ভোলায় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে নিহত ২
উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করছে ঘুর্ণিঝড় “রোয়ানু”

0
1463651218বাংলাদেশের উপকুলীয় এলাকা অতিক্রম করছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এর অবস্থান মাত্র ২৫৫ কিলোমিটার দূরে।

 

ইতোমধ্যে ‘রোয়ানু’র প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে ঘর চাপা পড়ে এক কিশোরসহ দুইজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নিহত কিশোরের নাম আকরামুল (১৪)। আকরামুলের বাবার নাম মো. মফিজ। তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি।

উপজেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন দপ্তার জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে।

এছাড়া শনিবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এটি চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। শনিবার সকাল ৭টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন-১৭ তে জানানো হয়েছে শুক্রবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোসাগর এলাকা থেকে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ বর্তমানে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

1463641041আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সকাল বা দুপুর নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার রাত থেকে চট্টগ্রামে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭  নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার বিকেল থেকে এলার্ট-থ্রি জারি করেছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আতংকে উপকূলবাসী। সন্দ্বীপ, মীরসরাই, সীতাকু-, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়াসহ উপকূল এলাকায় মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে। আজ উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এর প্রভাবে এরই মধ্যে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। জোয়ারের পানিতে উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উপকূলবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার কিছু কিছু মানুষ মানুষকে সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ ক্রমেই উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালীরসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাত থেকে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। ইতোমধ্যে সব উপকুলিয় এলাকায় মাইকিং এবং স্বেচ্ছাসেবকরা লোকজনকে সরিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। আমি নিজেই গতকাল রাতে কর্মকর্তাদের নিয়ে পতেঙ্গা উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেছি।

1438278664ঘূর্ণিঝড়টি বাঁশখালী-আনোয়ারা উপকূল দিয়ে আঘাত হানার সম্ভাবনা আছে। তাই সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া বাঁশখালী-আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকায় থাকা লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। এই দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন।

পতেঙ্গাস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাতাসের গতিবেগ অপরিবর্তিত থাকলে আজ দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বরিশাল ও চট্টগ্রাম অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৪ মিটারের বেশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে আবহাওয়াবিদরা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে দায়িত্বরত মাহমুদুল ইসলাম বলেন, রোয়ানু চট্টগ্রামের দিকেই বেশি ঝুঁকে রয়েছে। তাই চট্টগ্রামে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার থেকে চট্টগ্রামে হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন