ডবলমুরিং-এ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জায়গা দখল!

0
.

উচ্চ আদালতে আদালতে স্থিতিশীল থাকা চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার কাছেই মুনছুরাবাদ এলাকায় বিরোধপূর্ণ একটি জায়গা দিন দুপুরে দখল নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফা-হাকিম সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে।

অবৈধভাবে জায়গা দখলে নিতে পুলিশের সহযোগিতা পেয়েছে প্রভাবশালীরা এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগি জায়গার মালিক।

.

জানাগেছে, নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন সিএসডি গুদাম সংলগ্ন আসকারাবাদে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।  এ অবস্থায় গত ১৭ ফেব্রয়ারী বুধবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে জায়গার মালিক মোঃ ইলিয়াছের দখলে থাকা (গ্যারেজ ও মালামাল রাখার স্থান) দখল করে টিন দিয়ে ঘিরে ফেলে।

ঘটনা সময় সাদা পোষাকে ডবলমুরিং থানার এস আই ওয়াহিদুল্লাহ দখলদারদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

জবর দখলের সংবাদ পেয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখের মোস্তাফা হাকিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গোল্টেন ইস্পাতের নিজস্ব ট্রাক (ভোলা-ট-১১-০০৭৩) ও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জমিতে লোহার সিট দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ করছে৷ এসময় নিজেকে তাহের সাহেবের লোক পরিচয় দেয়া ব্যক্তি জানান, স্যার বলেছেন তাই আমরা জায়গার দখল নিয়েছি৷ এসময় আদালতে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত সাইনবোর্ডটির পাশে “এই জায়গার মালিক আলহাজ্ব মোস্তাফা হাকিম সিমেন্ট ইন্টাঃ লিঃ” লিখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় তারা৷

দখলের আগের সাইনবোর্ড। ও দখলের নেয়ার পর সাইনবোর্ড।

এই বিষয়ে দখলে থাকা জায়গার মালিক পক্ষের একজন মোঃ ইমন সাংবাদিকদের বলেন, জমির আমমোক্তার মোহাম্মদ ইলিয়াছ মহামান্য হাইকোর্টে একটি সিভিল রুল নং-৪২৭ (এফএম) ২০১৯ এর প্রেক্ষিতে বিগত ১৯/০৫/২০১৯ ইং তারিখে হাইকোর্টের বিচারপতি মোমিনুর রহমান এবং বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাশ গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নালিশী তপশীলোক্ত সম্পত্তি থেকে আমাদের দখলীয় এই সম্পত্তি হইতে নাবেদখল করিতে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রচার করেন। এর প্রেক্ষিতে বিগত ১০/০৮/২০১৯ ইং তারিখে সার্বিক বিষয়টি সিএমপি’র কমিশনারকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়৷ আবেদনে, মোস্তাফা-হাকিম গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার মোঃ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে আইনের তোয়াক্কা না করে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ভংগ করে এই সম্পত্তি দখলের পায়তারা অভিযোগ জানানো হয়৷

.

সেই সাথে জায়গাটিতে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করতে ডবলমুরিং থানা পুলিশকে নির্দেশ দিতে পুলিশ কমিশনার বরাবরে আবেদন করা হয়৷ এতোদিন সব স্থিতি অবস্থায় ছিলো কিন্তু নতুন ওসি সাহেব (মোঃ মহসিন) ডবল মুরিং থানায় যোগ দিতে না দিতেই আজ জায়গাটি অপর পক্ষকে দখল করলো৷ দখলি জায়গাতে তাদের নিজস্ব ৪টি ট্রাক রয়েছে৷ এছাড়া দখলকারীরা জায়গাটি থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ইমন৷

এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে থানার পুলিশ একটি কাগজ দেখিয়ে সেটাকে আদালতের আদেশ বলে দাবি করলেও সেই কাগজের কোন কপি ভুক্তভোগীদের দেয়নি৷ এবং কোন অভিযোগ নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন৷ এই বিষয়ে আগামীকাল আদালতে অভিযোগ দায়েরে প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে৷ ঘটনাস্থলে মোস্তাফা হাকিম গ্রুপ পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকায় তাদের আর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতক্ষ্যদর্শী সেলিম বলেন- এই জায়গা দীর্ঘদিন ইলিয়াছ গংদের মালিকানায় গাড়ির গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। হঠাৎ করে কয়েকদিন আগে লোকজন এসে টিন দিয়ে ঘেরাও করে দখলে নিয়ে নেয়।  এখন এই গ্যারেজে বেশ কয়েকটি ট্রাক আটক পড়েছে।

.

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোস্তাফা হাকিম গ্রুপের কর্ণধার আবু তাহেরের ছেলে ও সীতাকুণ্ড আসনের সংসদ সদস্য মো. দিদারুল আলম জানান, আমাদের ক্রয় করা জায়গা আমরা লোকজন নিয়ে ঘেরাও করেছি।  যারা জায়গা দাবী করছে তারা ভুয়া। তাদের কোন কাগজ নেই। উচ্চ আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই আমরা জায়গা বুঝে নিয়েছি।

এই বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ওসি মহসিন বলেন, জায়গা দখলের সাথে পুলিশ জড়িত না। ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল করেছে। তিনি দুইপক্ষ জায়গা তাদের দাবী করছে। যারা দখলে নিয়েছে তারা বলছে কোর্ট তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। অপর পক্ষ বলছে কোর্ট এ জায়গার উপর স্থিতিশীল জারি করেছে।  আমরা দুই পক্ষকে তাদের আইনজীবি নিয়ে এবং কাগজপত্র নিয়ে থানায় বৈঠকে বসতে বলেছি।

কোন মন্তব্য নেই