বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে লোহাগাড়ার ইউপি সদস্য গ্রেফতার

0
.

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় পদুয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনকে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করলে আমরা আসামীর অবস্থান শনাক্ত করি। পরে রাত ১টার দিকে চান্দগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় নগরী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, লোহাগাড়ার পদুয়া এলাকার খতিজাতুল কোবরা নামে এক বিধবা নারীকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিলেন পদুয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছিলেন তিনি। ওই নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছেন বলেও অভিযোগ ছিল ইউপি সদস্য আনোয়ারের বিরুদ্ধে।

চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, লোহাগাড়ার বাসিন্দা এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার লোহাগাড়া থানায় মামলা দায়ের হয়। লোহাগাড়া থানার রিকুইজিশন পেয়ে তাকে গ্রেফতারে করা হয়েছে। আজকে সকালে তাকে লোহাগাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে এরআগে গত ১২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে মেম্বার আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, পশ্চিম পদুয়া মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী খদিজাতুল কোবরার ছেলে আব্দু্ল্লাহ আল সাইমন আমার সাথে থেকে আমার বিভিন্ন প্রজেক্টের দেখাশােনা করত। সাইমনের কারণে তার পরিবারের সাথে আমার সামাজিক সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়। উক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে খদিজাতুল কোবরা বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিতো আবার ফেরত দিতো। তার সাথে বিশ্বাস জমিয়ে বিভিন্ন তারিখে নগদ টাকা ও গৃহ সামগ্রী হার্ডওয়ারের জিনিসপত্র ক্রয় ইত্যাদি উপলক্ষে একলক্ষ বাষট্টি হাজার আটশত পঞ্চাশ টাকা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করে। গত ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে উক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে আমি ১২/০৮/২০২০ ইং তারিখে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত, চট্টগ্রাম বরাবর মামলা দায়ের করি। যার মামলা নং ১৭৩/২০২০ ইং। এসবের কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে।

কোন মন্তব্য নেই