নগরীর পাথরঘাটা মাতৃমন্দিরে ‘কুমারী পূজা’ অনুষ্ঠিত

0
.

চট্টগ্রাম মহানগরীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গোৎসবের মহা অষ্টমীতে বর্ণিল ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা।

নগরীর পাথরঘাটার রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমারী পূজা’ হলো এক বিশেষ ধরনের পূজা, যে পূজায় এক কিশোরী কন্যাকে দেবীর আসনে বসিয়ে ‘মাতৃরূপে’ পূজা-অর্চনা করা হয়।

দার্শনিক মতে, ‘কুমারী পূজা’ সমাজে মেয়েদের মূল্য প্রতিষ্ঠা করে। কুমারীত্বকে মনে করা হয় শক্তির বীজ, সৃষ্টি, স্থিতি, লয়ের প্রতীক। নারীত্ব ও প্রকৃতির প্রতীক কুমারীত্ব। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তবরূপ ‘কুমারী পূজা’।

পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার চতুর্থ দিন রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা উদযাপন করবেন মহা নবমী।

মন্দিরের শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজের পৌরহিত্য সফলভাবে কুমারী পূজা সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রামের কুমারী পূজায় মায়ের আসনে বসানো হয়েছিলো স্থানীয় সেন্ট যোসেফস স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শ্রেয়া বিশ্বাস তাথৈকে। তাথৈ নগরীর দেওয়ানজী পুকুর পাড় এলাকার শ্যাম কুমার বিশ্বাস ও তনিমা বিশ্বাস (টিনা) দম্পতির কন্যা।

কুমারী পূজায় মন্দিরের পূরহিত শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয় তারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা।

কুমারীতে সমগ্র জাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি, পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তিসহ সব কল্যাণী শক্তি সূক্ষ্মরূপে বিরাজিত। কুমারী প্রতীকে জগৎ জননীর পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ হয়। এ রূপ কুমারী সমগ্র জগতের বাক্যস্বরূপা, বিদ্যাস্বরূপ। তিনি এক হাতে অভয় ও অন্যহাতে বর দেন।’

কোন মন্তব্য নেই