কর্ণফুলী উপজেলা: যেন চেরাগের নীচে অন্ধকার!

0
.

শারমিন মনি:

নদীকেন্দ্রিক, ব্যবসা বান্ধব, শহরের এত কাছে হয়েও,কেন আমাদের কর্নফুলী উপজেলা এত পিছিয়ে আছে সর্বক্ষেত্রে? আমাদের উপজেলার অবস্থা দেখলে মনে হয়, চেরাগের নিচে অন্ধকারের মতো।

আমরা জানি একটা এলাকার উন্নতির প্রথম চাবিকাঠি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন।

যেখানে বাঁশখালী উপজেলা শহর থেকে এত দূরে হয়েও সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ শিক্ষিত। অথচ একটা নদী পাড় হলে যেখানে আমরা অতি সহজে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ পাই। সেখানে আমাদের উপজেলা শিক্ষার ক্ষেত্রে এত পিছিয়ে।

আমাদের এই পিছিয়ে থাকার প্রধান অন্তরায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দ্বিতীয় কারণ নদীকেন্দ্রিক ব্যবসার মাধ্যমে কাঁচা টাকার সহজলভ্যতা ও সচেতনতার অভাব। এখন অবশ্য দৃশ্যপট কিছুটা পাল্টেছে।

মেয়েদের অবস্থা ছিল আরও করুন।কোনভাবে এস.এস.সি পাশ করার পর তাদের আর শহরের কলেজে পড়তে যাওয়ার সুযোগ হতো না।কিন্তু এইক্ষেত্রে আয়ুব বিবি কলেজ এবং এ, জে,চৌধুরী কলেজ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এই কলেজগুলো না হলে হয়ত অনেক মেয়েকে এখনো এস.এস.সির পর তাদের পড়ালেখা ইস্তফা দিতে হতো। আমাদের উপজেলাটি শহরে আসা যাওয়ার প্রবেশদ্বার এবং নদীবেষ্টিত হওয়ায় অনেক সম্ভাবনাময়।

জানি না কতটুকু যুক্তিসম্মত হবে, এইখানে আইনের মারপ্যাচও বা কতটুকু? তবুও আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে বলছি, মইজ্জারটেকের পাশে আবাসিক এলাকাটি অনেক বছর যাবত দেখছি খালি পরে আছে। এটাকে কি কোনভাবে কাজে লাগানো যায় না? এতে কি কোন প্রতিবন্ধকতা আছে? সেখানে যদি একটা সরকারি হাসপাতাল, একটা বিশ্ববিদ্যালয় করা যায়, উপজেলার চিত্র টা-ই পাল্টে যেত।

সদ্য প্রতিষ্ঠিত উপজেলা হওয়াতে আমাদের উপজেলার সুযোগ্য অভিভাকরা চেষ্টা করছেন জানি, তবুও অনুরোধ রাখছি আমাদের কর্নফুলী উপজেলার অভিভাবকরা যদি আরেকটু আন্তরিক হয়ে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও ঢালাওভাবে সাজিয়ে তুলেন তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের মানচিত্রে আমাদের কর্নফুলী উপজেলার নাম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

এত বছর পশ্চিম পটিয়া হিসেবে, পূর্ব পটিয়া এবং পশ্চিম পটিয়ার গ্যারাকলে পরে পশ্চিম পটিয়ার স্বমহিমায় প্রজ্বলন হওয়ার সুযোগ হয়ে উঠেনি।

এখন কর্নফুলী উপজেলা হিসেবে যখন সুযোগ এসেছে। আসুন স্ব স্ব ক্ষেত্র থেকে নিজেদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি। আমাদের উপজেলাকে বাংলাদেশের বুকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলি।

 লেখিকা: শারমিন মনি, ব্যাংকার, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, চট্টগ্রাম।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তা্ই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়।”

কোন মন্তব্য নেই