চট্টগ্রামে পোষাক কর্মীদের নিয়ে মালিক কন্যার অন্যরকম গায়ে হলুদ

0
.

চট্টগ্রামের গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের নিয়ে মালিকের মেয়র অন্যরকম গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

মহনগরীর নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট গার্মেন্টসে ছাদে এ ব্যাতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিজিএমইএর নেতা এস এম আবু তৈয়ব। তিনি নিজের  একমাত্র মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে গায়ে হলুদ করেছেন গার্মেন্টসের দেড় হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিকের সাথে। আর গায়ে হলুদের পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছে গার্মেন্টস কন্যাদের দ্বারা।

.

এজন্য কারখানার সব নারী শ্রমিককেই তিনি দিয়েছেন হলুদ শাড়ি পুরুষ শ্রমিকদের জন্য একই রং এর পাঞ্জাবী। যেই শাড়িটি তিনি নিজের স্ত্রী ও স্বজনদের জন্য কিনেছেন ঠিক একই শাড়ি কিনেছেন কারখানার দেড় হাজার শ্রমিকের জন্য। পুত্রসহ নিজে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যেই পাঞ্জাবি পরেছেন ঠিক একই পাঞ্জাবি দিয়েছেন গার্মেন্টসের পুরুষ শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের।

চট্টগ্রাম ক্লাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে যেই বাবুর্চি রান্না করবেন, তাকে দিয়েই একই ম্যানুর রান্না পরিবেশিত হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে। নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট গার্মেন্টস কারখানার সব শাখায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল গতকাল। ছাদের উপর মঞ্চ করে আয়োজন করা হয় মালিক কন্যার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। পুরো ছাদ জুড়ে ছিলেন শত শত নারী। সবই গার্মেন্টস কন্যা। সবার পরনে একই শাড়ি। ব্যবসায়ী আবু তৈয়বের স্ত্রী উলফাতুন্নেছা পুতুলও একই শাড়ি পরে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে।

.

এই দম্পতির একমাত্র কন্যা সাইকা তাফাননুম প্রীতির গায়ে হলুদ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চারদিকে যেন ছড়িয়ে পড়েছিল উচ্ছ্বাস। গার্মেন্টস কন্যারা সবাই হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো…. এবং লীলাবালি লীলাবালি….সাজাইবো তোরে, গানের তালে তালে যেভাবে সুন্দর করে নাচছিলেন, যে কেউ হয়তো বলবে- তাদের কোনো সখী অথবা বোনের বিয়ে হচ্ছে। এস এম আবু তৈয়বের একমাত্র কন্যা প্রীতির বিয়ে হচ্ছে ঢাকার বারিধারার আসলাম মোল্লা ও রুবিনা মোল্লার পুত্র শফিউল ইসলাম মোল্লা (নিলয়)এর সাথে।

.

আগামী ৫ জানুয়ারি নগরীর নেভি কনভেনশন সেন্টারে এই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়ে অনুষ্ঠানের আগে গতকাল দেড় হাজার গার্মেন্টস কন্যাকে নিয়ে প্রীতির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করা হয়। এতে গার্মেন্টস কন্যাদের সরব অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানটিকে দিয়েছে আলাদা একটি সৌন্দর্য। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সবার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন প্রীতি। গার্মেন্টস কন্যারা কেউ পঞ্চাশ টাকা, কেউ বিশ টাকা, কেউবা একশ, টাকা চাঁদা দিয়ে নিজেদের মতো করে প্রীতিকে চমৎকার এক সেট স্বর্ণের গহনা উপহার দিয়েছেন। প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়ে কেনা সেই গহনা গার্মেন্টস কন্যারাই পরিয়ে দিয়েছেন মালিক কন্যার গায়ে।

.

নিজের একমাত্র কন্যার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান গার্মেন্টসের ছাদে গার্মেন্টস কন্যাদের দিয়ে করানোর এই বিরল আয়োজনে ব্যাপারে এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এটা প্রচারের জন্য নয়। গার্মেন্টস কারখানার এই খেটে খাওয়া শ্রমিকদের প্রচুর ভূমিকা রয়েছে আমার জন্য, আমার কন্যার জন্য, পুরো পরিবারের জন্য। এরাইতো রক্ত ঘাম দিয়ে আমাকে এই অবস্থানে এনেছেন। আমার সন্তানকে একটি মর্যাদার আসন দিয়েছেন। আমি মনে করি, এরা আমার পরিবারের অংশ। তাই মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি আমি তাদের সাথে করেছি।

কোন মন্তব্য নেই