম নেয়ায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানিয়েছেন, জেলায় লবণ নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

.

নওগাঁঃ

নওগাঁর ১১ উপজেলায় ১৩ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ২৪ টি মামলা দায়ের, ২৮ বস্তা ১০ কেজি লবন উদ্ধার ও ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ১ জনকে ১৫ দিনের সাজা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কুমিল্লাঃ

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও গুজব ছড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে মঙ্গলবার কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রম্যমাণ আদালত।

জেলা শহরের রাজগঞ্জ, চকবাজার, রাণীরবাজার ও নিউমার্কেটসহ ১৭ উপজেলায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪০ দোকানের বিরুদ্ধে সমান সংখ্যক মামলা দেয়া হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিন্টু ব্যাপারী বলেন, ‘বেশি দামে লবণ ও পোঁয়াজসহ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির অভিযোগে জেলাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। ১৭ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১৬ সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) এবং ৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ৪১টি দল অভিযান চালায়। এ সময় ৪০টি মামলায় ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে চৌদ্দগ্রামে একজনকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’

এদিকে, লবণ নিয়ে সৃষ্ট গুজব মোকাবিলায় সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনে এক জরুরি বৈঠক হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে দেশে লবণের ১৬ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টন চাহিদা থাকলেও এবার উৎপাদন হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ লাখ মেট্রিক টন।

.

বরিশালঃ

গুজবে বরিশাল নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে লবন। গুজবের সুযোগ নিয়ে অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চড়া দামে লবণ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পলাশপুর এলাকার আজহার হোসেন রনি জানান, আমি নিজে এলাকার দোকান থেকে ১শ টাকা কেজিতে লবণ কিনেছি। এত দামের কারণ জানতে চাইলে দোকানীরা জানিয়েছেন দাম আরো নাকি বাড়বে। এত টাকা দাম রাখায় ভোক্তা অধিকারে ফোন দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। ওই এলাকার বাসিন্দা আলামিন জানান, কারো কাছে ৮০ টাকা আবার কারো কাছে ১১০ টাকাও বিক্রি করা হচ্ছে লবণ।

থানা পুলিশ এসে দোকানীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ক্রেতাদের লবণ কিনতে বারণ করছেন। এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পলাশপুর ও হাসপাতাল রোডের দুইটি দোকানে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করার অপরাধে তিন হাজার টাকা করে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে গুজবে কান না দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

নেত্রকোনাঃ

লবণের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে এমন গুজব সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চার লবণ ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা আদায় করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-ইমরান রুহুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা ছিলেন।

যাদের জরিমানা করা হয়েছে তারা হলেন, কেন্দুয়া বাজারের বাচ্চু মিয়া, বেখৈরহাটি বাজারের শাহীন ও আরশাদ আলী এবং রামপুর বাজারের মুজাহিদ স্টোরের মালিক । তাঁদের যথাক্রমে ৭০ হাজার, ৫০ হাজার, ২০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, লবণের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কেউ যদি গুজব সৃষ্টি করে কিংবা অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লবণের কেজিপ্রতি দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করেই লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে। এ আশঙ্কায় অনেকে বাড়তি লবণ কিনে রাখছেন। তবে শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্যলবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই