একুশে বইমেলায় আসছে মুকুলের জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাস-“পথ হারিয়ে পথে”

0
.

অমর একুশে বইমেলা-২০২০ এ প্রকাশিত হচ্ছে কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মুকুলের উপন্যাস- ‘পথ হারিয়ে পথে’। উপন্যাসটির প্রকাশক খ্যাতিমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনিন্দ্য প্রকাশ। উপন্যাসটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। এটি লেখকের ষষ্ঠ উপন্যাস।

‘‘শুনশান দুপুর। শীত ফুরিয়ে আসছে। ফাগুনের আগুন দেখা না দিলেও তাঁতানো রোদের ঝাঁঝ খানিকটা জানান দিচ্ছে। শীত যাই যাই করেও ভোর রাতে উঁকি দেয় জানালা গলিয়ে। দিনে আবার উল্টোটা। ঝাঁ চকমকে রোদ জানিয়ে দেয় লিলুয়া বাতাস আসছে। আজকের রোদটা সম্ভবত যুবতী রোদ। তাঁতানো আগুন না থাকলেও তেজ ঘরের ভিতর থেকেই আঁচ পাচ্ছে বনলতা। উত্তরের জানালার পর্দাটা দুলছে হালকা বাতাসে। আর সেই ফাঁক গলে ঝলমলে আকাশটা দেখতে মন্দ লাগছেনা। চায়ের কাপটা গুনে গুনে একশো বার ঘোরানো শেষে থামল বনলতা। আশালতা পাশের ঘরে এখনো ঘুমাচ্ছে। একবার গিয়ে দেখে আসা দরকার। ঢাকার যে অবস্থা। মশা-মাছি একবার শরীরে ছুঁয়ে দিলে আর রক্ষা নেই। এমনিতেই বিপদের অন্ত নেই বনলতার।

.

বুনো লতার মতই আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে এখানে ওখানে। জীবন সংগ্রামে পথ হারিয়ে বার বার খুঁজে নিচ্ছে পথের ঠিকানা।’’ -এভাবেই প্রবাহমান স্রোতের মত এগিয়ে চলে উপন্যাসের চরিত্র বনলতার জীবন। এগিয়ে চলে উপন্যাসও। পথ হারিয়ে পথের কাহিনী মূলত সমকালীন সমাজে একলা-মা বা সিঙ্গেল মাদারদের কষ্টগাঁথা, স্বপ্ন দেখা ও বেঁচে থাকার লড়াইকে উপজীব্য করে এগিয়ে যায়।

রকিবুল ইসলাম মুকুল কথাসাহিত্যে মানব জীবনের বহুমাত্রিক রূপের সন্ধান করে থাকেন। তিনি মূলত সহজ শব্দ ও ছোট ছোট বাক্যে ছন্দময় গতিতে তার সাহিত্যকে গতিময় করেন। তাঁর উপন্যাসে বাস্তবতা এবং মানুষের স্বপ্নময় নিজস্ব ভূবনের দ্বৈরথকে একীভূত করে পাঠকদের নিজস্ব একটি ভূবনে নিয়ে যান। বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধশিশুর নামে ইউরোপে পাচার হওয়া শিশুদের কাহিনী নিয়ে তাঁর উপন্যাস- দোলনচাঁপার ঘ্রাণ ব্যাপক আলোচিত ও পাঠক সমাদৃত হয়।

রকিবুল ইসলাম মুকুল সায়েন্স ফ্যান্টাসিও লিখে থাকেন। বোবা, মাইক্রোপিপ, ব্ল্যাক নাইট, সেন্টমার্টিনে টিনা, কিশোর সায়েন্স ফ্যান্টাসি মৃত্যুপুরী টাইটান ও স্কুল ট্রিপে নাসা অভিযান এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এবারের বইমেলায় পথ হারিয়ে পথে’ই লেখকের একমাত্র প্রকাশিত বই।

অনিন্দ্য প্রকাশের স্বপ্রকাশক আফজাল হোসেন জানান, রকিবুল ইসলাম মুকুল উপন্যাসে বহুমাত্রিক জীবনবোধ ও সাবলীল গল্প তুলে আনেন। মানুষের জীবনের চলমান ঘটনাগুলি খুঁঁটিনাটি ব্যবচ্ছেদ করে তিনি সেগুলো পাঠকের কাছে উপস্থাপন করে গল্প বলার ধরণে উপন্যাসের পটভূমিতে পাঠককে টেনে নিয়ে যান। আশা করি এবারের উপন্যাসটি পাঠককে শেষ পর্যন্ত টেনে রাখবে। আমরা এটাও আশা করি যে পাঠকরা বই কিনবেন এবং এবারের অমর একুশে বইমেলা হবে পাঠক-লেখক ও প্রকাশকদের মিলনমেলা।

কোন মন্তব্য নেই