করোনাকালে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

ভয় ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতার জয় হোক

0
.

এম আবদুল্লাহঃ

প্রতিবছর ৩ মে বিশ্বজুড়ে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও সাংবাদিক সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থা এ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশেষ প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। এসব আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পেরিয়ে যায়। দিবসটি আসে, যায় কিন্তু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্য পাওয়ার অবাধ অধিকার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেনা। ঘটেনা বললে অবশ্য ভুল হবে, ক্রমাগতভাবে অবনতি ঘটে। তবে এই দিনটির ইতিবাচক দিক হলো, এ উপলক্ষে দেশের সংবাদকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের অবস্থা নিয়ে ভাবনাচিন্তার অবকাশ সৃষ্টি হয়। কিছু তথ্য পরিসংখ্যান সামনে আসে। বিচার-বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ দিবসটি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউনেস্কো দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির জানান দেয় আগে থেকেই। প্রতি বছর একটি করে প্রতিপাদ্য বিষয়ও নির্ধারণ করে। এবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জার্নালিজম উইদাউট ফিয়ার এ- ফেভার’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভয় ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতা’।

দিবসটি সামনে এলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশের কথা সামনে চলে আসে। এবার এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন গোটা বিশ্ব ঘাতক মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত। বিশ্বময় রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে নজীরবিহীন বিবর্তন ও স্থবিরতার মধ্যে দিনটি পালিত হচ্ছে। গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। যুদ্ধকালে যেমন গণমাধ্যমকে চরম ঝুঁকি ও প্রতিমূহুর্ত টিকে থাকার লড়াই করে যেতে হয়, এই সময়ের গণমাধ্যমপ্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের অবস্থাও তেমনই। এটা সাময়িক। একসময় করোনাবিরোধী যুদ্ধে পৃথিবী জয়ী হবে নিশ্চয়। আবার ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য। পুরোপুরি পূর্বাবস্থায় পৃথিবী ফিরবে কিনা সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় থাকলেও লকডাউনের বন্দীত্ব ও একঘেঁয়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হবে এটাতো বলাই যায়।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দৃষ্টিপাত করা যাক আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে। এ দিবসটির প্রাককালে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সোচ্চার প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) প্রতি বছরের মত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার একটি বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশ আগের বছরের তুলনায় একধাপ পিছিয়েছে। ১৮০টি দিশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১।

বাংলাদেশ যে শুধু পিছিয়েছে, তা-ই নয় প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে, এমনকি অঘোষিত সেনাশাসনে থাকা মিয়ানমারের চেয়েও। তালিকায় ৬৭ নম্বরে থাকা ভুটান এ অঞ্চলে মুক্ত সাংবাদিকতার শীর্ষে। এরপরই আছে মালদ্বীপ, দেশটির অবস্থান ৭৯। তালিকায় মিয়ানমারের অবস্থান ১৩৯, ভারত ১৪২, পাকিস্তান ১৪৫, শ্রীলঙ্কা ১২৭, নেপাল ১১২ এবং আফগানিস্তান ১২২। ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পেছনে যারা আছে তাদের অধিকাংশই যুদ্ধবিধ্বস্ত। একদম তলানিতে অর্থাৎ ১৮০ নম্বরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে সমালোচিত শাসক কিম জং-উনের দেশ উত্তর কোরিয়া থেকে আমাদের দূরত্ব মাত্র ২৮ ধাপ।

বাংলাদেশের এই অবস্থানের ব্যাখ্যায় আরএসএফ বলছে, দেশটিতে রাজনীতি করা যত কঠিন হয়ে উঠেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার লঙ্ঘনও তত বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও এর নেতৃত্ব ২০০৯ সাল থেকে যে কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, তার শিকার সাংবাদিকরা। ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন, ইচ্ছে হলেই ওয়েবসাইট বন্ধ, সরকারের সংবাদ সম্মেলনে দেশের দুই শীর্ষ দৈনিক অংশ নিতে না দেওয়া এর কিছু উদাহরণ।

সংগঠনটির বার্ষিক রিপোর্টে ২০১৩ সালে থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ থেকে ১৪৬ এর মধ্যে ছিল। পরের বছর বাংলাদেশের অবস্থান গিয়ে দাঁড়াায় ১৫০ এ। সেখান থেকে চলতি বছর নামল আরও একধাপ। যদি আরও পেছনে দৃষ্টি দেওয়া যায় তা হলে দেখা যাবে ২০০৯ সালে মুক্ত গণমাধ্যম ইনডেক্সে বাংলাদেশ ছিল ১২১তম। তখন অবশ্য মূল্যায়নের পদ্ধতি ভিন্ন ছিল। ২০১৩ সাল থেকে বিদ্যমান পদ্ধতিতে সূচক নির্ণয় করা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে প্যারিস থেকে আরএসএফ বাংলাদেশের গণমাধ্যমের যে চিত্র দেখছে বা পাচ্ছে সেটাই কি আসল চিত্র? নাকি প্রকৃত অবস্থা আরও খারাপ? আরএসএফ হয়তো জানে না গত এক বছরে কত সাংবাদিক দেশের আনাচে-কানাচে নিগৃহীত হয়েছেন। মূলত যেসব নিপীড়নের ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পায়, দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে সেসব তথ্যই আরএসএফ তাদের বিবেচনায় নিয়ে থাকে। তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা কি তার একটা খন্ড চিত্র এখানে দেয়া যাক।

পরিসংখ্যানে যাওয়ার আগে সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসের কয়েকটি সংবাদ শিরোনামে নজর দেয়া যেতে পারে। মুুুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলা (প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল), বিডিনিউজ ও জাগোনিউজ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা (প্রথম আলো, ১৭ এপ্রিল), গণমাধ্যমে কথা বলতে নার্সদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা (যুগান্তর, ১৮এপ্রিল), ডিজিটাল আইনে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, একজন কারাগারে (প্রথম আলা, ২৫ এপ্রিল), চট্টগ্রামে সাংবাদিককে মারধোর, কনষ্টবল প্রত্যাহার (যুগান্তর, ১৪ এপ্রিল), সাংবাদিক তুহিনকে পুলিশের মারধোর (মানবজমিন, ১৫ এপ্রিল), সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পুলিশ কনস্টবল (সমকাল, ১৫ এপ্রিল, বাগেরহাটে মাইটিভির সাংবাদিক নিগ্রহের খবর), সোনাগাজীতে কালের কন্ঠের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি (নয়াদিগন্ত, ৩ এপ্রিল), করোনার খবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন (প্রথম আলো, ২৯ এপ্রিল), সাংবাদিকদের জানার সুযোগ কমাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল)। এ হচ্ছে মোটা হরফে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের শিরোনাম।

এছাড়া অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও যেসব সাংবাদিক নিগ্রহের খবর পাওয়া গেছে তার কিছু শিরোনাম হচ্ছে এরকম- চাল চুরির অভিযোগ করায় ভোলায় সাংবাদিককে নির্যাতন, ফেসবুক লাইভ (১ এপ্রিল), ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, হবিগঞ্জেও সাংবাদিকের ওপর হামলা (২ এপ্রিল), ’বাইরইচস ক্যা’ বলেই সাংবাদিককে পিটাতে শুরু করে পুলিশ (৮ এপ্রিল, মিরপুরের রূপনগরে দুই সাংবাদিক নিগ্রহের খবর), বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দফতরে মাদক বিক্রির ছবি তুলতে গিয়ে বাংলাভিশনের ক্যামরাপার্সন লাঞ্ছিত (১৮ এপ্রিল), খাদ্যবান্ধব চাল চুরির রিপোর্ট করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিক (১৩ এপ্রিল), সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এসআই প্রত্যাহার (১২ এপ্রিল), ত্রাণের চাল সিন্ডিকে নিয়ে রিপোর্ট করায় নরসিংদীতে হামলায় রক্তাক্ত এসএটিভির সাংবাদিক (১৮ এপ্রিল), কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের হাতে রাঞ্ছনার শিকার সাংবাদিক (১৫ এপ্রিল), তালায় দুই সাংবাদিকসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম (১৫ এপ্রিল), এবার রাজশাহীতে সাংবাদিক পেটালেন পুলিশের এসআই (৫ এপ্রিল, এটিএন নিউজের ক্যামরাপার্সন নিগ্রহের খবর)। করোনা মহামারিকালে যখন সাংবাদিকরা অপেক্ষাকৃত কম কর্মক্ষেত্রে ও মাঠে-ঘাটে যাচ্ছে তখনকার নিগ্রহের চিত্র এটি, এবং এ চিত্রটি এক মাসের। আবার এর বাইরেও ঘটনা ঘটে থাকতে পারে যা গণমাধ্যমের সংবাদ হয়নি বা লেখকের নজরে আসেনি।

এবার চলতি ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) সাংবাদিক নিপীড়নের পরিসংখ্যান জানা যাক। প্রথম মাস জানুয়ারিতে হামলা, নির্যাতন, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ২০জন সাংবাদিক। এর মধ্যে সম্পাদক পর্যায়ের অন্তত ৪ জনকে মামলায় আসামী হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। এক সম্পাদক ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার হয়েছেন।

১৪ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা মামলার শিকার হয়েছেন ফেব্রুয়ারি মাসে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি নির্বাচনকালে এক দিনেই ১০জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হন।

মাস মার্চে একজন সিনিয়র ফটো সাংবাদিক কাজল গুম হয়েছেন। সন্ত্রাসী হামলা, নির্যাতন, ডিজিটাল আইনে হয়রানিমূলক মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন আরও কমপক্ষে ১৩জন সংবাদকর্মী। ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে অপহরণ ও গুম করে রাখার ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়। ৫৪ দিন পর আজ (৩মে) তাকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে যশোর বেনাপোল সীমান্ত থেকে।কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা এ মাসে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এছাড়া কুমিল্লা, ভোলা, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা হয়। দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে এ মাসে।

এটা সত্যি, গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতা সারা পৃথিবীতেই এখন বিপদের মুখোমুখি। তবে বাংলাদেশের চিত্রটা একটু ভিন্ন। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিবেদন বলছে, এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা দুই-ই এখন এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে যে তাকে উদ্বেগজনক বললে সামান্যই বলা হয়। গণমাধ্যমের এই অবস্থার প্রভাব যে এই পেশার মধ্যে সীমিত আছে তা নয়, বরং তার পরিণতি ক্রমাগতভাবে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তার লাভ করেছে। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বে টান পড়তে দেখা যাচ্ছে। নির্বিচারে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে কয়েশ’ সংবাদকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গোটা সেক্টরে অস্থিরতা ও আর্থিক ভঙ্গুর অবস্থার কারণে এমনটা হচ্ছে।

গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, গণতন্ত্র যেখানে দুর্বল, সেখানে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম থাকতে পারে না। স¦াধীন সাংবাদিকতা না থাকলে সংবাদমাধ্যম টেকেনা। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম অনেক দিন ধরেই প্রচন্ড চাপের মধ্যে আছে। অনেকে দাবি করবেন-দৃশ্যত কোনো চাপ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখানে গণমাধ্যমগুলো নিজেরাই সেন্সরশিপ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং তা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত চোখরাঙানির মুখোমুখি। কড়া মনিটরিং, ভয়ভীতি, অদৃশ্য চাপ, বিজ্ঞাপনদাতাদের ব্যবহার করে অর্থনৈতিক চাপে রাখার অপচেষ্টা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে শৃঙ্খলিত গণমাধ্যমের চিত্রই ফুটে উঠে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো পুলিশ, কখনো সরকারি দলের কর্মী আবার কখনো সামাজের পেশীশক্তি ও দুর্বৃত্তচক্রের হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। বিচারহীনতা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাগুলো বাংলাদেশে গণমাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। সরকারকে অনুধাবন করতে হবে গণমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক ও সহায়ক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে অনিয়ম, অনাচার ঘটে তা গণমাধ্যমের বরাতেই সরকারের নজরে আসে বলেই ব্যবস্থা নিতে পারে। এই করোনাকালে খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে যেভাবে নয়-ছয় হয়েছে তা গণমাধ্যম তুলে আনতে পেরেছে বলেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পেরেছে। ত্রিশ জনের বেশী জনপ্রতিনিধি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এর ফলে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সচেতনামূলক তথ্য, প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ প্রচার করছে বলে করোনা মহাদুর্যোগ মোকাবিলা সহজতর হচ্ছে। অতএব নিয়ন্ত্রিত নয়, মুক্ত সাংবাদিকতাই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর।

লেখক : এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তা্ই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়।

কোন মন্তব্য নেই