পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে চীনা রকেটের সেই নিয়ন্ত্রণহীন অংশ (ভিডিও)

0
.

অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে চীনের সেই রকেটের ধ্বংসাবশেষ। যে কোনো সময় এটি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে।

তবে কখন আছড়ে পড়বে, কেউ তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছেন না। আছড়ে পড়ার কেবল ঘণ্টাখানেক আগে বিজ্ঞানীরা হয়তো সেটি ঠিক কোথায় পড়তে যাচ্ছে সেটি চিহ্নিত করতে পারবেন।-খবর বিবিসির

গত মাসে চীনের নতুন মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউলটি নিয়ে কক্ষপথে রওনা দেয় লং মার্চ ৫বি নামের রকেটটি।

তিয়ানহে মডিউল চীনের নির্মাণাধীন স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্টেশনটির তিন ক্রুর বসবাসের কোয়ার্টার এই মডিউলটিতে করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের জন্য কক্ষপথে মোট ১১টি মিশন পরিচালনা করবে চীন। এর প্রথমটিতেই লং মার্চ ৫বি রকেটে করে তিয়ানহে মডিউল কক্ষপথে পাঠানো হয়। বায়ুমণ্ডলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বস্তু হলো ১৮ টন ওজনের এই ধ্বংসাবশেষ।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) ধ্বংসাবশেষটি নজরে রাখার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে এটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, আমরা আশাবাদী, এটি এমন কোথাও আছড়ে পড়বে, যেখানে কারো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। সম্ভবত সমুদ্র কিংবা এমন কোনো স্থানে এটি এসে পড়বে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, রকেটের ধ্বংসাবশেষ আগামী ১০ মে বা তার দুই/একদিন আগে-পরে পৃথিবীতে পড়তে পারে। রকেটের ধ্বংসাবশেষ এখন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে এবং যে কোনো সময় এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে প্রবেশ করবে।

১৯৯০ সালে বিজ্ঞনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ১০ টন ওজনের একটি রকেট পৃথিবীর কক্ষপথে ছেড়ে দিয়েছিলেন। যেটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে। লং মার্চ ৫বি এর অংশটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ধসে পড়তে যাওয়া সবচেয়ে বেশি ওজনের ধ্বংসাবশেষ হতে যাচ্ছে।

ধ্বংসাবশেষটি ৯৮ ফুট লম্বা এবং ১৬ ফুট চওড়া। সেটি বর্তমানে কক্ষপথ হয়ে পৃথিবীর দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসছে।

কোন মন্তব্য নেই