পদত্যাগের পর অসুস্থ আহমদ শফী চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে

0
.

দেশের প্রাচীনতম বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামীর আমীর আল্লামা আহমদ শফীর ত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ছাত্রদের টানা বিক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) পদ থেকে পদত্যাগ ঘোষণা করার পর অসুস্থতাবোধ করায় আল্লামা শফীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে মাদ্রাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তার জন্য চিকিৎসা বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে আল্লাম শফীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

.

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান হেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এরপর মাদ্রাসার শুরা কমিটির সদস্য মাওলানা নোমান ফয়জী জানান, এখন থেকে মাদ্রাসা পরিচালনা করবে শূরা কমিটি। আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানি ও মাদ্রাসার শিক্ষক নুর ইসলামকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। শূরা কমিটি পরবর্তী সভায় নতুন মুহতামিম নির্ধারণ করবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত হাটহাজারী খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হেফাজত নেতাকর্মীরা কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

এর আগে বিভিন্ন দাবিতে গত বুধবার থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিক্ষোভ শুরু করে একদল ছাত্র। এ সময় আহমদ শফীসহ বিভিন্ন শিক্ষকের রুমে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো লাঠি হাতে পুরো মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নেয় আন্দোলনরত এক পক্ষের শিক্ষার্থীরা। তারা মাদ্রাসার সব গেট তালাবদ্ধ করে রাখে। এদিকে অন্যপক্ষে হাটহাজারী মাদ্রাসার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজে আপলোড করা এক ভিডিও বার্তায় আহমদ শফীর কক্ষে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারি ওই আদেশ না মানার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম প্রাচীন হাটহাজারী মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অস্থিরতা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। হেফাজতে আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বাবুনগরীকে নায়েবে মুহতামিম পদ থেকে সরিয়ে দেয়া এবং কোণঠাসা করে রাখার পেছনে আনাস মাদানীকে দায়ী করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই