ভারতে নারীর সঙ্গে নারীর বিয়ে নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড়

3
.

ভারতের পাঞ্জাবে এক সমলিঙ্গ বিবাহের ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার সরকারি এক নারীকর্মী বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন তারই এক নারী সঙ্গীর সাথে। ওই রাজ্যে দুজন মেয়ের মধ্যে বিয়ের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

রাজ্য সরকারের ওয়ার্ডেন পদে কর্মরত মনজিৎ কাউর সান্ধু (৪৪) কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন ২৭ বছর বয়সী তারই সহকর্মী বান্ধবীকে।

যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে বেশ মাতামাতি হচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

অবশ্য এই বিয়ে নিয়ে মিডিয়াতে অনেক ভুলভাল জিনিসও লেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মনজিৎ সান্ধু। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো আমার ব্যক্তিগত জীবনে অবাঞ্ছিত নাক-গলানো ছাড়া কিছুই নয়।’

তিনি আরও বলেছেন ‘যেমন অনেকেই লিখেছে আমি নাকি একজন পুলিশকর্মী-সেটা ঠিক নয়। তা ছাড়া আমি কোনওদিন অপারেশন করিয়ে আমার লিঙ্গ পরিবর্তনও করাইনি।’

মনজিৎ সান্ধু জানিয়েছেন, তার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয় এটা নিয়ে এত হইচই করারও কিছু নেই। তাদের দুই পরিবারের সদস্যদেরই এই বিয়েতে সমর্থন ছিল এবং তারা সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।

পাঞ্জাবের জলন্ধর শহরের পাক্কা বাগ এলাকায় একটি মন্দিরে হিন্দু রীতিনীতি অনুযায়ী এই বিবাহ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় বলেও জানা গেছে। ধর্মীয় রীতি অনুসারে বিয়ের পর শহরের একটি হোটেলে নবদম্পতির সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। তাতে তাদের পরিবারের লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও হাজির ছিলেন।

মনজিৎ এরপর লাল পাগড়ি পরে ও ঘোড়ায় টানা রথে চেপে ‘নববধূ’কে নিয়ে তার বাড়িতে এসে ওঠেন। যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে, মনজিৎ তার নাম অবশ্য প্রকাশ করেননি। তবে এই বিয়ের ছবি ও ভিডিও কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। জলন্ধরসহ গোটা পাঞ্জাবে এ বিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সুত্রঃ বিবিসি বাংলা