চকরিয়ায় কলেজ ছাত্রের জবাই করে হত্যা

0

1441365632_35957_1কক্সবাজারের চকরিয়া এক কলেজ ছাত্রকে জবাই করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

রোববার সকালে পুলিশ মোর্শেদ আলম (২২) নামে এ কলেজ ছাত্রের  গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে।

সকাল দশটায় চিরিঙ্গা ইউনিয়নের পালাকাটা রাবার ড্যামের পাশে একটি গর্ত থেকে তার জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মোর্শেদ আলম একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সওদাগর ঘোনা এলাকার জহির আহমদের ছেলে ও ডুলাহাজারা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

নিহত মোর্শেদের বড় বোন মুর্শিদা বেগম পাঠক ডট নিউজকে জানান, তার ছোট ভাই মোর্শেদ আলম গত শনিবার রাত নয়টার দিকে বাড়ির পাশে একটি দোকানে ক্যারাম খেলছিলো। এসময় স্থানীয় কালা মনুর স্ত্রী ও তাদের আত্মীয় ইসমত আরা বেগম নামের এক মহিলা ক্যারাম খেলারত মোর্শেদকে কথা আছে বলে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। তখন থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।

আজ সকাল নয়টার দিকে রামপুর এলাকার কয়েকজন জেলে মাতামুহুরী নদীতে মাছ ধরতে গেলে রাবার ড্যামের পাশ্ববর্তী একটি গর্তে মোর্শেদ আলমের লাশ দেখতে পেয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনকে খবর দেয়। পরে চকরিয়া থানা পুলিশ সকাল দশটার দিকে ওই স্থানে গিয়ে মোর্শেদের লাশ উদ্ধার করে।

এব্যাপারে মুর্শিদা বেগম বাদি হয়ে স্থানীয় দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জালাল উদ্দিন ও সামসুল আলমের ছেলে নাছিরউদ্দিনসহ আটজনকে আসামী করে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বাদি আরও জানান, তার ভাইকে ইসমত আরা বেগমের বাড়িতে ডেকে নিয়ে গেয়ে জবাই করে হত্যার পর গভীর রাতে তার লাশ রাবার ড্যামের গর্তে ফেলে দিয়েছে। ২০১৪সালে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে একই ভাবে তার অপর ভাই খোরশেদ আলমকেও জালাল উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন গংরা হত্যা করেছিলো।

ওই মামলায় আপোষ দেওয়ার জন্য মোর্শেদকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিলো খুনিরা। আপোষ না দেয়ায় শেষ পর্যন্ত মোর্শেদকে হত্যা করা হয়।

চকরিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান পাঠক ডট নিউজকে জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ রাবার ড্যাম থেকে মোর্শেদের জবাইকৃত লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

এঘটনায় তার বোন আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে। এলাকাবাসি জানান, নিহত মোর্শেদ তার বড় ভাই চিংড়িজোনের ত্রাস আলকোমাসের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলো।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন