এ বাজেট উন্নয়ন সহায়ক বাজেট-চিটাগাং চেম্বার সভাপতি

2
মাহবুবুল আলম।

আজ ১জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম এটিকে উন্নয়ন সহায়ক বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন-ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং অবচয়ন বিবেচনাপূর্বক এ সীমা বৃদ্ধি করা উচিত। একইভাবে মহিলা এবং ৬৫ উর্ধ্ব করদাতাদের ক্ষেত্রেও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা উচিত। চেম্বার ও ব্যবসায়ীদের বারংবার দাবীর পরও ১৫% ভ্যাট হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আমরা আবারও এ হার পুনর্বিবেচনা করে ১০-১২% করার দাবী জানাচ্ছি।

মাহবুবুল আলম বলেন, চেম্বারের দাবীর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট নিরসনে লালখান বাজার হতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কি.মি. দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর ডাবল লাইন উন্নীতকরণ এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেললাইন সম্প্রসারণকে স্বাগত জানিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম মহানগরের যানজট নিরসন, চট্টগ্রাম-ঢাকা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৬ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে টার্ণওভার করের সীমা ৮০ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি করে ১ কোটি ৫০ লক্ষ নির্ধারণ করা হলেও সেক্ষেত্রে করের হার ৩% থেকে বৃদ্ধি করে ৪% করা হয়েছে। টার্ণওভারের সুবিধা যাতে ব্যবসায়ীরা পায় সে লক্ষ্যে করহার আগের মত ৩% নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

আগের ন্যায় মৌলিক খাদ্য যেমনঃ চাল, ডাল, চিনি, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, লবণ ইত্যাদিসহ প্রায় ৫৪৯ টি পণ্যের উপর ভ্যাট অব্যাহিত বহাল রাখা হয়েছে। একই সাথে ৯৩ ধরণের জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, গণপরিবহন সেবা, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর ভ্যাট অব্যাহতি, কৃষি, গবাদি পশু, মৎস্য চাষসহ সংশ্লিষ্ট ৪০৪টি ক্ষেত্রে এবং ধাতব্য, অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি ইতিবাচক।

১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮০০ টাকা করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষকে ব্যাংকে আমানত রাখার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই পূর্বের ন্যায় ৫০০ টাকা বহাল রাখার আহবান জানাচ্ছি।

পামওয়েল ও সয়াবিন উৎপাদন এবং এলপিজি সিলিন্ডারের ভ্যাট অব্যাহতি ৩০ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে যা প্রশংসার দাবীদার। শিল্প কারখানা নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় পণ্যে ৫% এর অতিরিক্ত সকল শুল্ক কর মওকূফ করা হয়েছে। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে সারা দেশের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে উরমরঃধষ অফফৎবংংধনষব ঝুংঃবস এ আনার প্রস্তাব করা হয়েছে যা তথ্য প্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

ভ্যাট আহরণের সুবিধার্থে ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহারের জন্য বলা হলেও এক্ষেত্রে এখনো যথাযথ অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। অন্যদিকে ভ্যাট কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা প্রণোদনা ও পুরস্কার নীতিমালার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক সময় করদাতাদের উপর হয়রানীর মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে যা প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে।

কৃষি খাতে প্রধান উপকরণ সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শুল্কহার ০ (শূন্য) করা হয়েছে এবং চাল আমদানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে যাতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পায়। মৎস্য পোল্ট্রি ও ডেইরী খাতে খাদ্য সামগ্রী ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি বহাল রাখার পাশাপাশি কতিপয় পণ্যে প্রণোদনা প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি খাতে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে তৈরীর লক্ষ্যে উপকরণ আমদানিতে ১% আমদানি শুল্কসহ সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। চামড়া শিল্পে বাসবার ট্রাংকিং সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রনিক প্যানেলকে মূলধনী যন্ত্রপাতির রেয়াতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। একই ধরণের সুবিধা সব ধরণের শিল্পের ক্ষেত্রে দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

প্রচুর সম্ভাবনাময় ঔষধ শিল্পের রপ্তানি আরো বিকশিত করার লক্ষ্যে কাঁচামালে শুল্ক রেয়াত সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় সিরামিক শিল্প সুরক্ষায় তৈরী সিরামিক আমদানিতে উচ্চ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশীয় ব্যাটারী চাহিদা পূরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানি শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তৈরীকৃত সোলার প্যানেল আমদানি শুল্ক ৫-১০% বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, আইপ্যাড ইত্যাদি উৎপাদন ও সংযোজনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। জুয়েলারী শিল্পের জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সামগ্রিকভাবে বাজেট উন্নয়নমূখী তবে ভ্যাট হার হ্রাস করা না হলে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে আমরা মনে করি।

2 মন্তব্য

একটি মন্তব্য দিন