যেভাবে সাজাবেন আপনার নতুন সংসার

8

ভালোবাসা পূর্ণতা পায় বিয়েতে, আর সুখী সংসারের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় বিয়ে। সংসার শব্দটি ছোট হলেও এটি সাজাতে প্রয়োজন হয় হাজারো জিনিস।  তবে ঘর সাজানোর আগে মন সাজানোটা বেশি জরুরী হয়ে পড়ে। কেননা, অনেককেই বিয়ের পরে বলতে শোনা যায়, তুমি আর আমায় আগের মতো ভালোবাসো না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেম করে যারা বিয়ে করেন তাদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দেয়। যা নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে সুখের সংসারে নেমে আসে একটু-আধটু অশান্তি। তাই নতুন সংসার সাজানোর আগে কিছু বিষয়ে দিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ। আর সে বিষয়গুলো কি তা আজই জেনে নিন-
কিছু সময় একসাথে কাটান
নতুন বিয়ের পর মেহমান, আত্মীয় স্বজন আর বন্ধুদের আনাগোনা তো থাকবেই। তবু এর মাঝেও নিজেদের মতন করে একটু সময় বের করে নিন। প্রতিদিনই চেষ্টা করুন কিছুটা সময় পরস্পরকে আলাদা করে দেয়ার। বাইরে কোথাও যেতে না পারলে বাসায় বসেই দুজন মিলে দেখে ফেলুন রোমান্টিক কোন মুভি, দুজনের পুরোনো দিনের তোলা ছবিগুলো একসাথে দেখতে পারেন।
নিজেদের বিশেষ দিনগুলো
কোনোভাবেই ভোলা যাবে না পরস্পরের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, প্রপোজ করা আর সেই সাথে আরো নানা ব্যাক্তিগত স্মৃতিময় দিনগুলো। মোবাইলে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন, ডায়েরীতে লিখে রাখুন বা রঙ্গিন কালিতে দাগিয়ে রাখুন ক্যালেন্ডারেই। আর বিশেষ দিনগুলো কাটান একটু বিশেষভাবে।
ধৈর্য
একসাথে থাকতে গেলে পরস্পরের অনেক বিষয় ভালো নাই লাগতে পারে। তার মানে এই নয় যে তক্ষুণি এর সমাধান বের করতে হবে। চিৎকার জুড়ে দিয়ে লাভ নেই। বরং ধৈর্য ধরুন। ছোট ছোট অপ্রাপ্তির জায়গাগুলো নিয়ে ধীরে ধীরে তাকে বুঝিয়ে বলুন। এমনও তো হতে পারে আপনার অনেক বিষয় তার পছন্দ নয়। সুতরাং বদলাতে হবে দুজনকেই।
পরস্পরকে বুঝতে চেষ্টা করুন
অনেক বোঝাপড়া শেষেই হয়তো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন আপনারা। কিন্তু তবুও এ কথা বলার কারণ হলো, মানুষ প্রতিনিয়তই বদলায়। সুতরাং বিয়ের পর কাছের মানুষটির কোন ধরনের পরিবর্তন দেখে ঘাবড়ে যাবার বদলে তাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। কথা বলুন তার সাথে।
ভালোবাসার প্রকাশ ঘটান
বিয়ের আগে বলা অনেক কথাই বিয়ের পর হারিয়ে যায়। তাই ‘তোমাকে তো ভীষণ সুন্দর লাগছে!’, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’, ‘চলোনা আজ কোথাও ঘুরে আসি’ এই কথাগুলো নিয়ম করে হলেও দুজন দুজনকে বলুন। এতে কুন্ঠার কিছু নেই। দেখবেন শুধুমাত্র কথাটি শুনেই আপনার কাছের মানুষ কত্তো খুশী!
পরস্পরের জন্য রান্না করুন
নিশ্চয়ই মনে আছে আপনার স্বামী/স্ত্রীটি কি খেতে ভালোবাসেন? এক কাজ করুন না, একদিন তার পছন্দের খাবারটি রান্না করে চমকে দিন না তাকে! রান্না করা খুব কঠিন কাজ নয়, বাজারে হাজারো রকম রান্নার বই তো আছেই! কোন একটা কিনে নিন।
কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন
ঘরের কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন। যদি দুজনের মাঝে একজন কর্মজীবী হন তাহলে স্ত্রীকে মাঝে মাঝে সহযোগিতা করুন ঘরের কাজগুলোয়। কর্মজীবী যদি দুজনই হোন তবে অবশ্যই এটা করুন। এতে আপনাদের সময় বাঁচবে ও সেই বাড়তি সময়টুকু কাটাতে পারবেন দুজন মিলে বেশ খানিকটা ভালো মুহূর্ত!
পরস্পরের পরিবারকে আপন ভাবুন
পরস্পরের পরিবারকে আপন ভাবুন। প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক নানা সমস্যা হতেই পারে কিন্তু কোন পরিবারের প্রতি রাগ পুষে না রেখে চেষ্টা করুন মানিয়ে চলার এবং কোন প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সঙ্গীকে জানান ও দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিন কীভাবে এর মোকাবেলা করা যায়।
শ্রদ্ধাশীল হোন
পরস্পরের চিন্তা, চেতনা, মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। নিজের মতামত সব সময় চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। তিনি ভুল কিছু বলে থাকলে তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝান।
দূর্বল জায়গায় আঘাত করবেন না
যেহেতু আপনারা আগে থেকেই পরস্পরকে চেনেন ও জানেন, তাই পরস্পরের অনেক দুর্বল জায়গা সম্পর্কেও আপনারা অবহিত। কখনই সেই দূর্বল জায়গাগুলোয় আঘাত করবেন না এবং এ নিয়ে খোঁটা দেবেন না। এতে আপনাদের মাঝে অযথাই দূরত্ব তৈরি হবে।
নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলুন
বিয়ের পর অনেকেই নিজের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। এটা ঠিক নয়, এতে আপনার সঙ্গী হয়ত তার প্রত্যাশার বিপরীত চিত্র দেখে কষ্ট পেতে পারেন। পরস্পরই পরস্পরের জন্য নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলুন, বেছে নিন নতুন কোন হেয়ারস্টাইল বা যেতে পারেন জিমেও। দেখবেন সময়, বয়েস আর ভালোবাসা সবই অদ্ভুত সতেজতায় থেমে আছে আপনাদের চার দেয়ালের ছোট্ট সংসারের ফুলদানীটায়।

8 মন্তব্য