মতবিনিময় সভা জনসভায় রূপান্তর

সরকারের জুলুম নির্যাতন পাক হানাদার বাহিনীকে হার মানিয়েছে- চট্টগ্রামে মির্জা ফখরুল

0
.

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখলুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ সরকার জুলুম নির্যাতন, লুটপাট, অব্যবস্থা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে হার মানিয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তারা ৭৫ এর মত আবার দেশে বাকশাল কায়েম করতে চায়।

তিনি আজ মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী নাসিমন ভবনস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলামের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে এ সভা জনসভাতে রূপ নেয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলামের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় হওয়ার কথা থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে এ সভা জনসভাতে রূপ নেয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে।সারাদেশে ৩৫ লাখ বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। যখন যেভাবে পারছে হত্যা করছে, গুম করছে জুডিসিয়াল কিলিং করছে। কিন্তু এরপরও বিএনপি গণতন্ত্রের অধিকার আদায় থেকে দূরে থেকে যায়নি।

.

তিনি বলেন, দেশের জনগণ বিএনপির সাথে আছে। মামলা হামলা হত্যা করে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না।

যখনই বিএনপিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো আবারও জেগে উঠেছে। কারণ জনগণ বিএনপিন সঙ্গে আছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে পাত্তা না দিয়ে বাকশালী কায়দায় বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি তৈরির মাধ্যমে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও কারান্তরীণ করা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকের মতবিনিময় সভা জনসভায় পরিণত হয়েছে। কারণ বিএনপি জনগণের দল। যারা বিএনপিকে রাজনীতি করতে দিবে না মনে করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে।

.

খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিত মৃত্যুর দিকে সরকার ঠেলে দিচ্ছে দাবি করে ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। বিছানা থেকে তিনি উঠতে পারেন না, দাঁড়াতেও পারেন না। ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়েছে। তাকে সরকার পরিকল্পতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে, আমাদের নেতাকমীদের হত্যা করে,মামলা দিয়ে জেলে পুরে, গুম করে এই দেশের দেশপ্রেমিক মানুষকে দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। আজ সরকারের অবস্থা কি হয়েছে ? তারা একটা নতজানু সরকারে পরিণত হয়েছে। সরকার নিজের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য যখন যে যা-ই হুকুম দিচ্ছে, সেটাই মেনে নিচ্ছে। আমাদের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন মানুষ হত্যা করে, সরকারের প্রতিবাদ করার সাহস হয় না। আমরা নদীতে পানি পায় না, সরকার ভারতের কাছ থেকে পানি আনতে পারে না। প্রতিবছর ২৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে আর এই সরকার ভ্যাটের জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন করছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা বলেছিলাম, যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিবাচন কমিশন গঠন করুন। কিন্তু আওয়ামী লীগের দলীয় রাষ্ট্রপতি আমাদের কথা শোনেননি। তিনি এমন সব লোকজন দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, যাদের কোনো যোগ্যতাই নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা শুনলে মনে হয় উনার নির্বাচন কমিশন পরিচালনার কোনো যোগ্যতা নেই। তিনি এমন ইভিএম চালু করেছেন, সিইসি’র নিজের আঙ্গুলের ছাপই মেলে না। এরা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন এখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে তামাশায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক হাইব্রিড নেতা, মন্ত্রী-এমপি আছে। এই চট্টগ্রামেও একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী আছেন, যিনি অনেক বড় বড় কথা বলেন, খুব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। আরে, মুক্তিযুদ্ধের সময় কি আপনার জন্ম হয়েছিল ?

তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে বন্দুকের জোরে। তারা সবসময় বলে বিএনপি নাই, বিএনপির কোনো শক্তি নাই। আরে বিএনপির যদি শক্তি না-ই থাকে, তাহলে বিএনপির বিরুদ্ধে এত কথা বলেন কেন ? এমন একটা দিন নেই, এমন একটা ক্ষণ নাই, এমন একটা বক্তৃতা নাই, বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলেন না। তাহলে বিএনপি হচ্ছে সরকারের জন্য একটা বড় সমস্যা। আসলে সমস্যা হচ্ছে বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, নির্বাচনে বিশ্বাস করে, জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করে। বিএনপি অতীতে যেমন লড়াই-সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্রের জন্য, এবারও লড়াই করে বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায়
চূড়ান্ত হয়নি, তিনি এখনও জামিন পাবার যোগ্য। এদেশে অনেক মন্ত্রী-এমপির সাজা হয়েছিল, কিন্তু মন্ত্রীত্ব টিকে ছিল। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীরেরও সাজা হয়েছিল। এমনকি ইয়াবা সম্রাট বদিরও সাজা হয়েছিল। তারা জামিন পেয়েছেন অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের একটাই ভয়, যদি খালেদা জিয়া মুক্তি পান, তাহলে এই অন্যায়ভাবে হত্যা-নির্যাতন করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, লুটপাট করছে সেটা করতে পারবে না। কিন্তু এদেশের জনগণ কখনোই এই অন্যায় মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। অনেকে আমাদের প্রশ্ন করেন, সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, নির্বাচনে যাচ্ছেন কেন ? আমরা একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমের ক্ষমতার পরিবতনে বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথে ক্ষমতার পরিবর্তনের পথ নেই, হওয়া উচিৎ না। সেই কারণেই আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিই। আমরা অতীতে দু’য়েকটা নির্বাচন বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা মনে করি যে, এটা সঠিক হয়নি। এরপর থেকে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমাদের দলকে জনগণের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করতে চাই। আমরা মনে করি, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অংশ নেয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন-আমরা আগেই বলেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত আমরা আগেই নিয়েছি। ওটার কোনো পরিবর্তন হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে আমরা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে মনে করি।

বিএনপির মহাসচিবকে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের জন্য চট্টগ্রাম বিএনপি প্রস্তুত। আন্দোলন সংগ্রাম চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা-কর্মীরা সর্বোচ্চ মামলার শিখার হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ম্যাডাম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রিয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।

কোন মন্তব্য নেই